সম্পাদকীয়

হাসপাতালেই চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৩-২০১৯ ইং ০০:১৫:১৩ | সংবাদটি ৯৬ বার পঠিত

হাসপাতালে বসেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবেন চিকিৎসকগণ। খোদ প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ যাতে হাসপাতালে বসেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারেন সেজন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি রাজধানীতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালেই যাতে চিকিৎসকেরা একটা উইং নিয়ে বসে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারেন সেভাবেই হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক ও রোগীরা বাইরে বাইরে দৌঁড়ায়। হাসপাতালেই তাদেরকে একটা সুন্দর জায়গা দিয়ে দেয়া প্রয়োজন। এখানেই তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করুক, যাতে তাদের বাইরে যেতে না হয়।
এই নির্দেশনায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্নটি হচ্ছে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে। চিকিৎসকগণ সরকারি হাসপাতালের চেয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বা বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে সময় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। কারণ এখানে রোজগার বেশি। প্রায় সকল সরকারি চিকিৎসকেরই একই আচরণ। আর এই প্র্যাকটিস চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। চিকিৎসকদের নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে অনেক দিন ধরে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই অনেক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকার থেকে। নির্দেশনা এসেছে আদালত থেকেও। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। চিকিৎসকেরা যাতে হাসপাতালে বসেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারেন এবং প্রয়োজনের সময় যাতে সহজেই হাসপাতালের রোগীদেরও দেখতে পারেন, সেজন্য হাসপাতালের অভ্যন্তরেই প্রাইভেট চেম্বার খুলে দেবে সরকার। এই ধরনের খবর ইতোপূর্বেও শোনা গিয়েছিলো। কিন্তু তখন কার্যকর কিছুই হয়নি। এবার অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই বর্তমান পদক্ষেপের গুরুত্ব রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এ পর্যন্ত যতো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তার সবই ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু তার কোন কিছুই হলো না; বরং সরকারি হাসপাতালেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এতেও চিকিৎসকেরা যে নিয়মিত হাসপাতালের রোগীদের সেবা দেবেন, সেই নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া, হাসপাতালের বাইরের চেম্বারগুলো কি তাহলে বন্ধ হয়ে যাবে? আর প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যাওয়া কি বন্ধ হয়ে যাবে? আসলে চিকিৎসকদের চেম্বার-ক্লিনিক-প্রাইভেট চেম্বারে দৌঁড়াদৌঁড়ির যে প্র্যাকটিস চালু রয়েছে সেটা চলতেই থাকবে। বরং সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট চেম্বার হলে তাদের রোজগারের মাত্রাটা বাড়বে। সুতরাং চিকিৎসকদের সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে জরুরি তাদের আচরণে অর্থের লোভের চেয়ে সেবার মনোভাবকে ওপরে স্থান দেয়া।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT