স্বাস্থ্য কুশল

পিত্তথলীর ভেষজ চিকিৎসা

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৪-২০১৯ ইং ০১:২৫:০১ | সংবাদটি ৭৬ বার পঠিত

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে পাঠানোর আগেই পৃথিবীকে মানুষের উপযোগী করে সাজিয়েছেন। মানুষের প্রয়োজন পূরনের জন্য তার দরকারী সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তায়ালা অনর্থক কোন কিছুই সৃষ্টি করেন নি। আমাদের রাস্তার পাশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘাস লতা পাতা এগুলোও তিনি মানুষের উপকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের না জানার কারণে অথবা হিনমণ্যতার কারণে আমরা এর উপকারীতা স্বীকার করে মাওলার প্রসংশায় নিয়োজিত হতে পারি না। আজ আসা যাক আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ পিত্ত নিয়ে আলোচনায়। আজকাল পিত্ত পাথরী, পিত্ত ব্যথা, পিত্ত জ্বালা আরো অনেক রোগ। তাছাড়া পিত্ত জনিত সমস্যার কারণে তলপেটে ব্যথা, গ্যাস, বদহজম, কোষ্ঠবদ্ধতা ইত্যাদি রোগ হয়ে থাকে। আমাদের হাতের নাগালে এবং পরিচিত আল্লাহর দেওয়া অনেক নেয়ামত রয়েছে যা দিয়ে আমরা খুব সহজে উপকার পেতে পারি।
১। শষা : পিত্ত বেশী হলে শষা পাতা ও অল্প মসুর ডাল এক সাথে বেটে অল্প তেলে বড়া বানিয়ে খেলে উপকার হয়। তবে এক্ষেত্রে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করলে ভাল হয়।
২। জাইতুন বা অলিভ : জাইতুনের সাথে আমাদের পিত্তের গঠনগত মিল এবং এর তেলের সাথে পিত্তরসের বর্ণের মিল রয়েছে। অন্যান্য সকল ঔষধ থেকে অলিভ ওয়েল খুব সহজেই পিত্তরস নিঃসরন করে পরিপাক প্রক্রিয়া সহজতর করে। অলিভ ওয়েল পিত্ত থলির অন্যান্য সমস্যা দূরিকরণে সাহায্য করে এবং পিত্তথলির পাথর গঠনে বাধার সৃষ্টি করে। পিত্তথলির সমস্যা নিরাময়ে ২ টেবিল চামচ অলিভ ওয়েল এক কাপ কুসুম গরম পানিতে লেবু সহ মিশিয়ে মিষ্টি ছাড়া প্রতিদিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৩। হরিতকি : অল্প গাওয়া ঘি এর সাথে হরিতকির গুঁড়ো খেলে পিত্ত জনিত ব্যথা ভাল হয়।
৪। কদবেল : কদবেলের কচি পাতার রস ১ চা চামচ করে দু’বেলা খেলে শক্ত কেবল শক্ত হচ্ছে এমন পিত্ত পাথুরী ভাল হয়ে যায়।
৫। বেতোশাক : বেতোশাক প্লীহা বা পিত্তের কারণে যে রোগগুলো হয় তার ্উপকার করে।
৬। নাশপাতি : নাশপাতি দেখতে আমাদের পিত্তের মত। নাশপাতিতে এন্টি অক্সিডেন্ট বিদ্যমান। পিত্ত ক্যান্সার বা পিত্তের অন্যান্য রোগে নাশপাতির জুস বা ফল খুব উপকারী।
৭। গোলাপ : জ্বর হলে, রোদে থাকলে বা বদহজম হলে যদি বমি হয় সাথে জ্বালাপোড়া থাকে তবে আধা ফোটা গোলাপ ফুলের কুঁড়ি ৫-৭ গ্রাম বেটে শরবতের মত খেলে বমি কমে যাবে।
৮। আমড়া : পিত্ত বিকারের কারণে বমি হলে ৫ গ্রাম শুকনো আমড়ার ছাল ১ কাপ গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে ২ ঘন্টা পর ছেঁকে ৩-৪ বার খেলে বমি কমে বমি বন্ধ হবে।
৯। তেতুল : পিত্ত বিকারের কারণে অনেকের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়। এ ক্ষেত্রে এক চা চামচ পরিমাণ তেঁতুল পাতার রসের শরবত খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ভাল হয়ে যায়।
১০। আমলকী : পিত্তে বেদনা হলে এক থেকে দেড় চামচ আমলকীর রসের সাথে সামান্য চি্িন মিশিয়ে খেলে উপকার হয়।
১১। অড়হড় : পিত্ত শ্লেষ্মাজনিক কাশিতে অড়হড় পাতার রস ৭-৮ চামচ একটু গরম করে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
১২। সূর্যমূখী : অলিভ অয়েল অথবা সূর্যমূখীর তেল ৩০ মিঃলিঃ পরিমাণ সকালে খেয়ে ১২০ মিঃলিঃ পরিমাণ আঙ্গুর অথবা লেবুর রস বেশ কয়েকদিন খেলে পিত্ত পাথুরী মুক্ত হওয়া যায়।
১৩। গাজর : গাজর ও কুমড়ার বীজের রস ১০০ মিঃলিঃ পরিমাণ দিনে ২ বার খেলে পিত্তথলির অনেক সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।
১৪। যষ্ঠিমধু : পিত্তে মাঝে মাঝে ব্যথা হয়। এরূপ অবস্থায় ৫-৬ গ্রাম যষ্ঠিমধু থেঁতো করে সামান্য পানি দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে এবং এই পানি এক চামচ চিনি মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
১৫। কালোজাম : কালোজামের রং এবং আকৃতি আমাদের পিত্তের সাথে সাদৃস্যপূর্ণ। পিত্তের বিভিন্ন রোগে কালোজাম উপকারী। পিত্তথলীর রোগে প্রতিদিন ৫-৭ টি কালোজাম খেতে হবে।
১৬। কালো তুলসী : কালো তুলসী পাতার বর্ণ পিত্তের বর্ণের সাথে মিল রয়েছে। কালো তুলসী পাতা পিত্তের বিভিন্ন রোগে খুবই উপকারী। পিত্তের রোগ নিরসনে ১-৩ চামচ কালোতুলসী পাতার রস অথবা ১.৫০-৩ গ্রাম পাউডার সেবন করতে হবে।
১৭। কাকমাচী : কাকমাচী পাতা ও কাঁচা ফলের রং পিত্তের রঙের সাথে মিল রয়েছে। কাকমাচী পাতা পিত্তের বিভিন্ন রোগে খুবই উপকারী। পিত্তের রোগ নিরসনে ১-৩ চামচ কাকমাচী পাতার রস অথবা ১.৫০-৩ গ্রাম পাউডার সেবন করতে হবে।
১৮। কালোকেশী : কালোকেশী পাতার রস আমাদের পিত্তের রসের মত। কালকেশী পাতা পিত্তের বিভিন্ন রোগে খুবই উপকারী। পিত্তের রোগ নিরসনে ১-৩ চামচ কালোকেশী পাতার রস অথবা ১.৫০-৩ গ্রাম পাউডার সেবন করতে হবে।
১৯। কালোমেঘ : কালোমেঘ পাতার রস আমাদের পিত্তের রসের মত। এমনকি এর স্বাদও আমাদের পিত্ত রসের স্বাদের মত। কালোমেঘ পাতা পিত্তের বিভিন্ন রোগে খুবই কার্যকরী। পিত্তের রোগ নিরসনে ১-৩ চামচ কালোমেঘ পাতার রস অথবা ১.৫০-৩ গ্রাম পাউডার সেবন করতে হবে।
২০। কালো আঙ্গুর : কালো আঙ্গুরের সাথে আমাদের পিত্তের হুবহু মিল রয়েছে। প্রতিদিন ৫-১০ টি কাল আঙ্গুর খেলে পিত্তথলির রোগ নিরাময়ে উপকার হয়।
২১। ভূঁই আমলা : ভূঁই আমলার ফল ও পাতার রস আমাদের পিত্তথলী ও পিত্তথলীর রসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই ভূঁই আমলাকে পিত্তথলী ও কিডনীল পাথর ভাঙ্গার কারিগর বলা হয়। ভূঁই আমলা পিত্তথলীর বিভিন্ন সমস্যা, হেপাটাইটিস রোগ এবং লিভারের সুরক্ষায় কার্যকর। পিত্তথলীর সমস্যায় পুরো গাছটি ছেঁচে রস বের করে দিনে ২-৩ বার সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।

 

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • পিত্তথলীর ভেষজ চিকিৎসা
  • ফুটপাতের শরবত আর চাটনি : সংকটে জনস্বাস্থ্য
  • স্মৃতিশক্তি সমস্যা : করণীয়
  • যক্ষ্মা নির্মূলের এই তো সময়
  • মলদ্বারের রোগে পেটের সমস্যা
  • ব্যথার ওষুধ খাবেন সাবধানে
  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলদেহী প্রসঙ্গ
  • স্বাস্থ্য রক্ষায় খতনা
  • আপনিই সুস্থ রাখতে পারেন আপনার কিডনি
  • এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা
  • মুখের আলসার ও টুথপেস্টের রসায়ন
  • গলার স্বর বসে গেলে
  • মেছতার আধুনিক চিকিৎসা ডাঃ দিদারুল আহসান
  • স্ক্রিনে দীর্ঘসময় শিশুর মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে
  • প্রকৃতির মহৌষধ মধু
  • তাফসিরুল কুরআন
  • প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ
  • শ্বাসকষ্ট কোনো রোগ নয়!
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • শীতে বয়স্কদের সমস্যা
  • Developed by: Sparkle IT