সম্পাদকীয় যে গর্ভ তোমাকে ধারণ করেছে, সে গর্ভধারিনী মায়ের প্রতি কর্তব্য করো ও শ্রদ্ধা নিবেদন করো। -আল কুরআন

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৪-২০১৯ ইং ০০:৪০:৩১ | সংবাদটি ১৯২ বার পঠিত

আজ তেসরা এপ্রিল, জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের এই দিনে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন এফডিসি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই দিনকে স্মরণ করে ২০১২ সালে প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন করা হয়। এবার সপ্তমবারের মতো দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। একাধারে দিবসটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠা দিবসও। এক সময়ের জমজমাট চলচ্চিত্র শিল্প আজ ‘ধ্বংসের’ পথে। সামাজিক, রাজনৈতিক সুস্থ পরিবেশ গঠনে চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলেও আমাদের দেশে বর্তমানে চলচ্চিত্রের সেই অবস্থা নেই। এখানে যেসব চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে, তার বেশির ভাগই মানসম্মত নয়। অর্থাৎ বেশির ভাগ চলচ্চিত্রই নির্মিত হচ্ছে ব্যবসায়িক চিন্তা মাথায় নিয়ে। অথচ চলচ্চিত্রগুলো সেভাবে ব্যবসাও করতে পারছে না; আবার এগুলো থেকে দর্শকরাও ভালো কিছু আহরণ করতে পারছে না। তাই একে একে সিনেমাহলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, আজকের জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস পালনের গুরুত্ব অনেক।
আমাদের এই ভূখ-ে চলচ্চিত্রের ইতিহাস পুরনো। পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও (তদানিন্তন পূর্ববঙ্গ) ১৮৯০ এর দশকে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯০০ এর দশকে নির্বাক এবং ১৯৫০ এর দশকে সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন শুরু হয়। এখানকার সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে চলচ্চিত্রের প্রায় ৫০ বছর সময় লেগেছিলো। ১৯৫৪ সালে এই ভূ-খ-ের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মুক্তি পায় ১৯৫৬ সালে। ১৯৫৯ সাল থেকে প্রতি বছরই এদেশে বিপুল পরিমাণ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়ে আসছে। এই ধারা অব্যাহত আছে এখনও। তবে চলচ্চিত্রের সেই সময়ের সুদিন এখন নেই। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এদেশে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো শিক্ষা, তথ্য বিনোদন তথা সমাজ সচেতনতামূলক বিভিন্ন বিষয়ের জন্য দর্শকদের মন জয় করে আসছে। মহান ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান কিংবা একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিককে আজও অনুপ্রাণিত করছে যে কোন ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে। এর বাইরেও সমাজসচেতন মূলক অনেক চলচ্চিত্রই নির্মিত হয়েছে যেগুলোর নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। এখন যেসব চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে, তার মধ্যে হাতে গোনা দুয়েকটার নাম উল্লেখ করা যায়, যেগুলোতে নির্মাতাদের মেধা ও মননের ছাপ রয়েছে।
আমাদের এই ¤্রয়িমান চলচ্চিত্র শিল্পকে জাগিয়ে তুলতে হবে। ভারতীয় ছবির আগ্রাসন কিংবা ইন্টারনেটের যুগেও ভালো ছবি নির্মিত হলে মানুষ হলমুখী হবে, এতে সন্দেহ নেই। যথাযথ শিল্পমান ও কারিগরী দক্ষতা সম্পন্ন চলচ্চিত্র তৈরি হলে দর্শকেরা ভারতীয় ছবির দিকে ঝুঁকবে না। আর এ জন্য দরকার সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ববোধ। সর্বোপরি মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিরা যদি এই শিল্পে মনোনিবেশ করেন, তবে ভালো কিছু সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। এ ব্যাপারে সরকারের যথাযথ সহযোগিতারও দরকার রয়েছে। আশার কথা হলো, প্রধানমন্ত্রী ইতোপূর্বে ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হোক; জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের প্রাক্কালে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT