সম্পাদকীয় কেন তোমরা তা বলো, যা করোনা। -আল হাদিস।

ক্রতা অধিকার দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৩-২০১৯ ইং ০১:১৮:৩৬ | সংবাদটি ৯২ বার পঠিত

আজ বিশ্ব ক্রেতা অধিকার দিবস। ভোক্তা বা ক্রেতাদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি। আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যে এখন রীতিমতো ‘দুর্বৃত্তপনা’ চলছে। এখানে যেন কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের অধিকার ভুলুন্ঠিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিনা কারণে মূল্যবৃদ্ধির খড়গতো আছেই। অনেক সময়ই মুক্তবাজার অর্থনীতি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি দোহাই দিয়ে ক্রেতা-ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির জগদ্দল পাথর চাপানো হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্র। ক্ষুন্ন হচ্ছে ক্রেতা বা ভোক্তাদের অধিকার। এই প্রেক্ষাপটে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্রেতা অধিকার দিবস।
ক্রেতা-ভোক্তারা বরাবরই মূল্যবৃদ্ধিসহ অন্যান্য যন্ত্রণার শিকার। এর মধ্যে ভেজাল ও নি¤œমানের পণ্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বলা যায়, ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্যে বাজার সয়লাব। ক্রেতাদের বাধ্য হয়েই অনেক সময় এগুলো কিনতে হচ্ছে। অপরদিকে কৃষি পণ্যসহ যে কোন ধরণের পণ্যের উৎপাদন খরচ থেকে খুচরা বিক্রয়মূল্য বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে। অনেক সময় পাইকারি বাজারের দামের চেয়ে খুচরা বাজারের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর কারণ হচ্ছে বিভিন্ন হাত ঘুরে পণ্য আসে সাধারণ ক্রেতাদের হাতে। এই মধ্যস্বত্বভোগীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে ও তারাই লাভবান হচ্ছে বেশী। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদনকারীরা। তারা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। খুচরা ক্রেতারাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাদেরকে অধিক মূল্যে কিনতে হচ্ছে পণ্য। ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের দেশে আইন রয়েছে। ‘ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ আইন’ নামের এই আইনটি পাস হয় ১৯৬৪ সালে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সংসদে ‘ইস্ট ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল প্রডিউস মার্কেটস রেজুলেশন’ নামে এটি পাস হয়। ১৯৮৫ সালে আইনটি সংশোধন করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি গেজেট প্রকাশিত হয়। আইনটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারণে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে এই আইনে। আইন অনুযায়ী বাজারের দেখভাল করার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি থাকা এবং সরকার অনুমোদিত পণ্যমূল্য সরকারী গেজেটের মাধ্যমে সর্বসাধারণকে জানিয়ে দেয়ার কথা; এই মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে পণ্য বিক্রি হবে আইনের লঙ্ঘন।
বিভিন্ন ধরণের পণ্যের পাশাপাশি নানান সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও জনগণ প্রতারিত হচ্ছে বছরের পর বছর। দেশের ৯০ ভাগ মানুষই এভাবে প্রতারিত হচ্ছে, হয়রানির শিকার হচ্ছে অথচ তারা কিছুই বলছে না। মানে তারা জানে না যে, ভোক্তা হিসেবে তাদের একটা অধিকার রয়েছে এবং এই অধিকার আদায়ে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারে। সুতরাং এ ব্যাপারে তাদেরকে সজাগ করে তুলতে হবে। ভোক্তারা সচেতন হলে তারা প্রতিবাদ করবে। সর্বোপরি বিক্রেতা বা বিভিন্ন সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে ভোক্তাদেরকে প্রতারিত করার মনোবৃত্তি পরিহার করতে হবে। সেই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সব ক্ষেত্রে ভোক্তাদেরই নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগী হতে হবে। বিশ্ব ক্রেতা অধিকার দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT