সাহিত্য

কলেমার বউ

আনোয়ার হোসেন মিছবাহ প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৩-২০১৯ ইং ০০:১৫:০৮ | সংবাদটি ২২৬ বার পঠিত



ক্লাসের উঠোনে ব্যতিব্যস্ত শিক্ষক। প্রতিদিন সরগরম ক্লাস। প্রশ্নবানে বান ডেকে আনার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে আয়ানের। তাই হয়তো শিক্ষকদের কাছ থেকে ছাড় পাওয়াও ছিলো তার ভাগ্য পরীক্ষা। ক্লাসের লেকচার শেষেই তার দিকে উল্টো কথার তীর আসতো- তোমার কোন প্রশ্ন আছে? দাঁড়িয়ে যেতো আয়ান, জ্বি স্যার। ব্যাপারগুলো মহাবিরক্ত করে তুলতো ক্লাসের পরিবেশ। শুধু একজন ছাড়া সবাই হাসিতে রাজ্য কিনে নিতো। তার চোখ আয়ানের শরীর চষে যেতো। চোখের চাহনিতে ডানা মেলতো পিউ পাখির দল। তাদের কলচঞ্চলতার শব্দ গুণে নিতো আয়ান। আঁড়চোখে আরো দু’চোখ ছুঁয়ে যেতো। চোখের মোহমিলনে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠতো তার ভেতরের পৃথিবী। প্রেমাবাহনে জ্বলে উঠতো হৃদয়ের বাতিঘর। আশার বাসরে বসতি দিতো জোড়া চোখ। এমন কেনো হতো, জানে না আয়ান। শুধু জানে শিক্ষকের চোখে আর পড়ে না চোখ। বহু টাকায় পড়া ভার্সিটির ক্লাসে তার মন বসে না। কথার পরে কথা আসে না- আসে না প্রশ্নের পরে প্রশ্ন। প্রশ্নগুলো পাক খায়। মাত্র ক’দিনের ইশারায় শিস দিয়ে যায়। আড়ষ্ট করে তুলে দু’চোখ।
রোল কলে নাম জানা ছাড়া আর কোন পরিচয় হয়ে ওঠেনি দু’জনের। শুধু এই একটি পরিচয় দু’জনকে আপন করে দেয়। ও বাড়ির পাখি ছুটে গেলে আয়ানের বুকে আসে। বুকের কামরায় বাতি জ্বেলে বিছানা পাতে। ও বাড়ির পাখি রোজদিন ডানা ঝাঁপটায়- ঘুমায় তার বুক জুড়ে। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠায় লেখে শ্রাবনীর নাম। রাতের কনুইয়ে ভর করে ভর নামায় কবিতার ওপর। কবি হয়ে ওঠে আয়ান। তার কবিতার ছত্র জুড়ে রোল কলের নাম আসে শ্রাবনী, আর শ্রাবনীর।
যার নাম আসে- সে জানে না, তাকে ঘিরেই আয়ানের কবিতার বসতি। জানতো একজন, সে জয়িতা। জয়িতা আবার শ্রাবনীর সুবোধ সহযোগি আয়ানের কাজিন। একদিন শ্রাবনীর কাছে কথার কুলকুচি করে বসে জয়িতা। জানিস- তুই আজকাল ভাইয়ার কাছে না ঘুমা এক ডায়রী। যে ডায়রীর ঘুম নেই, যার জেগে থাকা হাতের ঘষা মাজায়। তোকে ঘিরেই বেড়ে যাচ্ছে বাতি জ্বলার বিল। বেড়ে যাচ্ছে অ ঘুমো ভাইয়ার গড় গড় চা পাতার জল।
জয়িতার কথা থামে। ওদিকে শ্রাবনীর চোখ ঘামে। কাজল ঘামে। গাল, গল, কপোল ঘামে। চোখের জলের ফোঁটা হয়। গালে শ্রাবণের ঝর্ণা হয়। টুপ করে পড়ে সদ্য পরা জামায়। শ্রাবনী কাঁদে। ঢুকরে কাঁদে।
ছুরি টানার মতো হাতের পীঠে জল মুছে। মুখ খুলে শ্রাবনী-না। এ হতে পারে না। আমার জন্য ডায়রী হবে না। কবিতা হবে না। আমি ডায়রীর কেউ নই। কবিতার কেউ নই। আমি অন্যের কেউ। প্রেমহীন মানুষের কেউ। তুইতো জানিস না- আজকাল আমি শরীরতো নয়, হাওয়ার মানুষ। কাঁচা পয়সায় বয়ে নেয় আমারও শরীরের অণু পরমাণু।
তুই কি জানিস- কেনো আসিনি গত শনি, রবি? আমার মোবাইলের পাওনাদার কেনোই বা বড়ো ভাই? তোর কাছে কেনোই বা আসা পালিয়ে পালিয়ে?
শুধু তোকে জানাবো। জানানোর জন্যই ক্যাম্পাসে আসা। আমিও আয়ানকে ভাবি। অস্বীকার করি না আয়ানকে না ভাবার কথা। মুখ ফুটেও বলতে পারি না- দু’দিন থেকে আমি বউ হয়ে আছি। কলেমার বউ।

 

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT