উপ সম্পাদকীয়

মাতৃভাষা ও বাংলা বানান নিয়ে কথা

অহিদুর রব প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৩-২০১৯ ইং ০০:১২:১৪ | সংবাদটি ১৫৬ বার পঠিত

ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখ এমসি কলেজের আলোচনা সভায় ‘মাতৃভাষা’, ‘নাগরিক ভাষা’ ও ‘বাংলা বানান’ নিয়ে ‘ফতোয়াবাজি’ সম্পর্কে কিছু কথা বলেছিলাম। লক্ষ্য করলাম, বিদগ্ধ শ্রোতাদের মধ্যে সহমতের পাশাপাশি ভিন্নমতও আছে। অনেকে অনুরোধ করলেন লেখার জন্য। তাই আজকের এই প্রয়াস।
মাতৃভাষা ও নাগরিক ভাষা : শিশু মায়ের মুখ থেকে শুনে যে ভাষা শেখে, তা-ই হলো তার মাতৃভাষা। আক্ষরিক অর্থে একথা প্রযোজ্য নয়। যে শিশুর মা জন্মের সময় মারা গেলেন, বেঁচে থাকলো শিশুটি, সে-ও তো ভাষা শিখে। পরিবার ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে মানুষ যে ভাষা শেখে বৃহত্তর অর্থে বা পারিভাষিক অর্থে সেটাই তার মাতৃভাষা। ভাষার শব্দমূল বা ধাতু ‘ভাষ্’-মানে ‘কথা বলা’। মানুষের মুখের কথা লিখিতভাবে প্রকাশ করা খুব কঠিন, অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব। যেমন, সিলেটি ‘কউকা’ (বলুন), এখানে ‘ক’ বা ‘খ’ কোনটাই প্রযোজ্য নয়। উচ্চারণটা মাঝামাঝি। ‘হে-এ-এ’-যে শব্দটির কথা এখানে বলতে চাচ্ছি। তা বানান করে উচ্চারণ অসম্ভব। মাঝখানে আরবী ‘আইন’কে হস্ চিহ্ন দিয়ে বসালে কিছুটা পরিষ্কার হবে। অনেকে বলেন, অমুক ‘শুদ্ধ ভাষায় কথা বলে’। একথাও অশুদ্ধ। ভাষা কখনো অশুদ্ধ হয় না, মানুষের মুখের ভাষা অশুদ্ধ হতে পারেনা। এই যে, ‘শুদ্ধ’-ভাষার কথা বলা হয়। তাহলো মাতৃভাষার ‘নাগরিক রূপ’, যাকে সাহিত্যের ভাষাও বলা যেতে পারে। মাতৃভাষার ‘নাগরিক রূপ’ ‘সাহিত্যরূপ’ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু তা মূল মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা বা অস্বীকার করে নয়। একুশের (২০১৯ এর) আলোচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আঞ্চলিক ভাষার চর্চা না করলে বাংলা ভাষার অস্তিত্ব থাকবে না।’
আমাদের ভাষা শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে জাতিসংঘ বলেছে, প্রতিটি নৃ-গোষ্ঠী যেন তাদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করতে পারে, তার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। এ থেকে অনুধাবন করা যায়, ‘নাগরিক ভাষা’ ও প্রকৃত মাতৃভাষার মধ্যে পার্থক্য আছে।
আজকাল সিলেটি অনেক ‘নাগরিক’কে বলতে শুনি, ‘সিলেটি হাছরি যাইবো’ তাই বাচ্চাদের সাথে ‘সিলেটি ভাষায়’ কথা বলিনা।’ এই মনোভাবকে আত্মপ্রতারণা ছাড়া আর কী বলা যায়? কেউ যেনো, এই ভুল না বুঝেন। মাতৃভাষার কথা বলে প্রমিত বানান ও উচ্চারণে নাগরিক ও সাহিত্যের ভাষার উৎকর্ষ সাধন ও চর্চার বিরোধীতা করা হচ্ছে। অনার্স পরীক্ষার সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দাঁতভাঙ্গা প্রশ্ন দেখে প্রথমে ‘ভড়কে’ গিয়েছিলাম। ভাগ্যিস প্রশ্নের ইংরেজি অনুবাদ ছিলো, তাই ‘অভিজন অভ্যাগম আলোচনা করো।’-এর মানে বুঝেছিলাম ‘এলিট তত্ত্ব’ আলোচনা করতে হবে।
বাংলা বানান ঃ বাংলা ভাষায় বর্ণমালা ৫০টি। ইংরেজিতে ২৬টি। ইংরেজি ২৬টি বর্ণ মানে ২৬টি, এর বেশি নয়। কিন্তু, বাংলায় হরেক রকম যুক্তবর্ণের কারণে বাংলা বর্ণমালা ৯৭৩ রকম রূপ ধারণ করে। তাই, বাংলাভাষার লিখিত রূপ সুকঠিন। এই কাঠিন্যকে বজ্রকঠিন করেছে আমাদের মানসিকতা তথা ‘পন্ডিতিপনা’। ই-কার ()ি, ঈ-কার (ী), উ-কার ( ু), ঊ-কার ( ূ), ং, ঙ, বিসর্গ, চন্দ্রবিন্দু, জ, য, র, ড়, ঢ়, ন, ণ, ষ, স, শ, ত, ৎ, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, ত্ত, ত্ত্ব, ত্ব, ত্য প্রভৃতির প্রয়োগ বাংলা বানানকে করেছে দুর্বোধ্য। মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে বানান নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ‘ফতোয়াবাজি’। প্রমিত নিয়মে ‘শহীদ’কে নাকি ‘শহিদ’, ‘ঈদ’কে নাকি ‘ইদ’ লিখতে হবে। ইসলামী কোন পরিভাষায় এক-আলিফ লম্বা হলে তা হ্রস্ব-ইকার ()ি দিয়ে প্রকাশ করা বেমানান এবং ঐ শব্দের মাহাত্ম্যকে তাচ্ছিল্য করার নামান্তর।
বিশেষজ্ঞদের মনে রাখতে হবে, মানুষ অভিধান সামনে নিয়ে লিখতে বসেনা। বাংলা বানান নিয়ে সাম্প্রতিক বাড়াবাড়ি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক, ব্রিটেন প্রবাসী ভাষাবিজ্ঞানী ড. গোলাম মুরশিদ তার ‘বানান বিভ্রান্তি’ শীর্ষক লেখায় চমৎকার আলোচনা করেছেন। এখানে তার চুম্বক অংশ উদ্ধৃত করছি : ‘বানান মানুষ শেখে দেখে দেখে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একটা ভাষায় বানানের একটা ঐতিহ্য গড়ে ওঠে। তাতে কোন কোন বানানকে অযৌক্তিক মনে হতে পারে। .... যেমন ‘পানি’ কথাটা এসেছে ‘পানীয়’ শব্দ থেকে। এক্ষেত্রে ‘পানি’ শব্দের বানান ‘পানী’ হলে সে বানানটাকে বেশি যুক্তিযুক্ত মনে হতো। হিন্দিতে ‘পানী-ই’ লেখে। কিন্তু বাংলায় আমরা মূল বানান একটু বদলে ‘পানি’ লিখি। কিন্তু তাই বলে ‘পানি’ বানানটা অশুদ্ধ নয়। কয়েকশ বছর ধরে প্রচলিত থাকায় বাংলা ভাষায় ‘পানি’ই প্রামাণ্য বানানে পরিণত হয়েছে। ... সত্যিকার অর্থে বানানের কোনো শুদ্ধ-অশুদ্ধ নেই। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শব্দগুলো লিখতে লিখতে যে-বানানগুলো গৃহীত হয়, সেটাই সেই ভাষার শুদ্ধ বানান। আর, সেই বানানের সঙ্গে আমাদের চোখ অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাই, ইংরেজিতে Laugh’ লিখলে শেষের oh অক্ষর দুটোর উচ্চারণ হয় ‘ফ’। কিন্তু Ghost কথাটা লিখলে gh এর উচ্চারণ হয় ‘গ’। আর Daughter লিখলে gh এর কোনো উচ্চারণ হয়না। ... আমাদের চোখ বানানের নিয়ম জানেনা, কিন্তু শব্দের আকৃতি সম্পর্কে তার একটা মোটামুটি ধারণা আছে। সেই ধারণার সঙ্গে না মিললে চোখ বুঝতে পারে অক্ষরগুলোর মধ্যে কোথাও একটা গরমিল আছে। কাজেই বাংলায় ‘পানী’ লিখলে পাঠকের চোখে সেটাকে ভুলি বলে মনে হবে।’
আকৃতি ছাড়া বানান মনে রাখার আর একটা উপায় হলো সাদৃশ্য। একটা শব্দের সাদৃশ্য থেকে লেখক আর-একটা শব্দ লেখেন। এতদিন ধরে বানানটা ছিল ‘সরকারী’। কিন্তু এটাকে ‘সরকারি’ লিখলেও তা শুদ্ধ হবে বলে বাংলা একাডেমি বিধান দিয়েছে। বাংলা একাডেমির পন্ডিতবর্গের যুক্তি হলো : এটা বিদেশী শব্দ, এ শব্দের বেলায় সংস্কৃত নিয়ম খাটবেনা। .... বানান সংস্কারের সুপারিশ করেছেন, যে পন্ডিতবর্গ, তাঁরা অবশ্য ‘সরকারি’ লিখলে যে-বিপদ হতে পারে, সেটা বিবেচনা করেননি। তার ফল ফলেছে হাতেনাতে। সাদৃশ্যকাত সাধারণ মানুষ অনেকে ‘সরকারি’ শব্দের সাদৃশ্যে ‘সহকারী’ কথাটাকেও ‘সহকারি’ লিখতে শুরু করেছেন। ... বাংলা একাডেমির বিধান অনুযায়ী এ বানানটা কিন্তু ভুল। ভুল কারণ ‘সরকারী’ কথাটা বাংলা নয়, ‘ফারসী’। অপরপক্ষে ‘সহকারী’ শব্দটা সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। তাই বাংলা একাডেমি বলেনি যে, ‘সরকারী’র সঙ্গে সাদৃশ্য আছে বলে ‘সহকারি’র দীর্ঘ ঈ-কারটাকে হ্রস্ব ই-কার লেখা যাবে অর্থাৎ ‘সহকারি’ লেখা যাবে। অথবা ‘কর্মচারী’ শব্দটাকে লেখা যাবে ‘কর্মচারি’। ‘সহকারী’, ‘কর্মচারী, সহযোগী, সহকর্মী-এ শব্দগুলো সংস্কৃত ভাষার। সুতরাং এ শব্দগুলোর শেষে দীর্ঘ ঈ-কার লিখতে হবে।’
এটা অবশ্যই মনে রাখা দরকার যে সবাই বাংলা একাডেমির বানান কমিটির বিশেষজ্ঞ নন। তাই কোন্ শব্দটা ‘দেশী’, কোনটা ‘বিদেশী’-এটা সাধারণ মানুষের জানার কথা নয়। বাংলা একাডেমির বিশেষজ্ঞরা কি চান যে, দেশের কোটি কোটি লোক ব্যাকরণ শিখে তারপর বাংলা লিখবেন? ... ভাষা শুধু ব্যাকরণ জানা পন্ডিতদের জন্যে নয়, ভাষা সবার। শুদ্ধ বানানা লেখার জন্যে কাউকে ব্যাকরণ শিখতে বাধ্য করার কোন অধিকার কারও নেই। ... বহু শতাব্দী ধরে বাংলা শব্দাবলির যে বানান তৈরি হয়েছে, সেই বানানেই সবার লেখার অধিকার আছে, সেই বানানেই সবার লেখার কথা।
... ১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বানান কমিটি এই অনিয়মকেই নিয়মে পরিণত করেন। একবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কারের বিধি চালু করার পর যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাধর যেমন : বাংলা একাডেমি, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, আনন্দবাজার গোষ্ঠী, প্রথম আলো প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান বাংলা বানানে সাজানো বাগানে সই দিতে শুরু করলো।-এসব প্রতিষ্ঠানকে এ ক্ষমতা কেউ দেয়নি। তাদের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপের ফলে আজ দেখা দিয়েছে ‘সহকারি কর্মচারি’ এবং অদূর ভবিষ্যতে দেখা দেবেন তাঁর ‘সহযোগি সহকর্মি’। এই ক্ষমবর্ধমান নৈরাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিচের মোদ্দা কথাগুলো ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি।
ক্স দেশের সাধারণ শিক্ষিত লোকেরা কি একটা শব্দ দেখে সেটাকে সংস্কৃত, আধা-সংস্কৃত, সংস্কৃত থেকে আগত, দেশি অথবা বিদেশি শব্দ বলে চিনতে পারেন?
ক্স দেশের তাবৎ শিক্ষিত লোকেরা কি ব্যাকরণ জানেন অথবা এখন নতুন করে শিখবেন?
ক্স সবাইকে ব্যাকরণ শেখানো কি সম্ভব?
ক্স যদি সম্ভব না হয়, তাহলে তারা কীভাবে জানবেন নতুন নিয়ম অনুসারে কোন বানানটা সঠিক, কোনটা ভুল?
ক্স ‘শ্রেণী’কে ‘শ্রেণি’ লিখে কার কী লাভ হবে? এর ফলে কি বিভ্রান্তি বাড়বে না?
ক্স সাধারণ শিক্ষিত লোকেরা কি জানেন কোন কোন সংস্কৃত শব্দের বেলায় দীর্ঘ স্বর না লিখে হ্রস্ব দিলেও গ্রহণযোগ্য হবে?
ইংরেজি বানান বাংলা বানানের তুলনায় ঢের অযৌক্তিক। তাই নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ তাঁর টাকা পয়সা উইল করে রেখে গিয়েছিলেন অবৈজ্ঞানিক ইংরেজি বানান সংস্কারের উদ্দেশ্যে। তার মৃত্যুর পর ষাট বছর চলে গেছে, তা সত্ত্বেও একটি শব্দের বানানও বদলায়নি। ... আমার দৃঢ় বিশ্বাস বানান সংস্কারের আত্মঘাতী সুপারিশও সফল হবেনা। কেবল লোকের দুর্বল বানান-জ্ঞান আরও নড়বড়ে হবে। তাই আমার প্রস্তাব হলো : বানানের যে ঐতিহ্য এতকাল ধরে গড়ে উঠেছে, সেটাই বজায় থাকুক, ভাষা চলুক নদীর মতো, তার আপন পথে।
এই লেখা শেষ করার আগে আবারও বলি, যারা মাতৃভাষার ‘নাগরিক রূপ’ ও প্রমিত উচ্চারণ নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন তাদের ভেবে দেখা দরকার, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের যে ভাষণ পৃথিবীর অন্যতম সেরা এবং বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হলো, সেই ভাষণে তিনি উচ্চারণ করেন, গদিতে বসতে পারিনি’, ‘বলে দিবার চাই’, ‘আমি যদি হুমুক দিবার নাও পারি’, ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবানা’-প্রভৃতি মাটির ঘ্রাণ মেশানো শব্দ ও বাক্য। আর বানান সংস্কার সম্পর্কে বলতে চাই, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-সুরমার গতিপথ যেমন জোর করে বদলানো যাবেনা, তেমনি জোর করে ‘বানানের’ ফতোয়াও চাপিয়ে দেয়া যাবে না।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, এমসি কলেজ, সিলেট।

 

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মাটির ক্ষয়রোধে গাছ গাছড়ার অবদান
  • কেউ শোনে না কৃষকের কথা
  • সমাপ্তিতেই শান্তি
  • প্রবাসীদের কথা ভাবুন
  • সৃজনশীলতার জন্য সৃজনশীলতা
  • স্টার্টআপ ফান্ড : শিল্পায়ন গড়ার আশার আলো
  • আসুন বই পড়ি
  • ভারতের লোকসভা নির্বাচন এবং একটি কবিতা
  • ভেজালের ছড়াছড়ি
  • মুরসির অগ্রহণযোগ্য মৃত্যু
  • বাজেটের ভালোমন্দ
  • আওয়ামীলীগের গৌরবময় ৭০ বছর
  • উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নিচ্ছে?
  • শান্তির কপোতের অপেক্ষায়
  • যানজট : লোকসান আর ভোগান্তির চিত্র
  • শব্দদূষণ রোধে এগিয়ে আসুন
  • খাদ্যে ভেজালকারীদের নির্মূল করতেই হবে
  • বাংলাদেশের গৃহায়ন সমস্যা
  • বৃদ্ধাশ্রম নয় বৃদ্ধালয়
  • ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি
  • Developed by: Sparkle IT