সম্পাদকীয় বিদ্যা ভালোমন্দ বিবেচনার শক্তি যোগায়, বেহেশতের পথকে আলোকিত করে। -আল হাদিস

দুর্নীতিবাজদের স্বার্থেই কি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি?

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৩-২০১৯ ইং ০০:২৭:৩৬ | সংবাদটি ১৫২ বার পঠিত

লাভের পরও কেন বাড়বে গ্যাসের দাম? প্রশ্নটি ভোক্তাদের। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত গণশুনানীতে ভোক্তাগণ এই প্রশ্ন তুলেন। তাদের বক্তব্য হলো, সরকারের গ্যাস বিতরণ কোম্পানীগুলো প্রায় সব ক’টিই লাভে আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বছরে কয়েক দফা বোনাস নিচ্ছে। কোম্পানীগুলো শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিত ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। তবুও দুর্নীতি কমছে না। গ্যাস চুরি হচ্ছে। প্রকৃত গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না। মাস শেষে ঠিকই তাদেরকে পুরো বিল গুনতে হচ্ছে। এখন আবার দাম বাড়ানোর পাঁয়াতরা চলছে। দুর্নীতির কারণে যে লোকসান হয়, তা পোষাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ভোক্তাদের বক্তব্য হলো, দুর্নীতিবাজদের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি পোষাতে গ্যাসের বাড়তি বিল দেবে না তারা। খবরটি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয় সম্প্রতি।
কোন কিছুর দাম বাড়াবে সরকার, এরকম ঘোষণা যখন দিয়ে দেয়া হয় তখন তা বাস্তবায়ন না করে যেন শান্তি নেই সংশ্লিষ্টদের। গ্যাস, বিদ্যুৎ কিংবা জ্বালানী তেল অর্থাৎ যেগুলোর দাম বাড়ানো হলে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়, সেগুলোর দাম বাড়াতে সংশ্লিষ্টরা সবসময় অস্থির থাকে। এই সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত হলেই আর রক্ষে নেই, তা বাস্তবায়িত হবেই। অথচ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক উদ্যোগই বাস্তবের মুখ দেখছে না বছরের পর বছর। গ্যাসের দাম বাড়াতে সর্বশেষ যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, তা আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়ে যায়। এই স্থগিত হওয়া সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করতে ওঠে পড়ে লেগেছে সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু যেসব অজুহাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, তার সবই অমূলক বলে অভিমত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ। মূলত গ্যাসের মজুদ সীমিত এবং গ্যাস কোম্পানীগুলোর লোকসান দেয়ার কথাই বলা হচ্ছে। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন কোন কোম্পানীই লোকসানে নেই; তাছাড়া সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায়ও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত শুনানীতে ওঠে এসেছে গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানীগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতির কথা। শুনানীতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারী একদিকে চুরি করছে সম্পদ, অপরদিকে সরকার তাদেরকে দিচ্ছে মোটা অংকের বেতন-ভাতা ও বোনাস। তাছাড়া, অনাবাসিকে মিটার না দিয়েও হচ্ছে দুর্নীতি। মিটার যুক্ত গ্রাহকের তিনশ’ থেকে চারশ’ টাকা বিল আসে। অথচ মিটারবিহীন গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে সাতশ’ থেকে আটশ’ টাকা বিল।
গণশুনানীতে ওঠে এসেছে সাধারণ মানুষের অন্তরের কথাটি। গ্যাসের দাম বাড়লে নি¤œ ও সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তারপরেও যদি দাম বাড়ানোর যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে তবে আপত্তি ছিলো না। কিন্তু এখানে দুর্নীতিবাজদের পকেট ভরতেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে যে অভিযোগ ওঠেছে, তার সুরাহা না করে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে গণবিরোধী। আর যেহেতু গণশুনানীতে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে ভোক্তা সাধারণকে, তাই তাদের মতামতের মূল্য দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নয়, বরং গ্যাস খাতে চুরি, অপচয় বন্ধ করা হোক।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT