ধর্ম ও জীবন

আল কুরআনে সামাজিকতার সবক

 ইবাদ বিন সিদ্দিক প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৪-২০১৯ ইং ০১:২৫:৫০ | সংবাদটি ৫৪ বার পঠিত

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সাথে মিশেই গড়ে নিতে হয় জীবন। নিজেকে পরিচালনা করতে হয় আদব-আখলাকে, কথাবার্তায়, চলাফেরায় সামাজিকতার আদর্শ রূপে। যে আদর্শে থাকবে নৈতিকতা, উত্তম চরিত্রের বাস্তব প্রকাশ, সে আদর্শকেই লালন করে জীবনকে করতে হয় সুন্দর। যোগ্যতা আর সামাজিকতা এক নয়; দু’টি বিষয়। কেউ জ্ঞানী বা যোগ্য হলেই সামাজিক হয়ে ওঠে না। তাকে সমাজিকতার সবক নিয়ে চলতে হয়।
পৃথিবীর ইতিহাসে ‘ইসলাম ধর্ম’র চেয়ে সর্বাধুনিক ও সামাজিক কোনো ধর্ম হতে পারে না। কুরআন-সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরামের আদর্শ থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায় সুস্পষ্ট। আজ যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো সেটা হচ্ছে ‘মুকতাযায়ে হাল’ বা স্থান-কাল-পাত্রের ভেদজ্ঞান। সোজা কথায় কার সামনে কীভাবে কথা বলতে হয় সে বিষয়ে। তো চলুন মূল কথায় যাই। মহাগ্রন্থ আলকুরআনের সুরা হুজরাতে উল্লেখ আছে ‘হে মু’মিনগণ! নিজেদের আওয়াজ রাসুলের আওয়াজের চেয়ে উঁচু করো না এবং উচ্চস্বরে নবীর সাথে কথা বলো না, যেমন তোমরা নিজেরা পরস্পর বলে থাকো। এমন যেন না হয় যে, তোমাদের অজান্তেই তোমাদের সব কাজ-কর্ম ধ্বংস হয়ে যায়।’
যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসে ওঠাবসা ও যাতায়াত করতেন তাদেরকে এ আদব-কায়দা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া হয়েছিলো। এর উদ্দেশ্য ছিল নবির সাথে দেখাÑসাক্ষাৎ ও কথাবার্তার সময় যেনো ঈমানদাররা তাঁর সম্মান ও মর্যাদার প্রতি লক্ষ রাখেন। কারো কণ্ঠ যেনো তাঁর কণ্ঠ থেকে উঁচু না হয়। তাঁকে সম্বোধন করতে গিয়ে কেউ যেনো একথা ভুলে না যায় যে, সে কোনো সাধারণ মানুষ বা সমকক্ষ কাউকে নয়, বরং আল্লাহর রাসুলকে সম্বোধন করে কথা বলছে। সে যেন সচেতন থাকে সাধারণ মানুষের সাথে তার কথাবার্তা এবং আল্লাহর রসুলের সাথে কথাবার্তার মধ্যে পার্থক্য থাকে। সে যেন তাঁর সাথে উচ্চস্বরে কথাবার্তা না বলে।
যদিও এ আদব কায়দাগুলো শেখানো হয়েছিল নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসের জন্য এবং সম্বোধন করা হয়েছিলো নবীর যুগের লোকদেরকে। কিন্তু যখনই নবির আলোচনা হবে কিংবা তাঁর কোনো নির্দেশ শুনানো হবে অথবা তাঁর হাদিসসমূহ বর্ণনা করা হবে এরূপ সকল ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ের লোকদেরও এ আদব-কায়দাই অনুসরণ করতে হবে। তাছাড়া নিজের চেয়ে উচ্চ মর্যাদার লোকদের সাথে কথাবার্তা ও আলাপ-আলোচনার সময় কী কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে এ আয়াত থেকে সে ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। কেউ তার বন্ধুদের সাথে কিংবা সাধারণ মানুষের সাথে যেভাবে কথাবার্তা বলে, তার কাছে সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিদের সাথেও যদি একইভাবে কথাবার্তা বলে তাহলে তা প্রমাণ করে যে, সে শিষ্টাচার শিখে নাই। অন্য কথায় ব্যক্তির প্রতি তার মনে কোন সম্মানবোধ নেই। সে তার নিজের ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোন পার্থক্য করার যোগ্যতা রাখে না।
আমার যতদূর মনে হয়, আমরা পূর্ণ সামাজিক হয়ে ওঠতে পারিনি। আমাদের আচরণে ঘাটতি রয়েছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, আমার চেয়ে সম্মানী, মুরব্বি বা বয়সে বড়দের সাথে তারতম্য বজায় রেখে কথা বলা। আদব রক্ষা করে পরিবেশ বুঝে নিজেকে জাহির করা। হতে পারে সেটা সরলতা থেকেও। কিন্তু অন্যজন উল্টো বুঝতে পারে। বেয়াড়া ধরে নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা উচিত। বড়দের সামনে নিরবতাই উত্তম আদর্শ। পরিবেশ সেরকম হলে বা সুযোগ হলে অসুবিধে নেই। কিন্তু তার আগেই জোরেশোরে কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত। বেয়াদবি বা অশিষ্ট আচরণ যেনো না হয়। আল্লাহ আমাদের সঠিক আমল করার তাওফিক দান করুন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT