ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৩-২০১৯ ইং ০১:২৪:২০ | সংবাদটি ৯৪ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
খুশুহীন নামাযও সম্পূর্ণ নিরর্থক নয় :
সবশেষে ‘খুশু’র এ অসাধারণ গুরুত্ব সত্ত্বেও মহান পরওয়ারদেগারের দরবারে আমাদের এই কামনা যেন অন্যমনস্ক ও গাফেল নামাযীও সম্পূর্ণভাবে নামায পরিত্যাগকারীর পর্যায়ভুক্ত না হয়। কেননা, যে অবস্থায়ই হোক সে অন্ততঃ ফরয আদায়ের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সামান্য সময়ের জন্য হলেও অন্তরকে যাবতীয় আকর্ষণ থেকে মুক্ত করে আল্লাহর প্রতি নিয়োজিত করেছে। কমপক্ষে নিয়তের সময় শুধু সে আল্লাহ পাকেরই ধ্যানে নিমগ্ন ছিলো। এ ধরণের নামাযে অন্ততঃ এতোটুকু উপকার অবশ্যই হবে যে, তাদের নাম অবাধ্য ও বেনামাযীদের তালিকা বহির্ভুত থাকবে।
জ্ঞাতব্য :
আলোচ্য আয়াতে যে দিনের কথা বলা হয়েছে, সেটি হল কেয়ামতের দিন। দাবি আদায় করে দেয়ার অর্থ যেমন, কেউ নামায রোযা সংক্রান্ত হিসাবের সম্মুখীন হলে, তখন অপর কেউ যদি বলে যে, আমার নামায রোযার বিনিময়ে তাকে হিসাবমুক্ত করে দেয়া হোক, তবে তা গৃহিত হবে না। বিনিময় অর্থ, টাকা পয়সা বা ধন সম্পদের বিনিময়ে দায়মুক্ত করে দেয়া। এ দু’টির কোনটিই গ্রহণ করা হবে না। ঈমান ব্যতিত সুপারিশ গৃহিত না হওয়ার কথা কুরআনের অন্যান্য আয়াত দ্বারাও বোঝা যায়। প্রকৃত প্রস্তাবে এদের পক্ষে কোন সুপারিশই হবে না। ফলে তা গ্রহণ করার কোনো প্রশ্নই ওঠবে না।
মোটকথা, দুনিয়াতে সাহায্য করার মত পদ্ধতি আছে ঈমান ব্যতিত সেগুলোর কোনোটাই আখেরাতে কার্যকর হবে না।
আনুষাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :
কোনো ব্যক্তি ফেরআউনের নিকট ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, ইসরাইল বংশে এমন এক ছেলের জন্ম হবে, যার হাতে তোমার রাজ্যের পতন ঘটবে। এজন্য ফেরআউনের নবজাত পুত্রসন্তানদেরকে হত্যা করতে আরম্ভ করলো। আর যেহেতু মেয়েদের দিক থেকে কোনো রকম আশঙ্কা ছিলো না, সুতরাং তাদের সম্পর্কে নিশ্চুপ রইলো। দ্বিতীয়তঃ এতে তার নিজস্ব একটি মতলবও ছিলো যে, সে স্ত্রীলোকদেরকে দিয়ে ধাত্রী পরিচারিকার কাজও করানো যাবে। সুতরাং এ অনুকম্পাও ছিলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এই ঘটনার দ্বারা হয় উল্লেখিত হত্যাকা-কে বুঝানো হয়েছে, কিংবা বিপদে ধৈর্যের পরীক্ষা অথবা অব্যাহতি দানের কথা বুঝানো হয়েছে, যা এক অনুগ্রহ ও নেয়ামত। আর নেয়ামতের ক্ষেত্রেই শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতার পরীক্ষা হয়। পরবর্তী আয়াতে অব্যাহতি দানের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
জ্ঞাতব্য :
এ ঘটনা ঐ সময়ের, যখন ফেরআউন সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়ার পর বনী ইসরাইলরা কারো কারো মতে মিশরে ফিরে এসেছিলো আবার কারো কারো মতে অন্য কোথাও বসবাস করছিলো। তখন মুসা (আ.) এর খেদমতে বনী ইসরাইলরা আরয করলো যে, আমরা এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নিশ্চিত। যদি আমাদের জন্য কোন শরীয়ত নির্ধারিত হয়, তবে আমাদের জীবন বিধান হিসাবে আমরা তা গ্রহণ ও বরণ করে নেবো। মুসা (আ.) এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ পাক অঙ্গীকার প্রদান করলেন যে, তুমি তূর পর্বতে অবস্থান করে এক মাস পর্যন্ত আমার আরাধনা ও অতন্দ্র সাধনায় নিমগ্ন থাকার পর তোমাকে এক কিতাব দান করবো। মুসা (আ.) তাই করলেন। ফলে তওরাত লাভ করলেন। কিন্তু অতিরিক্ত দশ দিন উপাসনা আরাধনায় মগ্ন থাকার নির্দেশ দেয়ার কারণ ছিল এই যে, হযরত মুসা (আ.) এক মাস রোযা রাখার পর ইফতার করে ফেলেছিলেন। আল্লাহ তা’আলার কাছে রোযাদারের মুখের গন্ধ অত্যন্ত পছন্দনীয় বলে মুসা (আ.) কে আরো দশ দিন রোযা রাখতে নির্দেশ দিলেন, যাতে পুনরায় সে গন্ধের উৎপত্তি হয়। এভাবে চল্লিশ দিন পূর্ণ হলো। মুসা (আ.) তো ওদিকে তুর পর্বতে রইলেন, এদিকে সামেরী নামক এক ব্যক্তি সোনা রূপা দিয়ে গোবৎসের একটি প্রতিমূর্তি তৈরি করলো এবং তার কাছে পূর্ব থেকে সংরক্ষিত জিবরাইল (আ.) এর ঘোড়ার খুরের তলার কিছু মাটি প্রতিমূর্তির ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়ায় সেটি জীবন্ত হয়ে ওঠলো এবং শিক্ষিত বনী ইসরাইলরা তারই পূজা করতে আরম্ভ করে দিল।
এ তওবার বর্ণনা পরবর্তী তৃতীয় আয়াতে রয়েছে। আর ‘আশার’ অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ পাকের এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ ছিলো এবং এর অর্থ এই যে, মাফ করে দেয়া এমনই এক জিনিস যার প্রতি লক্ষ্য করে বনী ইসরাইল আল্লাহ পাকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে বলে দর্শকদের মনে আশার সঞ্চার হতে পারে।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT