সম্পাদকীয়

বদলে যাচ্ছে ডাক বিভাগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৩-২০১৯ ইং ০০:২৯:৫৭ | সংবাদটি ১০৩ বার পঠিত


বদলে যাচ্ছে ডাক বিভাগ। ঐতিহ্যবাহী এই সরকারী প্রতিষ্ঠানটির সেবার ধরণ পাল্টে যাচ্ছে। নানা ধরনের সেবা চালুর মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে ডাকঘর। সর্বশেষ পরিকল্পনাটি হচ্ছে ই-কমার্স পণ্য ডেলিভারি। দেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসার সুযোগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের জন্য এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনলাইন বিজনেস সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী করতে ডাক বিভাগের এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জানা গেছে, ডাক বিভাগ প্রতিদিন সারা দেশে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মের প্রায় পাঁচশ; পণ্য ডেলিভারি দিয়ে থাকে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দৈনিক ডেলিভারিকৃত পণ্যের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। তারা মনে করছেন এই সেবা ডাক বিভাগের আয়ের অন্যতম উৎস হতে পারে। ই-কমার্স এসোসিয়েশন ও ডাক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ই-কমার্স পণ্য সারাদেশে ডেলিভারি দেয়া হবে।
বৃটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ডাক বিভাগের বয়স এখন প্রায় দু’শ বছর। ‘সেবাই আদর্শ’-এই শ্লোগানে প্রতিষ্ঠিত ডাক বিভাগ যোগাযোগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিলো দীর্ঘদিন। দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বিদেশের সঙ্গে চিঠিপত্র, অর্থসহ বিভিন্ন পণ্য আদান-প্রদানে ডাক বিভাগের জুড়ি ছিলো না। গ্রামে-গঞ্জে-শহরে ডাক বিভাগের জনপ্রিয়তা ছিলো আকাশচুম্বি। কিন্তু সেই দিন এখন আর নেই। এখন আর নিকটজনের চিঠির অপেক্ষায় প্রহর গুণে না কেউ। খাকি ব্যাগ কাধে নিয়ে ডাক হরকরার গ্রামের পথে ছুটে চলার দৃশ্য এখন আর চোখে পড়েনা। প্রিয়জনকে এখন আর কেউ চিঠি লেখে না। যোগাযোগের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চাপে হিমশিম খাচ্ছে ডাক বিভাগ। তারপরেও সরকার এই প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য নানা ধরনের চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে ডাক বিভাগকে সময়োপযোগী ও আধুনিকায়ন করা। এর আওতায় দেশের জীর্ণ ডাকঘরগুলো সংস্কার করা হচ্ছে, নির্মিত হচ্ছে নতুন ভবন। ইতোপূর্বে ‘নগদ’ নামে অর্থ আদান প্রদানের একটি স্কিম চালু হয়। যা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তাছাড়া গ্রামাঞ্চলের ডাকঘরগুলোকে ‘ই-সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তরিত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের সেবাও পরিবর্তিত হবে, এটাই স্বাভাবিক। ডাক বিভাগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সেই সঙ্গে প্রচলিত সেবাগুলো যাতে মানুষ নির্বিঘেœ লাভ করতে পারে সেদিকে নজর দেয়া জরুরি। ডাক জীবন বীমা বা ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক-এর সেবা পেতে প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হন গ্রাহকেরা। এইসব সেবা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন জরুরি। গ্রাম পর্যায়ে ডাকঘরগুলোতে স্থায়ী জনবল নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। সর্বোপরি সরকার ও ডাক কর্মকর্তা-কর্মচারীর আন্তরিক প্রচেষ্টাই টিকিয়ে রাখতে পারে এই প্রতিষ্ঠানটিকে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT