ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৩-২০১৯ ইং ০১:০১:২৫ | সংবাদটি ৪৪ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
জ্ঞাতব্য : মীমাংসার বস্তু দ্বারা হয়তো তওরাতের অন্তর্ভুক্ত শরীয়তী বিধানমালাকে বোঝানো হয়েছে। কেননা, শরীয়তের মাধ্যমে যাবতীয় বিশ্বাসগত ও কর্মগত মতবিরোধের মীমাংসা হয়ে যায়। অথবা মু’জেযা বা অলৌকিক ঘটনাবলীকে বোঝানো হয়েছেÑযা দ্বারা সত্য ও মিথ্যা দাবির ফয়সালা হয়। অথবা স্বয়ং তওরাতই এর অর্থ। কেননা, এর মধ্যেও মীমাংসাকারীর জন্য প্রয়োজনীয় উভয় গুণ ও বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ রয়েছে।
জ্ঞাতব্য : এটা তাদের তওবার জন্যে প্রস্তাবিত পদ্ধতির বর্ণনা অর্থাৎ, অপরাধিগণকে হত্যা করে দেয়া। আমাদের শরীয়তেও এমন কোনো কোনো অপরাধের জন্য তওবা করা সত্ত্বেও মৃত্যুদ- বা শারীরিক দ-ের ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন, ইচ্ছাকৃত হত্যার শাস্তি হত্যা। সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত যিনার (ব্যভিচার) শাস্তি ‘রজম’ বা পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা। তওবার দ্বারা এ শাস্তি থেকে অব্যাহতি নেই। বস্তুতঃ তারা এই নির্দেশ কার্যে পরিণত করেছিল বলে পরকালে দয়া ও করুণার অধিকারী হয়েছে।
জ্ঞাতব্য : ঘটনা এইÑযখন হযরত মুসা (আ.) তুর পর্বত থেকে তওরাত নিয়ে এসে বনী-ইসরাইলের সামনে পেশ করে বললেন যে, এটা আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব, তখন কিছু সংখ্যক উদ্ধত লোক বললো, যদি আল্লাহ স্বয়ং বলে দেন যে, এ কিতাব তাঁর প্রদত্ত, তবে অবশ্যই আমাদের বিশ্বাস এসে যাবে। মুসা (আ.) আল্লাহর অনুমতিক্রমে এতদুদ্দেশে তাদেরকে তুর-পর্বতে যেতে বললেন। বনী ইসরাইলরা সত্তর জন লোককে মনোনীত করে হযরত মুসা (আ.) এর সঙ্গে তুর পর্বতে পাঠাল। সেখানে পৌঁছে তারা আল্লাহর বাণী স্বয়ং শুনতে পেল। তখন তারা নতুন ভান করে বললো, শুধু কথা শুনে তো আমাদের তৃপ্তি হচ্ছে নাÑ আল্লাহই জানেন এ কথা কে বলছে। যদি আল্লাহকে দেখতে পাই, তবে অবশ্যই মেনে নেবো। কিন্তু যেহেতু এ মরজগতে আল্লাহকে দেখার ক্ষমতা কারো নেই, কাজেই এ ধৃষ্টতার জন্য তাদের উপর বজ্রপাত হলো এবং সবাই ধ্বংস হয়ে গেল। তাদের এ ধ্বংস প্রাপ্তির বর্ণনা পরবর্তী আয়াতে রয়েছে।
জ্ঞাতব্য : ‘মউত’ শব্দ দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, তারা বজ্রপাতের ফলে মৃত্যুবরণ করেছিল। তাদের পুনর্জীবিত হওয়ার ঘটনা এরূপ মুসা (আ.) আল্লাহর দরবারে নিবেদন করলেন, বনী ইসরাইল এমনিতেই আমার প্রতি কু-ধারণা পোষণ করে থাকে। এখন তারা ভাববে যে, এ লোকগুলোকে কোথাও নিয়ে গিয়ে কোনো উপায়ে আমিই স্বয়ং ধ্বংস করে দিয়েছি। সুতরাং আমাকে মেহেরবাণীপূর্বক এ অপবাদ থেকে রক্ষা করুন। তাই আল্লাহ পাক দয়াপরবশ হয়ে তাদেরকে পুনর্জীবিত করে দিলেন।
জ্ঞাতব্য : উভয় ঘটনাই ঘটেছিল তীহ প্রান্তরে। তার বিস্তারিত বর্ণনা এই যে, বনী ইসরাইলের আদি বাসস্থান ছিল শাম দেশে। হযরত ইউসুফ (আ.) এর সময়ে তারা মিশরে এসে বসবাস করতে থাকে। আর ‘আমালেকা’ নামক এক জাতি শাম দেশ দখল করে নেয়। ফেরআউনের ডুবে মরার পর যখন এরা শান্তিতে বসবাস করতে থাকে, তখন আল্লাহ পাক আমালেকাদের সাথে জেহাদ করে তাদের আদি বাসস্থান পুনর্দখল করতে নির্দেশ দিলেন। বনী ইসরাইল এতদুদ্দেশে মিশর থেকে রওয়ানা হল। শামের সীমান্তে পৌঁছার পর আমালেকাদের শৌর্য-বীর্যের কথা জেনে তারা সাহস হারিয়ে হীনবল হয়ে পড়লো এবং জেহাদ করতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলো। তখন আল্লাহ পাক তাদেরকে এ শাস্তি প্রদান করলেন, যাতে তারা একই প্রান্তরে চল্লিশ বছর হতবুদ্ধি হয়ে দিক-বিদিক জ্ঞানশূন্যভাবে বিচরণ করতে থাকে। ঘরে ফেরা আর তাদের ভাগ্যে জোটে নি।
এ প্রান্তর কোন বিশাল ভূ-খ- ছিলো না। ‘তীহ’ প্রান্তর মিশর ও শাম দেশের মধ্যবর্তী দশ মাইল এলাকা বিশিষ্ট একটি ভু-ভাগ। বর্ণিত আছে, এরা নিজেদের বাসস্থান মিশরে পৌঁছার জন্য সারাদিন চলার পর রাতে কোন মঞ্জিলে অবস্থান করত, কিন্তু ভোরে ওঠে দেখতে পেতÑযেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল সেখানেই রয়েগেছে। এভাবে চল্লিশ বছর পর্যন্ত এ প্রান্তরে কিং কর্তব্য বিমুঢ় হয়ে শ্রান্ত ও ক্লান্তভাবে বিচরণ করছিল।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT