উপ সম্পাদকীয়

উন্নয়নে যুবসমাজের ভূমিকা

মোঃ তাজ উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৩-২০১৯ ইং ০০:১১:৫০ | সংবাদটি ১২২ বার পঠিত

দেশে কৃষিবান্ধব পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকারে সরকারের পাশাপাশি যুবসমাজকে উদ্যোগী করে গড়ে তোলা সকলের দায়িত্ব। বর্তমান প্রজন্মের কিছু কিছু যুবসমাজ পরিশ্রমের কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন বেরিয়ে আসছে। কেউ কেউ বলেছেন বিদেশের মাটিতে পরিশ্রমের কাজের ফায়দা বেশি, আবার কেউ বলেন কৃষি কাজে পরিশ্রম করবো কেমনে। ভেজালের খাদ্যের দেশে যুবসমাজ শারীরিক ভাবে বেড়ে উঠা সম্ভব কি?। এসব বিষয়ে বলতে হয় পূর্বেকার দিনে খাদ্যে ভেজাল কেউ জানতোওনা। কবি শেখ সাদির কথা না লিখে পারছিনা, কবি বলেন “কষ্ট করে মানুষ মরে না, আর উটের সোয়ার হয়ে মানুষ বাঁচতে পারেনা”
আমাদের যুবসমাজকে মনে রাখতে হবে পড়ালেখার পাশাপাশি পরিশ্রম করার অভ্যাস না করলে দেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার পর্যন্তও চাকুরী পাওয়া না’ও যেতে পারে। তাই নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে, প্রতি দিন নি¤েœ ১০০ গ্রাম হলেও ফল খেতে হবে, সন্দেহ হলে ১০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। তারপরও ফল খাওয়ার বিকল্প নাই। শরীর চর্চা করলে মানসিক বিকাশের পাশাপাশি উন্নতির শিখরে যেতে কোন সময় লাগবেনা। যারা প্রচুর পরিমাণ কষ্ট করে তারাই সাফল্য অর্জন করে এবং ট্রেনিংএ পাশ করে চাকুরী পেয়ে থাকে। এক সময় সেইসব যুবসমাজই দেশ গড়ার হাতিয়ার হয়ে দেশের পতাকা আকড়ে ধরে রাখবে। তাই শারীরিক বিকাশে পরিশ্রমের বিকল্প নাই।
আর কৃষিবান্ধব পরিবেশ গড়তে সরকারকে আরও কৌশলী হতে হবে। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা কমিটি গঠনে প্রকৃত কৃষকের সম্মানি হিসাবে সার-বীজ ও কৃষিযন্ত্রপাতি প্রদান করা জরুরি। আর জমি চাষের জন্য মেশিনারিজ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন। কৃষিবান্ধব পরিবেশ গড়তে সরকার পদক্ষেপ না নেওয়ায় যুবসমাজে বাহির মুখী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে যার ফলে দেশে রয়ে যাচ্ছে অনাবাদি জমি।
পূর্বেকার দিনে কৃষকের সংখ্যা ছিল বেশি, শিক্ষার হার ছিল কম। বর্তমান আধুনিক জমানায় শিক্ষার হার বাড়লেও কৃষকের হার তেমন একটা বাড়েনি, সেই সময়ে দেশে কৃষিবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার চিন্তাও ছিলনা। মানুষজন ভাল খাদ্য খেয়েছে বিধায় কৃষিকাজে ঝাপিয়ে পড়েছিল। এখন ভেজাল খাদ্যে জীবন বাঁচার লক্ষ্যে ক্লিনিক আর হাসপাতালমুখী হয়ে যাচ্ছে মানুষ। ইদানিং আলস্যতাকে সামনে আর পরিশ্রমকে পিছনে রাখায় ৪৫ বৎসর থেকে ৬০ উর্ধ্বে বয়স্ক জনশক্তির ষ্ট্রোক করা বাড়ছে, কেউবা পঙ্গু, কেউবা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে যাচ্ছে। এক সময় এসব কারণে বয়স্ক সালিশ বিচারক, মুরব্বীয়ান ব্যক্তিগণ দেশের মাটিতে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এক গবেষণায় দেখা যায় দেশের কিছু কিছু যুবসমাজ বেকার থাকতে রাজি, কিন্তু গায়ে “কাঁদা মাটি লাগাতে রাজি নহে”। কেউ কেউ বলেন কৃষিজমি চাষ করে লাভ কি? বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হলে আমাদের দুঃখ কেউ শুনেনা, সরকারের নিকট থেকে অনুদান আসলে প্রকৃত কৃষক অনুদান পায়না। কোন কোন ব্যক্তি কৃষি কাজের নামে ঋণ নিয়ে অন্যান্য কাজে ব্যবহার করছে। কৃষি ভর্তুকীর টাকা সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি দ্বারা প্রদান না করায় কৃষক অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটি দ্বারা তদন্ত অব্যাহত রাখা জরুরি। না হয় কৃষি উন্নয়নে যুবসমাজের ভূমিকা রাখা কতটুকু হতে পারে তা বুঝে উঠা কঠিন।
বর্তমান সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের মধ্যে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে অথবা এটি ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম। বাংলাদেশ এখন ধান উৎপাদনে পৃথিবীর চতুর্থ। গম-ভুট্টা উৎপাদনেও বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে। ফল উৎপাদনে বিশ্বের প্রথম, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম এবং মাছ চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে অবস্থান।
আধুনিকতা মানে ঝামেলা, না মুক্ত তা এখন ভাবার সময় এসেছে। পূর্বেকার দিনে দেশের মানুষের প্রধান উপহার ছিল বই। এই বই পড়ার মধ্য দিয়ে লেখক-লেখিকার জন্ম হয়েছে। আজ বই’র বদলে প্রাধান্য পেয়ে যাচ্ছে হাতের মোবাইল, উপহার হিসাবে বেঁচে নেওয়া শুরু করছে ক্রেস্ট। আমাদের মনে রাখতে হবে ক্রেস্ট থেকে বই এর সম্মান বেশি।
ইদানিং দেশের বিভিন্ন কোম্পানী দক্ষ ও কর্মঠ শ্রমিক খোঁজতে শুরু করছে। তার কারণ হলো মোবাইলের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া যুবসমাজ দক্ষ কর্মঠ হবে কেমনে?। বর্তমানে কৃষকের ছেলে শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পর পিতার কৃষি খেতে আর নেই, রাজমিস্ত্রীর ছেলে ও কাঠ মিস্ত্রীর ছেলে শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পর পিতার কর্মে বা স্থলাভিষিক্ত কাজে আর নেই। আধুনিকতার যুগে সবাই চায় পরিবর্তন, উন্নত শিখরে যেতে কে না চায়, সবাই প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে চায়। এর মধ্যে কেউ কেউ সাফল্য অজর্ন করে, কেউবা হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি দেশের গুণিজনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খুাজতে হবে দেশে শ্রমিক সংকটের কারণ। এসব বিষয়ে যুবসমাজকে উৎসাহিত করে তোলতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। আর দেশের কল্যাণে যুবসমাজকে পরিশ্রম করতে হবে। পরিশ্রম করলে শিখা যাবে, আর শিখা গেলে দক্ষ হওয়া যাবে। দক্ষ হলে প্রমোশন বাড়বে। প্রমোশন বাড়লে নিজের সংসার নিজেই উন্নত করে এগিয়ে যেতে পারবে, পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

 

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শব্দদূষণ রোধে এগিয়ে আসুন
  • খাদ্যে ভেজালকারীদের নির্মূল করতেই হবে
  • বাংলাদেশের গৃহায়ন সমস্যা
  • বৃদ্ধাশ্রম নয় বৃদ্ধালয়
  • ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি
  • বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা
  • ভারতের জাতীয় উন্নয়ন ও ভারত মহাসাগর
  • জীবনে শৃঙ্খলাবোধের প্রয়োজনীয়তা
  • চলুক গাড়ি বিআরটিসি
  • জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের করণীয়
  • নির্ধারিত রিক্সাভাড়া কার্যকর হোক
  • নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা
  • খাদ্যে ভেজাল রোধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে
  • মুর্তাজা তুমি জেগে রও!
  • সন্তানের জীবনে বাবার অবদান
  • এবার কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভংগ হোক
  • বন উন্নয়নে মনোযোগ বাড়ুক
  • একজন অধ্যক্ষের কিছু অবিস্মরণীয় প্রসঙ্গ
  • গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষ রোপণ
  • শান্তির জন্য চাই মনুষ্যত্বের জাগরণ
  • Developed by: Sparkle IT