ধর্ম ও জীবন

মানুষের ছবি বিকৃত করা মহাপাপ

মাজহারুল ইসলাম জয়নাল প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৪-২০১৯ ইং ০১:২১:২৫ | সংবাদটি ১৩০ বার পঠিত

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। মহান আল্লাহ তা’আলা মানুষকে সুন্দর অবয়ব ও গঠনের অধিকারী করে সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘আমি মানুষকে সর্বোত্তম সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি। (সূরা : ত্বীন, আয়াত : ৪)
মহান আল্লাহ তা’আলা অন্য কোন সৃষ্টিকে এতো সুন্দর আকৃতি আর গঠনশৈলী দিয়ে তৈরি করেননি। দুঃখজনক হলেও সত্য আজকাল মানুষের ছবি বিকৃত করা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের মতপার্থক্য, মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিংবা একজন বক্তার বক্তব্যের সাথে আপনার দ্বিমত থাকতেই পারে, তাই বলে একজন মানুষের ছবি বিকৃত করা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের ছবি বিকৃত করা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন করার শামিল। যে কোন ব্যক্তির বক্তব্য, কথা-বার্তা, আচার-আচরণ, আপনার প্রছন্দ না হতেই পারে। সেজন্য কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার ইসলামে রয়েছে।
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, প্রকৃতপক্ষে সমস্ত মুসলিম ভাই ভাই। সুতরাং তোমরা তোমাদের ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও, আল্লাহকে ভয় কর। যাতে তোমাদের প্রতি রহমতের আচরণ করা হয়। হে মুমীনগণ! কোন পুরুষকে উপহাস করোনা সে তার চেয়েও উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারীও যেন অপর নারীকে উপহাস না করে। সে তার চেয়ে উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না, এবং একে অন্যকে মন্দ নামে বা উপাধীতে ডেকোনা। যারা এসব হতে বিরত না হবে তারাই জালেম। (সুরা : হুজারত, আয়াত : ১০-১১)
প্রিয় নবী সা. বলেন, ‘এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের জানমাল ও সম্মান হারাম (মুসলিম ৬৩৫৮)। উক্ত আয়াত ও হাদীস হতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, কোন মুসলমানের দোষ চর্চা করা, মন্দ নামে ডাকা কিংবা জান মালেল ক্ষতি করা স্পষ্ট হারাম।
প্রিয় পাঠক! চিন্তা করুন যেখানে ইসলাম কাউকে মন্দ নামে ডাকাকে নিষেধ করে, সেখানে অন্য মুসলমান ভাইয়ের ছবি বিকৃত করা কত বড় অন্যায় কাজ। কারো বক্তব্য কুরআন-হাদিসের বক্তব্যের বিরোধী বক্তব্য যদি হয়, সেজন্য অবশ্য তিনি গোনাহগার হবেন। আর তিনি যদি তার বক্তব্যের ভুল বুঝতে পেরে তাওবা করেন তাহলে রহমান আল্লাহ তা’আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু তাই বলে আমি বা আমরা আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের ছবি বিকৃত করছি তা মোটেও জায়েজ নেই। ইসলামে কঠোর নিষেধ থাকা সত্ত্বেও দেখা যায়, সাধারণ মানুষতো বটে অনেক ইসলামী দলের নেতারা প্রর্যন্ত কারো বক্তব্যে তাদের নিজেদের মতের অনুকূলে না হলেই তার ছবিকে বিকৃত করা হয়। অনেকে মানুষের ছবিকে বিকৃত করে, কুকুর, বানর, ছাগল, বিচ্ছু ইত্যাদি জীব-জন্তুর রূপ দিয়ে ফেসবুকে আপলোড দিচ্ছেন। যারা এরকম জঘন্য গুনাহের কাজকে নিজেদের সামান্য তুষ্টির জন্য ছবি বিকৃত করছেন তাদেরকে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আদালতে অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। কেননা আল্লাহ তার সৃষ্ট মানুষের ছবিকে জীব-জন্তুর ছবিতে রূপান্তর করার অপরাধকে সহ্য করেন না। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনÑ‘আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি’ (সুরা বণী ইসরাইল, আয়াত : ৭০)।
স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা যেখানে মানুষের মর্যাদা দান করেছেন, সৌন্দর্য-শ্রেষ্টত্ব দিয়ে পরিপূর্ণতা দান করেছেন। সেখানে আমরা কেনো অন্য মানুষের চরিত্র হননের জন্য তাকে জীব-জন্তুর আকৃতিতে রূপান্তর করবো। কারো সাথে আপনার রাজনৈতিক, ধর্মীয়, আকিদা-বিশ্বাসের অমিল থাকতেই পারে; সেটা স্বাভাবিক, কেননা মহান আল্লাহ তা’আলা মানুষকে ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রদান করেছেন। তার ব্যক্তি জীবনের আমল অনুযায়ী পরকালে তার জন্য রয়েছে জান্নাত অথবা জাহান্নাম। দুঃখজনক হলে সত্য আজকাল তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশবরেণ্য আলেম-উলামাদের ছবি প্রর্যন্ত বিকৃত করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ, শুধু আপনার কিংবা বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতিকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নয়; বরং একজন সাধারণ মানুষের ছবি বিকৃতিকারীর বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তির আইনে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো উচিত। শান্তির ধর্ম ইসলাম কখনো কোনো মানুষের (হউক সে মুসলমান কিংবা অন্য কোন ধর্মের) দৈহিক অবয়ব বিকৃত করে ব্যঙ্গাত্মক ভাবে উপস্থাপন করে তাকে অপমানিত কিংবা হাসির পাত্রে পরিণত করা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।
অতএব আসুন আমরা কারো ইজ্জত, সম্মানের হানি হয় এমন ধরনের কোনো কাজ যাতে না করি। ছবি বিকৃতিকারীর বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনানুগভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে মানুষের ছবি বিকৃত করার মহাপাপ হতে রক্ষা করুন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT