সম্পাদকীয়

প্রসঙ্গ : ভূমি ব্যবস্থাপনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৪-২০১৯ ইং ০০:২১:৩৯ | সংবাদটি ২১২ বার পঠিত

ভূমি ব্যবস্থাপনায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলো আরএস খতিয়ানের কপি সরবরাহে অনলাইন পদ্ধতি চালু। তাছাড়া, এখন থেকে জমির খতিয়ানে বাবার নামের সঙ্গে মায়ের নামও যুক্ত হচ্ছে। ভূমির মালিকের সম্পত্তির সুরক্ষায় জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা নাগরিকের জন্ম রেজিস্ট্রেশন খতিয়ানে উল্লেখ করতে হবে। সেই সঙ্গে ভূমির শ্রেণি এক হাজার একশ ২৪টি থেকে কমিয়ে ১৬টি করা হয়েছে। হয়রানী বন্ধে ভূমির জটিলতা দূর করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। জমির বিদ্যমান খতিয়ান ফরম আরও সহজ ও যুগোপযোগী করণের লক্ষে ফরমটি সংশোধন করা হয়েছে। আগে বাবার নাম ও ঠিকানা থাকতো; এখন থেকে মায়ের নাম যুক্ত করা হয়েছে। এতে জমির মালিকানায় মায়ের ও বোনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ভূমির মালিকের সম্পত্তির সুরক্ষায় জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা নাগরিকের জন্ম রেজিস্ট্রেশন খতিয়ানে উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে যখন গেজেট হবে তখন যে কেউ অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা নাগরিকের জন্ম রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ক্লিক করলে খতিয়ান দেখতে পারবে। এছাড়া, জমির শ্রেণিসংখ্যা কমিয়ে বন, পাহাড়, নদী, জলাভূমি, রাস্তা, টার্মিনাল, বন্দর, আবাদি, আবাসিক, অফিস, বাণিজ্যিক, শিল্প, বিনোদনকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্মৃতিস্তম্ভ ও ধর্মীয় স্থান-এই ১৬টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে।
বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন তথা ডিজিটাল করতে নানা ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। এর অনেকটা সুফলই এখন ভোগ করতে পারছে মানুষ; এই ধরনের দাবি সরকারের সংশ্লিষ্টদের। কিছুদিন আগে ‘হাতের মুঠোয় খতিয়ান’ এই শ্লোগানে খতিয়ান অনলাইনে অবমুক্ত করা হয়। উদ্বোধনকালে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এই পদ্ধতির মাধ্যমে অনলাইনে নামজারির আবেদন, নির্ধারিত সময়ে মামলা নিষ্পত্তি, তদারকি, অনলাইন পেমেন্ট করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, নির্ভুলভাবে সম্পত্তি বন্টন হিসাব, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে খতিয়ান বা পর্চার তথ্য দেখা ও অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমার তথ্য অনলাইনে পাওয়ার সুবিধা ইতোমধ্যেই চালু হয়েছে। অর্থাৎ বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা চালু হচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য। ভূমি সংক্রান্ত সেবা দিতেই সরকারের এতো আয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই করুন। এদেশের মানুষ সরকারি বিভিন্ন ধরনের সেবা পেতে অপরিসীম হয়রানীর শিকার হচ্ছে। এটা অতীতেও ছিলো। তবে বর্তমানে হয়রানীর মাত্রা শুধু বেড়েই চলেছে। এদেশের বিভিন্ন আদালতে যতোগুলো মামলা হচ্ছে তার আশি ভাগই ভূমি সংক্রান্ত। তাই এখানে অন্য যেকোন বিষয়ের তুলনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের পরিমাণ অনেক বেশি। এরই সুযোগ ভূমি মালিকেরা সরকারি লোকজনের কাছে নাস্তানাবুদ হচ্ছে; ভূমি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ দেওয়ার পরও অনেকের বৈধ সম্পত্তি হাতছাড়া হচ্ছে।
সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানা ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি বিভাগ ভূমি বিভাগের আধুনিকায়নের কাজ করা হচ্ছে। যদিও সরকার দাবি করছে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের সুবিধা মানুষ ভোগ করছে। কিন্তু বাস্তবে নিরীহ মানুষের হয়রানী কমেনি। ভূমি বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগ্রাসী আচরণের কাছে মানুষ এখনও অসহায়। যতই পদ্ধতি আধুনিক করা হোক না কেন, দুর্নীতিবাজ চক্র অবৈধ অর্থ পকেটে পোরার একটা পথ বের করবেই। সুতরাং ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজ চাকুরীজীবীদের দুর্নীতির কালো হাত না কাটা পর্যন্ত মানুষের হয়রানী বন্ধ হবেনা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT