সম্পাদকীয়

জাতীয় পাট দিবস আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৩-২০১৯ ইং ০০:৩১:২৩ | সংবাদটি ১৩৩ বার পঠিত


পাট শিল্পের পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে পাট-এর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষে আজ দেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় পাট দিবস। এবার তৃতীয় বারের মতো দিবসটি পালিত হচ্ছে। মূলত পাট শিল্পের পুনরুজ্জীবন ও আধুনিকায়নের ধারা বেগবান করা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচারণার লক্ষে পালিত হচ্ছে এই দিবসটি। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে পাট মন্ত্রণালয়। সরকার বলছে, দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সোনালী আঁশ পাটের সম্ভাবনাগুলো বিকশিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারণের জন্য পাট সংশ্লিষ্ট সব উদ্যোগকে সমন্বিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সব স্টেক হোল্ডার, পাটচাষী, শ্রমিক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের লক্ষে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। এক সময়ের বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশী পাট আগের গৌরবের জায়গায় ফিরে আসবে এই প্রত্যাশাতেই প্রতি বছর আজকের এই দিনে জাতীয় পাট দিবস পালন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পাটকে বলা হয় সোনালী আঁশ। এর অর্থমূল্য বিবেচনা করেই একে সোনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পাট মিশে আছে আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে। অতীতে পাটই ছিলো বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি স্মারক। বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো পাট থেকে তৈরি পণ্য রপ্তানি করে। বৃটিশ আমলে অবিভক্ত বাংলায় পাটের বর্ণময় উজ্জ্বল ও সোনালী অধ্যায় শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কমে গেছে পাটের উৎপাদন। হাতছাড়া হয়ে গেছে পাটের বাজার। পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে। সেই স্থান দখল করে নিয়েছে পলিথিনের ব্যাগ। যে পাট আমাদের আর্থ সামাজিক সংস্কৃতির ভিত্তি ছিলো, সেই পাটের বর্তমান দূরবস্থা সত্যি দুঃখজনক। তবে পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের কদর যে এখন শেষ হয়ে গেছে তা নয়। যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে অনেকে মনে করেন।
আর সাম্প্রতিককালে পাটের ক্রান্তিকাল কেটে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাদের মতে বাংলার পাট আবারও নতুন সম্ভাবনার মুখ দেখছে। গ্রিন ইকোনমি, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ন্যাচারেল ফাইবারের ব্যাপক চাহিদা ও সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে সোনালী আঁেশর এই পুনর্জাগরণ ঘটছে। জানা গেছে, সম্প্রতি দেশে বিদেশে বেড়েছে পাটের চাহিদা। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এর বহুমুখী উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর। তবে এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে- চাহিদা অনুযায়ী পাটের উৎপাদন বাড়ছে না। বেশি দামে পাট রপ্তানীর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। উৎপাদিত পাটে অভ্যন্তরীণ চাহিদাই পূরণ হচ্ছে না; তাই পাট রপ্তানী হচ্ছে না বললেই চলে। সেই সঙ্গে বাড়ছে পাটের দাম। গত প্রায় এক দশক ধরে বিশ্বব্যাপী পাটের চাহিদা বেড়ে চলেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাটের রপ্তানী বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন, পাট নিয়ে গবেষণা, পাটনীতি প্রণয়ন, জুটমিল কর্পোরেশন সংস্কার ও পলিথিনের ওপর ইনকামট্যাক্স আরোপের ফলে অচিরেই পাট স্বগৌরবে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ থেকে প্রায় সোয়াশ বছর আগে (১৮৯০ দশকে) পাট সোনালী আঁশ-এর মর্যাদা লাভ করে। এর পরে দীর্ঘ সময় পাট এদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলো। পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বছরে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ বেল পাট রপ্তানী হতো। কিন্তু স্বাধীনতার পর পাট তার বাণিজ্যিক গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। বন্ধ হয়ে যায় বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান আদমজী জুট মিল। কৃষকরা পাট চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। অথচ আমাদের আবহাওয়া-মাটি পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ও পাটের বাজার সৃষ্টি হলে কৃষকরা পাটচাষে আবার পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে আসবে। অবশ্য ইদানিং পাট চাষে আবার এগিয়ে আসতে শুরু করেছে চাষীরা। গবেষণার মাধ্যমে পাটের উন্নত জাত আবিষ্কৃত হয়েছে। পাট পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর জন্যও নেয়া হয়েছে উদ্যোগ। বেশ কিছু পণ্যের মোড়কে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় পাট দিবস পালনের মাধ্যমে পাটের অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করছি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT