সম্পাদকীয়

অটিজম বিষয়ে সচেতনতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০৪-২০১৯ ইং ০১:২৮:৪৮ | সংবাদটি ৯৯ বার পঠিত


আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি বছর দোসরা এপ্রিল দিবসটি পালিত হয়। অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে প্রতি বছর এপ্রিল মাসের দুই তারিখকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর পর থেকে প্রতি বছর পালিত হচ্ছে দিবসটি। এক সময় অটিজম ছিলো একটি অবহেলিত জনস্বাস্থ্য ইস্যু। এই সম্পর্কে সমাজে ছিলো নেতিবাচক ধারণা। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিশু অটিজম নামের এই নিউরো-ডেভেলাপমেন্ট ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত। বর্তমান সরকার অটিজমে আক্রান্ত শিশুর পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজন ও সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
অটিজম হচ্ছে শিশুদের বিকাশগত একটি সমস্যা। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুরা সাধারণত অপরের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারে না। তারা অতিরিক্ত জেদী হয়ে থাকে এবং নিজেকে বিচ্ছিন্ন ও গুটিয়ে রাখার মানসিকতা সম্পন্ন হয়ে থাকে। অটিজমের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ নেই। তবে গবেষকদের মতে জেনেটিক, নন-জেনেটিক ও পরিবেশগত প্রভাব সমন্বিতভাবে অটিজমের জন্য দায়ী। শিশুর বিকাশে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সৃষ্টি হয়। সাধারণত সামাজিক বিকলতা, কথা বলার প্রতিবন্ধকতা, সীমাবদ্ধ, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং একই ধরনের আচরণ দ্বারা এই রোগ চিহ্নিত হয়। এটা একটা মস্তিষ্কের রোগ, যা সাধারণত একজন ব্যক্তির অন্যদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এই রোগ শৈশবে শুরু হয় বড় হওয়া পর্যন্ত থাকে। অটিস্টিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত লোকদের সাধারণত গুরুত্বপূর্ণভাবে ভাষাগত বাধা থাকে। এক্ষেত্রে সামাজিক ও ভাষা বিনিময়ে প্রতিবন্ধকতা থাকে এবং অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়। এই রোগে আক্রান্তদের বুদ্ধিগত অক্ষমতাও থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, এই রোগ নির্ণয় করা যেমন সহজ নয়, নিরাময়ও তেমনি দুঃসাধ্য। শারীরিক কোন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করা যায় না। মূলত শিশুর আচরণের ওপরই নির্ভর করে এই রোগ নির্ণয় করতে হয়। তাছাড়া, এই রোগের কোন নিরাময় নেই। তবে নিয়মিত ওষুধ সেবনসহ যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চিহ্নিত করলে এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করতে পারলে শিশু অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠে। অর্থাৎ সঠিক চিকিৎসা, থেরাপি এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে শিশুদের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ জীবন আচরণ স্বাভাবিক গ-ির মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব। এক্ষেত্রে অভিভাবকের সচেতনতাই আসল।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT