সম্পাদকীয়

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৩-২০১৯ ইং ০০:২১:৩৩ | সংবাদটি ৬৩ বার পঠিত

অভিযোগের পাহাড় পুলিশ সদর দপ্তরে। এই অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- ঘুষ, হয়রানী, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি, জীবননাশের হুমকি ইত্যাদি। এসব অভিযোগ এসেছে ই-মেইল, মোবাইল ফোনে। সরাসরিও এসেছে অনেক অভিযোগ। আর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতি মাসে গড়ে ১২’শ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া, চাকরিতে যোগদান করে যারা অল্প সময়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাদের ব্যাপারেও খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্তের পর বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের বরাত দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, অপরাধে জড়িত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের তিরস্কার থেকে শুরু করে প্রমোশন ও টাইমস্কেল স্থগিত, চাকরিচ্যুতি, বাধ্যতামূলক অবসর ও পদাবনতির মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
নিরাপত্তা বিধান তথা আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত পুঞ্জিভূত হচ্ছে নানা ধরনের অভিযোগ। তারা সমাজের শান্তি রক্ষার পরিবর্তে সমাজকে অনেক সময় অশান্ত করে তুলছে। আইন রক্ষার পরিবর্তে তারা আইন ভঙ্গের জন্য দায়ী হচ্ছে। কখনও পুলিশের আচরণে মনে হয় তারা নিরাপত্তা রক্ষা নয়, বরং নিরাপত্তা বিঘিœত করাই তাদের দায়িত্ব। পুলিশের দুর্নীতিবাজ সদস্যদের ঘুষ দুর্নীতির ফিরিস্তি দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না; কারণ ঘুষের বিনিময়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানী করা, অপরাধীকে নির্দোষ প্রমাণ করা ইত্যাদি পুলিশের নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম। ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে চোখের পলকে বিত্তশালী হওয়া কোন ব্যাপার নয় পুলিশের পক্ষে। তারা অর্থের বিনিময়ে নিরীহ মানুষদের খুন করার মতো জঘন্য অপকর্ম করতেও কুন্ঠাবোধ করে না। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে অনেকে সাহস পায় না। আর অনেক অভিযোগের তদন্তও হয় না। কারণ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় আরেক পুলিশকেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই সঠিক তদন্ত হয় না; কারণ ‘কাক কাকের মাংস খায় না।’
‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ এই স্লোগানটি কাধে নিয়ে বেড়াচ্ছে পুলিশ জন্ম থেকেই। কিন্তু এর মর্মার্থ তারা উপলব্ধি করেনি কখনও। তারা আক্ষরিক অর্থে জনগণের বন্ধু হতে পারেনি। বিচ্ছিন্ন কিছু সদস্য ছাড়া, কারও মধ্যে সেই মানসিকতা নেই। তারা জনসেবা নয়, জনগণের পকেট মেরেই যাতে দ্রুত অর্থবিত্তের মালিক হতে পারে সেই উদ্দেশ্য নিয়েই চাকরিতে ঢুকে। কিন্তু এই যে অভিযোগের লম্বা ফর্দ, তার বিপরীত চিত্রও রয়েছে। অর্থাৎ কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্য রয়েছে এখনও যারা সততা-নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে চলেছে। তাছাড়া, একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাতো ভুলে যাবার নয়। সুতরাং পুলিশ বাহিনী যাতে সেইসব গৌরবে অনুপ্রাণিত হয়ে সত্যিকার অর্থে ‘জনগণের বন্ধু’ হয়ে ওঠে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT