সম্পাদকীয় বন্ধু থাকা ভালো, কারণ প্রয়োজনের সময় বন্ধুরাই এগিয়ে আসে। -ফ্লেচার

সীমান্তহাট প্রসঙ্গে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৪-২০১৯ ইং ০১:১২:৩৯ | সংবাদটি ১১০ বার পঠিত

সীমান্তে আরও ছয়টি হাট বসছে। বর্তমানে চালু রয়েছে চারটি সীমান্তহাট। তার সঙ্গে ছয়টি যুক্ত হয়ে সীমান্তহাটের সংখ্যা দাঁড়াবে দশটিতে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বর্তমানে চালু হাটগুলোতে দু’দেশের পণ্য কেনাবেচা জনপ্রিয় হওয়ায় নতুন ছয়টি সীমান্তহাট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানের সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম ও ফেনীতে চারটি সীমান্তহাট চালু রয়েছে। এই হাটগুলো ভারতের মেঘালয় ত্রিপুরা সীমান্তের সঙ্গে সংযুক্ত। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গত বছরের জুলাই মাসে আগরতলায় বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে আরও ছয়টি সীমান্তহাট বসানোর ব্যাপারে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এ নিয়ে কমিটিও গঠন করে দু’দেশের কর্তৃপক্ষ। নতুন সীমান্তহাটগুলো চালু হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দু’দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বৈষম্য দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনাটি শুরু হয় প্রায় এক দশক আগে। ২০১০ সালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর লক্ষে সীমান্তহাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে বছর অক্টোবর মাসে সীমান্ত হাট স্থাপনের ব্যাপারে উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে চারটি সীমান্তহাট বসানো হয়। হাটগুলো চালু হওয়ার পর থেকেই জমে ওঠে। উভয় দেশের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম ঘটে ব্যাপকভাবে। শুরুর দিকের এই ব্যস্ততা আস্তে আস্তে কমে আসে। পরবর্তীতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে চোরাকারবারীদের চোরাই পণ্য আনা নেওয়ায় রুট হিসেবে সীমান্তহাট ব্যবহারের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্টদের। তাছাড়া, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হাটগুলোতে পুরোপুরি প্রভাব বিস্তার করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা সেখানে তেমন কোন সুবিধা আদায় করতে পারেনা। আর ভারতীয় শাড়ীতে সীমান্ত হাট দখল করার কথাও শোনা যায়। সীমান্তহাটের প্রধান প্রধান পণ্য শাড়ী, লুঙ্গি, জুতা ইত্যাদি। প্রত্যেক ক্রেতা একশ’ ডলার থেকে সর্বোচ্চ তিনশ’ ডলারের কিনতে পারবেন। দুই দেশের পাঁচ কিলোমিটার সীমান্তের ক্রেতারা হাটে পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।
সীমান্ত দিয়ে চোরাই পণ্য আদান প্রদান হয়। নানা ধরনের পণ্যদ্রব্য আসছে চোরাই পথে। আবার এদেশ থেকেও পাচার হচ্ছে পণ্য সামগ্রী। এই ধারা শুরু হয়েছে অতীত থেকেই। সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য আটক করছে। সীমান্তহাট চালু হওয়ার পর চোরাকারবারীরা চোরাই পণ্য আদান-প্রদানের জন্য এই হাটগুলো ব্যবহার করতে পারে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আশংকা করা হয়েছিলো। এই আশংকা রয়েছে এখনও। এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে উভয় দেশের পণ্য যাতে সমানভাবে বিকিকিনির সুযোগ তৈরি হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT