উপ সম্পাদকীয়

বিশ্ব নিদ্রা দিবস

ডা. নূরুল হুদা নাঈম প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৩-২০১৯ ইং ০১:১৯:৪৬ | সংবাদটি ৩০ বার পঠিত

আজ ১৫ মার্চ, ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে বা বিশ্ব নিদ্রা দিবস। প্রতি বছর মার্চ মাসের তৃতীয় শুক্রবার দিবসটি পালন করা হয়। ২০০৮ সালে প্রথমবার এই দিনটি পালন করে ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিন’ এর ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে কমিটি। এই কমিটির মূল উদ্দেশ্যে, ঘুমের অভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বিষয়ে মানুষকে জানানো। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, ‘ঐবধষঃযু ংষববঢ়, ঐবধষঃযু অমরহম’। প্রতি রাতেই ৮ ঘন্টা করে ঘুমানোর পরামর্শ দেন গবেষকরা। শরীরে ভিটামিন ‘ডি' পাওয়ার জন্য ৬ থেকে ৮ মিনিট রোদে থাকা আবশ্যক। কারণ সূর্যের আলো দেহঘড়ি ঠিক রাখে। কম মাত্রার ভিটামিন ডি' এর কারণে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, ক্যান্সার ও অস্টিওপোরোসিস হতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, ভালো ঘুমের সঙ্গে স্মৃতিশক্তির বেশ নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। সাধারণত বৃদ্ধ বয়সে স্বাভাবিকভাবেই স্মৃতিশক্তি লোপ পায়, মানসিক দুর্বলতাও তৈরি হয়। তাই শেষ বয়সে অনেকেরই অনিদ্রা সমস্যা দেখা দেয়। মধ্যবয়সে একজন মানুষ নিয়ম মেনে ঘুমালে তার সুফল বৃদ্ধ বয়সেও পেতে পারেন।
ভালো থাকতে যা করণীয় এবং বর্জনীয় :
তিনিই তোমাদের জন্য রাত্রিকে করেছেন আবরণস্বরূপ, বিশ্রামের জন্য তোমাদের দিয়ছেন নিদ্রা ও কাজের জন্য দিয়ছেন দিন ( সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২৫-৪৭) । স্বাস্থ্য ঠিক রাখার অন্যতম শর্তের মধ্যে পড়ে স্বাস্থ্যকর ঘুম। মানে গভীর ঘুম। বলা হয়, প্রতিরাতে ৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে আসবে জীবনীশক্তি। ঘুম না হলে স্ট্রেস ভর করবে, শারীরিক গঠন নষ্ট হবে এবং অস্বস্তিবোধ হবে।
১. ঘুমের ঘণ্টাখানেক আগ থেকে সব গেজেট থেকে মুক্তি নিতে হবে। স্মার্টফোন, ট্যাব, কম্পিউটার, টেলিভিশন বন্ধ করে দিন। ঘুমের জন্যে প্রস্তুতি নিতে থাকুন। প্রযুক্তিযন্ত্র থেকে ব্লুলাইট বেরিয়ে আসে যা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে। এতে ঘুম চলে যায়।
২. সুঅভ্যাসে মন দিতে হবে। উত্তেজনাপূর্ণ উপন্যাস কিংবা ধুম ধাড়াক্কা সিনেমা দেখে কিন্তু ঘুমের আমেজ নষ্ট হয়ে যায়।
৩. ঘুমানোর ২ ঘন্টা পূর্বে রাতের খাবার গ্রহণ করুন । রাতের খাবার হতে হবে হালকা।
ঘুমের মধ্যে নিঃশ্বাস নেওয়া ও প্রশ্বাস ছাড়ার প্রক্রিয়াটি কখনো থেমে যাওয়ার কথা নয়। ১০ সেকেন্ড বা এর বেশি সময় শ্বাস এভাবে বন্ধ থাকলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলে হাইপোক্সিয়া। মস্তিষ্ক তখন বাধ্য হয়ে রোগীকে জাগিয়ে তোলে। যাদের এই প্রবণতা আছে, তাদের সারা রাতে বারবার একই ঘটনা ঘটতে থাকে। কিন্তু সকালে হয়তো তাদের তা মনে থাকে না। এই রোগের নাম স্লিপ এপনিয়া। এক্ষেত্রে রোগীর চেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন তার পার্টনার। স্লিপ এপনিয়া সব বয়সেই হতে পারে, এমনকি শিশুদেরও। যাদের বড় বড় টনসিল, এডিনয়েড, বড় জিহ্বা অথবা চোয়ালের হাড় ছোট , অ্যালার্জি বা সাইনাস এর কারণে নাকে কোন ব্লক তৈরি হয় তাদের স্লিপ এপনিয়ার ঝুকি বেশি। এছাড়া ওজন বেশি হওয়া, বয়স ৪০ এর বেশি হওয়া , বড় এবং খাটো ঘাড় থাকা (পুরুষদের ১৭ ইঞ্চি এর চেয়ে বেশি, নারীদের ১৬ ইঞ্চি এর চেয়ে বেশি), পরিবারে স্লিপ এপনিয়ার ইতিহাস থাকা, গ্যাস্ট্রোসোফাজাল রিফ্লাক্স রোগ থাকা স্লিপ এপনিয়ার কারণ হতে পারে।
চিকিৎসা না করলে, স্লিপ এপনিয়ার কারণে হাই ব্লাড প্রেশার, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলার এবং হার্ট এটাক, ডায়াবেটিস, বিষন্নতার সমস্যা বাড়ে, মাথা ব্যাথা এবং সারাদিন ঝিঁমুনী ভাব থাকে। মেজাজ খিটখিটে হয়। ফুসফুসে পানি জমা এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া স্লিপ এপনিয়ার চিকিৎসা না করালে স্কুলে, অফিসে এবং বাড়িতে দৈনন্দিন কাজ কর্মের মান কমে যেতে পারে।
কিছু অভ্যাস বদলিয়ে অল্প মাত্রার স্লিপ এপনিয়ার চিকিৎসা বাড়িতে করা সম্ভব।
ওজন কমান : এলকোহল এবং ঘুমানোর ঔষধ থেকে দূরে থাকুন। পিঠে ভর দিয়ে বা চিত হয়ে শোয়া পরিহার করুন।
একদিকে কাত হয়ে ঘুমান। প্রয়োজনে পিছনের পকেটে একটি ছোট বল রাখতে পারেন।
ধূমপান বন্ধ করুন। ধূমপানের কারণে বাতাস চলাচলের পথ ফুলে যেতে পারে যার ফলে নাক ডাকা এবং এপনিয়ার সমস্যা বাড়তে পারে।
নাকডাকা বা নিদ্রাভঙ্গের সমস্যা প্রকট হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আজকাল বাংলাদেশেও এ সমস্যার উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হয়েছে। স্লিপ সেন্টারে এক ধরনের পরীক্ষা (ঢ়ড়ষুংড়সহড়মৎধঢ়যু) মাধ্যমে এ রোগের কারণ নির্ধারণ করে একজন নাক কান গলা ও হেড-নেক বিশেষজ্ঞ সার্জন প্রয়োজনীয় সার্জারীর মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করতে পারেন। এছাড়া সমস্যা কম হলে ক্ষেত্র বিশেষে সি-পেপ, বাই-পেপ ব্যবহারের সুযোগ হয়েছে।
সব শেষের পরামর্শ হলো, সমস্যা দূর না হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। কিন্তু ঘুমকে অবহেলা করা যাবে না। ঘুম দিবসে নিয়মিত গভীর ঘুম হোক আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, নাক-কান-গলা ও হেড-নেক-ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ সার্জন, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ১৯৭১-এর সেই ভয়াল রাত
  • স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম
  • মুক্তিযুদ্ধে পরদেশি বন্ধু সঙ্গীতশিল্পী
  • সড়ক দুর্ঘটনার দায় ও দায়িত্ব
  • সন্ত্রাসবাদের নির্মমতা ও বিশ্বব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
  • একজন মারুফ জামানের ফিরে আসা
  • তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি
  • চোপড়া-জোলিরা কিসের বার্তা দিয়ে গেলেন?
  • জীবন থেকে নেওয়া
  • প্রাসঙ্গিক কথকতা
  • সিলেট বিভাগের শিল্পায়ন ও সম্ভাবনা
  • আমরা কি স্বাধীনতার অর্থ খুঁজি?
  • বৈশ্বিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ প্রয়োজন
  • হুমকির মুখে ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের দশ নম্বর এলাকা
  • পাসপোর্ট ভোগান্তি
  • শিশুশিক্ষায় শাস্তি পরিহার বাঞ্ছনীয়
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  • ভোগবাদী বিশ্বায়ন বনাম লোকসংস্কৃতি
  • সমাবর্তনে শুভ কামনা
  • উন্নয়নে যুবসমাজের ভূমিকা
  • Developed by: Sparkle IT