সম্পাদকীয়

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৩-২০১৯ ইং ০০:১২:০০ | সংবাদটি ১৬০ বার পঠিত

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস আজ। যক্ষ্মা রোগের ক্ষতিকর দিক তথা স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। ১৮৮২ সালের আজকের এই দিনে ডক্টর রবার্ট কোচ যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার এবং এই রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ের পথ উন্মোচন করেন। তাকে স্মরণ করেই এই দিনটিতে পালন করা হয় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। অতীতে যক্ষ্মা একটি অনিরাময়যোগ্য রোগ হিসেবেই পরিচিত ছিলো। তখন বলা হতো -‘যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা’। সেই ধারণা অবশ্য এখন পাল্টেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে যক্ষ্মা এখন একটি নিরাময়যোগ্য রোগ হিসেবেই স্বীকৃত। তারপরেও যক্ষ্মা এখনও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটা হুমকি হিসেবেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যাবে এদেশে প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছে। তাই এখানে দিবসটি পালনের গুরুত্ব অপরিসীম।
যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ। ‘যক্ষ্মা’ শব্দটি এসেছে ‘রাজক্ষয়’ থেকে। এই রোগীরা খুবই শীর্ণ (রোগা) হয়ে পড়েন, তাই এখানে ‘ক্ষয়’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। যক্ষ্মা হতে পারে বিভিন্ন অঙ্গে। তবে সবচেয়ে বেশী দেখা দেয় ফুসফুসে। সাম্প্রতিকসময়ে যক্ষ্মার সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা কমে এসেছে। ১৯৯০ সালের পর যক্ষ্মা রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০ ভাগ কমে এসেছে। দ্রুত যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার কারণে যক্ষ্মার প্রকোপ কমে আসছে। তারপরেও এখনও যক্ষ্মা সারা বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১১ সালে সারা বিশ্বে ৮৭ লাখ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। মারা যায় ১৪ লাখ। এর মধ্যে ৯৫ ভাগ মৃত্যু হয়েছে গরীব ও মধ্য আয়ের দেশে। ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের মৃত্যুর প্রধান তিনটি কারণের একটি যক্ষ্মা। একই বছর (২০১১) সারা বিশ্বে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয় পাঁচ লাখ শিশু। এর মধ্যে মারা যায় ৬৪ হাজার। বাংলাদেশে ২০১৫ সালে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয় তিন লাখ ৬২ হাজার। এর মধ্যে মারা গেছে ৭২ হাজার। সে হিসেবে দিনে মারা গেছে দু’শ জন। সুতরাং যক্ষ্মা আমাদের জন্য এখনও চিন্তার বিষয়।
সব মিলিয়ে যক্ষ্মা বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে একটি উদ্বেগজনক খবর বেরিয়ে এলো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিচালিত জরিপে। সেটা হলো সারাবিশ্বে সর্বাধিক যক্ষ্মা আক্রান্ত ২৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। রোগের চিকিৎসা রয়েছে। সরকারীভাবেও বিনামূল্যে পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তারপরেও একমাত্র সচেতনতার অভাবে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। আজকের এই যক্ষ্মা দিবসে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে এই রোগের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করে তোলা এবং সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে এর চিকিৎসা আরও সহজলভ্য করতে উদ্যোগী হবে সরকার।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT