শিশু মেলা

মাহির আয়োজন

মোঃ মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৩-২০১৯ ইং ০১:১৩:০০ | সংবাদটি ১৭৩ বার পঠিত


মাহি তিন ভাই বোনের মধ্যে ছোট এবং সেই একমাত্র ভাই। তার চাচা ও ফুফুরা তাকে খুব ভালবাসে। ফুফুরা যখন তাদের বাপের বাড়িতে আসা যাওয়া করেন তখন মাহির জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসেন। মাহি পড়াতেও ভালো। রাতের পড়া শেষে যখন শুতে যায় তখন প্রায় প্রতিদিনই তার ফুফুদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে। একদিন তার বড় ফুফুকে ফোন করে বলল ফুফু অনেক দিন হয়ে গেছে আপনি আসেন না কেন? আপনার বাবা অর্থাৎ আমাদের দাদা নেই বলে আপনি কি আসবেন না?
ফুফু ঃ নারে তোর ফুপাতো ভাই মিজান ও রাহেল বলেছে তোর পরীক্ষা শেষে তারাও আমার সাথে বেড়াতে আসবে। তখন না হয় সপ্তাহ খানেক আমার বাবার বাড়িতে বেড়ায়ে যাব।
মাহি ঃ ফুফু আসবেন কিন্তু। আপনার সাথে রাহেল ও মিজান ভাইয়া আসলে খুব ফূর্তি করা যাবে, তাদেরকেও নিয়ে আসবেন। ধর তোর মিজান ভাইয়ার সাথে কথা বল।
মাহি ঃ হ্যালো ভাইয়া কেমন আছো?
মিজান ঃ মাহি আমি ভালো আছি, তুমি কেমন আছ।
মাহি ঃ মিজান ভাইয়া আমরাও ভালো আছি। ফুফু বলেছেন আমার পরীক্ষার পরে বেড়াতে আসবেন, সাথে তোমরাও এসো খুব মজা হবে। মোবাইল আলাপ শেষে মাহি ভাবতে থাকে ফুফুরা বেড়াতে আসলে কি আনন্দ দেওয়া যায়। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার মাথায় একটি বুদ্ধি এলো। সঙ্গে সঙ্গে মাহি লাফিয়ে উঠে। মাহির মা জিজ্ঞেস করেন কি রে তুই এতো লাফাচ্ছিস কেন? মাহি বলে ফুফুরা আসলে অনেক ফূর্তি হবে তাই লাফাচ্ছি। মাহি কিছু মোরগ পালতো। সে মনে মনে চিন্তা করে ফুফুরা আসলে কয়েকটি মোরগ জবাই করবো। ইদানিং দেখছি মোরগগুলো জ্বালিয়ে মারছে। মোরগের কারণে এঘর ও ঘরের নালিশ মাহিকে বিরক্ত করে তোলে। সকালবেলা মোরগগুলো ছাড়ার পর দৌড় দিয়ে অন্য ঘরের বারান্দায় চলে যায়। বারান্দায় হাঁটা চলা করা, কক কক ডাকা, তারপর বিষ্টা ত্যাগ করা এসব অন্য ঘরের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। তাই মাহিকে মাঝেমধ্যে কটু কথা শুনতে হয়। তাই মাহিরও মন খারাপ হয়। মোরগগুলো কিছু করতে বা বিক্রি করে দিতে পারলে মাহি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে। ফুফু, মিজান ও রাহেল যথাসময়ে মাহির পরীক্ষার পর এসে হাজির। মাহি খুব খুশি হলো। পরদিন সকালে মাহি তার বাড়ির সমবয়সিদেরকে বললো ফুফু এসেছে আয় ফুফুর জন্য সবাই মিলে একটা আয়োজন করি। বাড়ির সবাই মিলে ফূর্তি করব। এই বলে সে কয়েকজনকে নিয়ে বাড়ির প্রত্যেক ঘর থেকে কিছু চাল ও টাকা উঠানোর পরামর্শ করে। ফুফুকে একটু বাড়তি আনন্দ দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা। মাহির সকল সমবয়সীরা পরামর্শমত প্রত্যেকের ঘরে গেল এবং তারা পাঁচ, ছয় কেজি চাল তুলল এবং কিছু নগদ টাকার আশ্বাস পেল। পরদিন গিয়ে টাকা তুলে আনল। দিন তারিখ ঠিক হয়ে গেল। শুক্রবারে মাহিদের উঠানে রান্নার আয়োজন হবে। মাহি ও তার সমবয়সিরা গাছ থেকে লাকড়ি যোগাড় করে রাখল। মাহির এসব কর্মকান্ড দেখে সবাই আনন্দে বিভোর। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গেল। শুক্রবার সকালে মাহির উঠানে মাহি ও দল হাজির হল এবং সাথে বড়রাও এলো। কেহ পিঁয়াজ কাটছেন, কেহ বাটনা বাটছেন। সবাই মিলে আনন্দের এ আয়োজনে শরীক হলেন দেখতে খুবই ভাল লাগছে। যথাসময়ে রান্না শেষ হলো। এবার খাওয়ার পালা। মাহি তার বারান্দায় সবার বসার ব্যবস্থা করল এবং সবাইকে বলল যার যার ঘর থেকে একটি করে প্লেট নিয়ে আসতে। সবাই প্লেট নিয়ে আসল এবং বারান্দায় মুখোমুখী হয়ে দুই সারিতে বসল। মাহির ফুফু এবার মোরগ পোলাও বিতরণ করলেন। ওরা যখন খাচ্ছে বড়রা তখন মাহির এ আয়োজন প্রাণভরে উপভোগ করছিলেন। ছোটদের শেষে বড়রা কয়েকজন খেতে বসলেন। একজন বলেছেন দারুণ রান্না হয়েছে। সাথে সাথে মাহির ফুফু বলে উঠলেন রান্না মজাদার হয়েছে আমার ভাইপোর বড় মোরগে। মাহি পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তার মোরগগুলোর খুব যতœ নিত। রান্না মজাদার হওয়ায় এবং মোরগের প্রশংসা করায় মাহি খুবই আনন্দিত। ফুফুকে নিয়ে এমন আয়োজন করতে পারায় এবং বাড়ির সকলের সাড়া পাওয়ায় মিজান, রাহেল অভিভূত হল। তারা অর্থাৎ মিজান, রাহেল মাহিকেও তাদের বাড়ি যাওয়ার বিশেষ নিমন্ত্রণ জানাল। সবাই মিলে এমন আনন্দ আয়োজন করায় আয়োজনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT