ধর্ম ও জীবন

 রজব মাসের ফযিলত ও ইবাদত

মাছুম আহমদ দুধরচকী প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৩-২০১৯ ইং ০১:২৮:০৪ | সংবাদটি ২৯২ বার পঠিত

রজব হলো আল্লাহ তা’আলার বিশেষ অনুগ্রহের মাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে আকাশ পানে মেরাজে গমন করেছিলেন। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে রজব মাসেই প্রথম ওহি আসে। এ ছাড়া রজব হলো জান্নাতের তলদেশ প্রবাহিত একটি নদীর নাম। এ নদীর পানি দুধের মতো ধবধবে সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। যারা রজব মাসে নফল রোযা রাখবে আল্লাহ তা’আলা আখেরাতে ওইসব রোাযাদারকে রজব নদীর পানি দ্বারা আপ্যায়ন করবেন। সুমিষ্ট রজব নদীর পানি বরফের চেয়ে শীতল। যারা একবার রজব নদীর পানি পান করবে, তাদের আর কোনোদিন পানির পিপাসা লাগবে না।
আরবি বারো মাসের মধ্যে রজব মাস অত্যন্ত সম্মানিত। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আসমান সমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই মহান আল্লাহর বিধানে মাসের সংখ্যা বারোটি, এর মধ্যে চারটি হচ্ছে (যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্য) নিষিদ্ধ মাস; এটা নির্ভুল ব্যবস্থা। অতএব, তার ভেতরে (হানাহানি করে) তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৬)।
আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে পুরো আরবে বছরের মধ্যে চার মাস যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ থাকত। মহিমান্বিত রজব মাসে আরবে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সঙ্গী-সাথীদের রজব মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। সুনানে বায়হাকিতে (৩/৩১৯) বান্দার দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে পাঁচটি বিশেষ রাতের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচটি রাতের প্রথমটি হলো জুমার রাত, দ্বিতীয়টি ঈদুল ফিতরের রাত, তৃতীয়টি ঈদুল আজহার রাত, চতুর্থটি রজব মাসের চাঁদ উদয়ের প্রথম রাত, পঞ্চমটি মাহে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। তাফসিরে কুরতুবিতে (৯/৩৩২) উল্লেখ করা হয়েছে হযরত কায়েস ইবনে উবাদা বলেন, রজব মাসের দশ তারিখে আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন। এক কথায় বলা হয়, রজব হলো দোয়া কবুলের মাস। বান্দার ক্ষমা লাভের মাস। রমযানের প্রস্তুতি নেওয়ার মাস।
অন্যান্য মাসের মতো রজব মাসের জন্য বিশেষ কিছু নফল আমল রয়েছে; যা আমলের মাধ্যমে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ ও জান্নাত লাভের পথ সুগম হয়। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই হাত তুলে এ দোয়া পাঠ করতেন এবং সাহাবাদের পড়তে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাযান’ (মসনদে আহমদ)। (অর্থ : হে আল্লাহ রজব আর শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করে রমযান পর্যন্ত আমাদের জীবিত রাখুন, আমাদের রমযানের ফজিলত অর্জন করার তৌফিক দান করুন)। রজব মাস এলে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেইন, তাবে-তাবেইন, আইম্মায়ে মুজতাহেদিন সহ মুমিন বান্দারা বিশেষ কিছু নফল আমল করতেন। আমলিয়াতের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, এ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ইবাদত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম বৃহস্পতিবার রাতকে লাইলাতুল রাগায়িব বলা হয়। এ মাসের ১৫ তারিখের রাতকে লাইলাতুল ইস্তিফতাহ বলা হয়। এ মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতকে শবে মেরাজ বলা হয়। হযরত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে যে কয়েকটি মোজেযা সংঘটিত হয়েছিল, এর মধ্যে মেরাজ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের-সর্বোচ্চ মোজেজা। মেরাজের রাতের ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত লাভ-পরবর্তী ঘটনাগুলোর মধ্যে মেরাজ সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা।
হযরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে- হযরত রাসূল (সা.) বলেছেন, হে সালমান! এমন কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিনা স্ত্রীলোক কি নেই যে, এ মাসের প্রথম তারিখে মাগরিব ও এশার ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময় ৪০ রাকাত (অন্যত্র ২০ রাকাত উল্লেখ আছে) নামাজ পড়বে; তা পড়ার নিয়ম হলো, প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহার পর তিনবার সূরা ইখলাছ, তিনবার সূরা কাফেরুন পড়বে, এতে আল্লাহ তা’আলা ওই বান্দার সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। আর আল্লাহ তা’আলা তাকে কেয়ামতের দিন শহীদের দলের সঙ্গে উঠাবেন এবং আল্লাহ তা’আলা তাকে বড় আবেদ হিসেবে গণ্য করবেন। আর সে যেন এক বছর নহে, একশ’ বছর ধরে ইবাদত-বন্দেগি করেছে এবং আল্লাহ তা’আলা ওই ব্যক্তিকে জান্নাতে হাজারো মর্যাদা দান করবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রজব মাসের বরকত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT