সম্পাদকীয় আদর্শবান লোকদের বন্ধুর সংখ্যা কম থাকে। - ডগলাস জেরল্ড

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৩-২০১৯ ইং ০০:২৮:৩৪ | সংবাদটি ১৫৫ বার পঠিত

আজ আটই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনেই নারীরা আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হয়, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে ওঠে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস একতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে বিশ্বের সকল নারীকে একত্রিত করে। আমাদের সংবিধানও স্বীকৃতি দিয়েছে নারী অধিকারকে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে চিহ্নিত করা হয়েছে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে। আর এতে বলা হয়েছে-সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন। অর্থাৎ সংবিধানেই নারীর প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এই দিনটিকে মূলত নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক নানা অধিকার অর্জনের দিন বলেই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গত শতাব্দীর (১৯০০) গোড়া থেকে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। তবে ১৯৭৫ সালে দিনটিকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়ে সারা বিশ্বে পালনের আহবান জানায়।
যখন পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস, তখন আমাদের দেশের নারীদের অবস্থা কী, সেটা দেখা দরকার। যে প্রেক্ষাপটে সৃষ্টি হয়েছে এই আন্তর্জাতিক নারী দিবস সেটা হলো নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের উপযুক্ত মর্যাদা দেয়া। এই ব্যাপারে আমরা কোন অবস্থায় আছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের দেশে নারী অধিকার নিয়ে হচ্ছে আন্দোলন। অতীতেও হয়েছে। নারী অধিকার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন হবে আগামীতেও। আসল কথা হলো, নারীরা বঞ্চিত চাকুরীর ক্ষেত্রে, বেতন মজুরির ক্ষেত্রে। দেশে বেকারের সংখ্যা তিন কোটির ওপরে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। নারীদের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও তাদের কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে উদাসীন কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দু’লাখ মেয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে বের হচ্ছে। এদের তেমন কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে। কোন কোন সেক্টরে মেয়েদের কিছু কাজের ব্যবস্থা হলেও বেতন বৈষম্য এবং অনুকূল পরিবেশের অভাবে মেয়েরা চাকুরি করতে পারছেনা।
সমাজের সকল স্তরেই নারীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। সরকারসহ বিভিন্ন এনজিও নারীদের অধিকারের ব্যাপারে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের দেয়া হচ্ছে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। তারা বিনা বেতনে লেখাপড়া করতে পারছে। সেই সঙ্গে পাচ্ছে বৃত্তিও। তারপরেও মেয়েদের লেখাপড়ার হার বাড়ছে না প্রত্যাশিতভাবে। যারা মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে লেখাপড়া করেছে তারাও পাচ্ছেনা উপযুক্ত চাকুরী। বছরে কমপক্ষে তিন হাজার মেয়ে বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ থেকে বেরিয়ে আসছে চিকিৎসক হয়ে। এদের শতকরা তিনজনও পাচ্ছে না সরকারি চাকুরি। অর্থাৎ শিক্ষিত মেয়েদেরও চাকুরির নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে, সরকারি খাতে আনুপাতিকহারে খুব কম মেয়েই চাকুরি করছে। অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত কোটি কোটি মেয়ের মধ্যে ৯০ ভাগই বেকার। আর যারাও শ্রম দিচ্ছে বিভিন্ন পেশায় তারা কর্মক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের জন্য রয়েছে মানসিক, দৈহিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, বেতন-বৈষম্য ইত্যাদি।
সর্বোপরি, আবহমান বাংলার নারীরা পরিবারে, সমাজে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে আছে যৌতুক। [যৌতুকের কারণে কতো নারীর জীবনে যে নেমে এসেছে অমানিশা, তার হিসাব নেই। এছাড়াও রয়েছে আরও নানা ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়ন। এই প্রসঙ্গে অত্যন্ত অপ্রিয় একটি কথা। নারীরা জন্মের আগেই যেন বঞ্চনার শিকার-বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অনেক পরিবারে মেয়ে শিশুর জন্মই যেন একটা অভিশাপ। সন্তান জন্ম দেয় যে মা, সে একজন মেয়ে হয়েও চায় তার গর্ভে যেন মেয়ের জন্ম না হয়। অনেক দম্পতি একটি ছেলে সন্তানের আশায় একের পর এক মেয়ের জন্ম দিচ্ছে। ছেলের জন্ম দিতে না পারার ‘অপরাধে’ অনেক গৃহবধূকে স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। এতো সব নোংরা মানসিকতা ও আচরণ যে সমাজে বিদ্যমান, সেখানে নারীর অধিকার বা মর্যাদা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। তবুও এই মানসিকতার পরিবর্তন হোক। আজকের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।]

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT