সম্পাদকীয়

প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৩-২০১৯ ইং ০১:৩৯:৫৪ | সংবাদটি ১৭০ বার পঠিত


প্রাথমিক শিক্ষায় বিরাজ করছে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি। ফলে এই খাতে কাক্সিক্ষত মান ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু প্রাথমিক স্তর নয়, অন্যান্য সকল স্তরেই শিক্ষার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নেই। আছে অনিয়ম-দুর্নীতি। অথচ শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। একজন মানুষ প্রাথমিক পর্যায়ে সুশিক্ষা অর্জন করলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে তার পরবর্তী জীবনে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে। প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায়। প্রাথমিক শিক্ষাও এর বাইরে নয়। এই ঘটনাই প্রমাণ করছে আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই আজ কোন পর্যায়ে এসেছে। আর এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষাকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এর জন্য দরকার এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই আজ থেকে দেশে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ।
বিশেষজ্ঞদের মতে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। এর মধ্যে রয়েছে- কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শিক্ষক প্রশিক্ষণে অনিয়ম, বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও নিবন্ধনে দুর্নীতি, ঘুষের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, বদলি ও এমপিওভুক্তিতে অনিয়ম, উপজেলা শিক্ষা অফিসে দুর্নীতি, শিক্ষকদের অবসরগ্রহণ ও পাওনা বুঝে পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। এছাড়া শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফি বা চাঁদা গ্রহণ, উপবৃত্তি বিতরণে অনিয়ম, শিখন সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়ম ইত্যাদি বিরাজ করছে বিদ্যালয় পর্যায়ে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে এই খাতটি সরকারের বিশেষ মনোযোগ পাওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সমস্যা এ খাতের উন্নয়নকে ব্যাহত করছে। এইসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে- শিক্ষক স্বল্পতা, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া, শ্রেণিকক্ষের ধারণ ক্ষমতার বেশি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের অদক্ষতা। দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধানত দুই স্তরের বিদ্যালয় রয়েছে। একটি হচ্ছে সরকারি এবং আরেকটি হচ্ছে বেসরকারি বা কিন্ডার গার্টেন স্কুল। কিন্ডার গার্টেন নামের বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠেছে দেশের শহর কিংবা গ্রাম পর্যায়ে। মূলত অবস্থা সম্পন্ন পরিবারের সন্তানেরাই ব্যয়বহুল এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখা পড়া করছে। এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে; তবে সমাজের সাধারণ মধ্যবিত্ত নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের লাখ লাখ শিশু যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে, সেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা সবচেয়ে করুণ। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে প্রাথমিক শিক্ষাকে করা হয় জাতীয়করণ, ১৯৯০ সালে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। পরে শিক্ষার জন্য খাদ্য এবং উপবৃত্তি প্রকল্প চালু হয়। আর বিনামূল্যে বই প্রদান কর্মসূচিতো আছেই। কিন্তু তারপরেও এই খাতের অগ্রগতি হয় নি।
প্রাথমিক শিক্ষাকে একটি কার্যকর, গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক খাত হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কিছু সময়োপযোগী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আসল কথা হলো, প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শিশুদের কাছে আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। এর জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি খেলাধুলার সামগ্রীর ব্যবস্থা করতে হবে। তার চেয়ে জরুরি দক্ষ শিক্ষক। এক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক, ইউনিয়ন ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের চিন্তা করা যায়। শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং তারা যাতে ন্যূনতম প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আর তার জন্য শিক্ষকদের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বাড়ি পরিদর্শনের কার্যক্রমটি পুনরায় চালু করতে হবে। এই সবকিছুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সার্বিকভাবে বিরাজিত সব অনিয়ম-দুর্নীতির অবসান ঘটানো জরুরি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT