সম্পাদকীয়

তীব্র পানি সংকট আসন্ন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৪-২০১৯ ইং ০০:০৯:০১ | সংবাদটি ১৭৯ বার পঠিত

তীব্র হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি সংকট। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নামছে। দেশের অসংখ্য নলকূপে পানি উঠছে না। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাত্রা যতো বাড়ছে পানির স্তর ততোই নীচে নামছে। চলতি শুষ্ক মওসুমে সংকট আরও তীব্রতর হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে কোন নিয়ম কানুন না থাকায়, নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যাচ্ছেতাইভাবে নলকূপ বসানো হচ্ছে; উত্তোলন করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি। এতে ভূগর্ভে পানির রিজার্ভ কমছে, সেই সঙ্গে এই পানিতে আর্সেনিকের আগ্রাসন দিন দিন বাড়ছে। অপরদিকে ভূ-পৃষ্ঠের পানির উৎস সংকুচিত হচ্ছে। পুকুর, ডোবা, খাল, বিল, হাওর, নদী ভরাট হচ্ছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার জায়গা কমে আসছে। তার সঙ্গে রয়েছে পানি দূষণ। ভূ-পৃষ্ঠের পানি নানাভাবে দূষিত হচ্ছে। সেই হিসেবে আমাদের বিশুদ্ধ পানির সংকট যে দিনে দিনে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক হতেই হবে। এর বিকল্প নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে ২০৫০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা হবে নয়শ’ কোটি। তখন বর্ধিত জনসংখ্যার শতকরা ৫০ ভাগই বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়বে। জীবনের জন্য অপরিহার্য্য এই উপাদান রক্ষা ও সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সহযোগিতা করতে সরকারগুলোর ব্যর্থতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। ভবিষ্যৎ পৃথিবীর পানি সংকটের প্রথম লক্ষণ হবে- যেসব এলাকায় মানুষ সুপেয় পানি পাবে না। সেসব এলাকা থেকে মানুষ গণহারে অন্যত্র চলে যাবে। এ নিয়ে বাড়বে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিজ্ঞানীরা বলছেন ক্রমেই অপ্রতুল হয়ে ওঠা পানি সম্পদ ব্যবহারে বর্তমানের অব্যবস্থাপনা ও অপব্যবহারই বিশ্ববাসীকে পানির চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকান্ড যেমন- দখল, দূষণ, নদী ভরাট, বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। মানবসৃষ্ট কারণে ভূগর্ভস্থ পানিও দূষিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের অবস্থা আরও শোচনীয়। এখানে নদ-নদী ও খাল-বিলে অবস্থিত পানের উপযোগী মিঠাপানির পরিমাণ খুবই সামান্য। এর পরিমাণ শতকরা শূন্য দশমিক শূন্য এক ভাগ। নদীসহ জলাশয়ের পাশে অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা থেকে সৃষ্ট আবর্জনা ও বিষাক্ত পদার্থ পানিতে মিশে দূষিত করছে পানিকে।
আমাদের দেশে নিরাপদ পানির প্রধান উৎস হচ্ছে নলকূপের পানি। কিন্তু সেটাও আর নিরাপদ থাকছে না। এর কারণ একেতো পানির স্তর নামছে, দ্বিতীয়ত আর্সেনিক। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়াই বাংলাদেশে সেচের শতকরা ৮০ ভাগ এবং পান করার শতকরা ৯৮ ভাগ পানি মাটির নীচ থেকে তোলা হচ্ছে। তাই ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পুকুর, ডোবা, হাওর, বিল ও নদীর পানি নিরাপদ রাখার পাশাপাশি এগুলোকে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ জলাশয় হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জের গুরুত্বপূর্ণ আধার। সেই সঙ্গে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা সারা বছর ব্যবহারের দিকে ঝুঁকতে হবে। তা না হলে পানি বিপর্যয় অত্যাসন্ন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT