সম্পাদকীয়

আত্মহত্যা প্রতিরোধে নীতিমালা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৩-২০১৯ ইং ০০:২৮:৪৭ | সংবাদটি ৩৪ বার পঠিত


এবার আসছে আত্মহত্যা প্রতিরোধে নীতিমালা। উচ্চতর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হচ্ছে এই নীতিমালা। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাউন্সিলিং সেবা প্রদান করতে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রাজধানীতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশনার আলোকে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে গঠিত হয়েছে একটি কমিটি। শিগগীরই এই কমিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুইসাইড বুলিংসহ যেকোন ধরনের ইনজুরি প্রতিরোধ ও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে কাউন্সিলিং সেবা প্রদান সংক্রান্ত একটি জাতীয় নীতিমালার খসড়া মতামতসহ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে। বিশেষ করে শিশু কিশোর আত্মহত্যা প্রতিরোধে এই নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে। খবরটি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয় সম্প্রতি।
শিশু কিশোর ছাড়াও সব বয়সের মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। এটা রীতিমতো একটা সামাজিক ব্যাধি। সারা দেশেই ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। জানা গেছে, প্রতি বছর গড়ে দশ হাজার মানুষ বিষ খেয়ে বা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করছে। আর দিন দিন বাড়ছে এই প্রবণতা। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকেরা। এই বিষয়ে চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীদের অভিমত, হতাশাই হচ্ছে আত্মহত্যার মূল কারণ। হতাশাগ্রস্ত মানুষের মনে সমাজ সম্পর্কে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সে হয়ে পড়ে জনবিচ্ছিন্ন। নিজেকে এই সমাজে অপাংক্তেয় মনে হয় এবং বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। এটি এক ধরনের মানসিক রোগ। জগৎ সংসারে হাসি খুশি সুখ-দুঃখ আর কর্ম নিয়ে বেঁচে আছে মানুষ। এটা হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে বা থাকতে পারে অনেক না শোনা গল্প, না দেখা ঘটনা। হয় তো মানুষের অজান্তে-অগোচরে ঘটে চলেছে এইসব কিছু। কিন্তু তারা নিজেই তা জানে না, বুঝে না। সময়ের ব্যবধানে সেইসব ঘটনা প্রবাহে মানুষের নিজের কাছে নিজেকে অচেনা মনে হয়। নিজেকে মনে হয় অর্থহীন। নিজের ওপর বিরক্তি নেমে আসে। আর এরই পরিণতি হচ্ছে আত্মহত্যা। এই প্রবণতা অতীতেও ছিলো, আছে এখনও। তবে অতীতে আত্মহত্যার ঘটনা শোনা যেতো কস্মিনকালে একটি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বেড়ে গেছে আত্মহত্যার প্রবণতা।
সামাজিক সচেতনতা এবং চিকিৎসার মাধ্যমে এই প্রবণতা দূর করা যায়। বিশেষজ্ঞগণ আত্মহত্যার জন্য অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ মানসিক রোগ হিসেবে বিষণœতাকে চিহ্নিত করেছেন। বিষণœতায় আক্রান্ত ১৫ শতাংশই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। সবচেয়ে বড় কথা, যারা আত্মহত্যা করে, তারা হয়তো আপাতদৃষ্টে জীবন যন্ত্রণা থেকে বেঁচে যাচ্ছে, তবে আত্মহত্যার পর পরিবার এবং সমাজে এর সুদূর প্রসারী বিরূপ মানসিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া থেকে যায়। এ ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি। এটি নিশ্চিত হলে আত্মহত্যার প্রবণতা কমে আসবে। সর্বোপরি প্রয়োজন অভিভাবকদের সচেতনতা। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি থাকায় এই বয়সের ছেলেমেয়েদের মানসিক চাপ বিষণœতা রোধে সতর্ক থাকতে হবে সকলকে। এক্ষেত্রে সরকার যে নীতিমালা করতে যাচ্ছে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই আমরা মনে করি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT