ধর্ম ও জীবন

ধূসর মরুর বুকে রহস্যময় পাহাড় ওয়াদি আল বায়দা

সাঈদ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৩-২০১৯ ইং ০১:১৯:২৯ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত

মসজিদে নববীর উত্তর পশ্চিম দিকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওয়াদি আল বায়দা একটি রহস্যময় পাহাড়। এটাকে ওয়াদি আল জীনও বলা হয়। মদিনার বিস্ময়কর এই উপত্যকা পৃথিবীর দর্শনীয় স্থান সমূহের অন্যতম। হজ্জ ও ওমরার সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ এই স্থানটি আগ্রহভরে দেখেন।
মদিনার বাবুল কুমার থেকে একটি টেক্সি নিয়ে বেশ কিছু খেজুর বাগান পার হয়ে বেলা ৩টায় সেখানে পৌছি। সাথে ছিলেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উসূল আল দ্বীন বিষয়ের ছাত্র জাবের আব্দুল্লাহ। ১৯৬১ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে তার বাবাও সেখানে কলেজ অব শরী’আহ তে ইসলামিক আইন বিষয়ে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ব্যবস্থা ও আনুষাঙ্গিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার বর্ণনা দিয়ে জাবের আব্দুল্লাহ পিতার স্মৃতির সাথে নিজের অভিজ্ঞতার মিশেলে অনেক মজার কাহিনী বলে চলেছেন।
অল্প সময়ে পাহাড় ঘেরা এক সরু পথের প্রবেশ মুখে এসে ড্রাইভার আসলাম সামনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ওয়াদি আল বায়দা এসেগেছি। আমরা গাড়ি থেকে নামতে নামতেই উল্টো দিকে গাড়ি চলতে শুরু করল। আসলাম গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে দিলেও রহস্যজনকভাবে তা আবার চালু হয়ে যায়। তাই গাড়ি নিয়ে সে মদিনার দিকে ফিরে গেল এবং বেশ দূরে এক মাঠে রেখে আমাদের খোঁজ নিতে আসল।
এরই মাঝে আরো অনেকে গাড়ি নিয়ে এসেছেন। আশ্চর্য হলেও সত্য, এই পাহাড়ের কাছে আসা গাড়িগুলো স্বাভাবিক নিয়মের উল্টো ঢালু থেকে ক্রমশ উঁচুর দিকে চলতে থাকে। চালক ডান দিকে ঘুরিয়ে একটা মাঠের দিকে নিয়ে এটি থামাতে হয়। শুধু গাড়ি নয়, বোতল কিংবা পানি ফেললেও তা ঢালুর বিপরীত দিকে গড়াতে থাকে। চোখের সামনে বাস্তবের ঘটনা যেন গল্পকেও হার মানায়।
জাবের আব্দুল্লাহ দেখালেন, এই পাহাড়ের কাছ দিয়ে একটি ছোট খাল বয়ে গেছে। পানি জমা হওয়া ছোট খালকে ওয়াদি বলা হয়। আর পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে যে সড়কটি রয়েছে তাতেই অপার বিস্ময় লুকিয়ে রয়েছে। এই পাহাড় আরবের অন্য পাহাড়ের চেয়ে ভিন্ন। একেবারেই গাছপালাহীন পাহাড়ের ওপর ধারালো ফলা ফলা মাটি দাঁড়িয়ে আছে। কথিত আছে, এই উপত্যকায় জীনরা বসবাস করে। এক সময় নবী মুহাম্মদ (সা.) জীনদের সাথে এখানে বৈঠক করেছেন।
সাম্প্রতিক সফরের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানালেন, সাউদী সরকার গত দশকে ওয়াদি আল বায়দায় একটি বৃহৎ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু এই পাহাড়ের মধ্যখানে হঠাৎ দেখা যায় রাস্তা নির্মাণের যন্ত্রপাতি এমনকি পিচ ঢালাইয়ের ভারী রোলারগুলো আস্তে আস্তে মদিনা শহরের দিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে। কর্মরত শ্রমিকরা তখন ভয় পেয়ে কাজ করতে অস্বীকার করে। ফলে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আধুনিক শিক্ষিতরা অবশ্য একে ‘অভিকর্ষ’ বা চুম্বকীয় বিষয় বলে ধারণা করেন। কেউ কেউ এটাকে এক ধরনের ‘গ্রাভিটি হিল’ বা ‘মেজেস্টিক হিল’ জাতীয় স্থান হিসেবে মনে করছেন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT