সম্পাদকীয় যে ব্যক্তি অন্তরকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছে, নিশ্চয়ই বেহেশত তার শান্তিনিকেতন। -আল কুরআন

চৈত্র্যেই কালবৈশাখী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৪-২০১৯ ইং ০০:১১:২২ | সংবাদটি ১৯০ বার পঠিত

চৈত্রেই শুরু হয়েছে কালবৈশাখী। গত কয়েকদিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে কালবৈশাখী ঝড়, তুফান বজ্রপাত। সাধারণত বৈশাখ মাসেই এদেশে হয়ে থাকে কালবৈশাখীসহ নানা দুর্যোগ। এটা চিরাচরিত নিয়ম। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সব নিয়মেরই ব্যত্যয় ঘটছে। বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগ-দুর্বিপাকের মাত্রা বেড়ে গেছে; পরিবর্তিত হচ্ছে এর সময়সূচি। ফাল্গুন মাসেও ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এই সবকিছু ছাপিয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে বজ্রপাত ওঠে এসেছে মাথার ওপরে। বজ্রপাতের মাত্রা ও ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি এপ্রিল মাস জুড়েই প্রবল কালবৈশাখী ঝড়, সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত বা বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি, অকাল বন্যা ও তাপদাহে বৈরী আবহাওয়ার আশংকা রয়েছে। অথচ এইসব দুর্যোগ-দুর্বিপাক মাথায় নিয়েই টিকে আছে এদেশের মানুষ। দুর্যোগ আছে, থাকবে। কিন্তু দুর্যোগ মোকাবেলার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরী।
শুধু এপ্রিল মাসই নয়, পরবর্তী কয়েক মাসই নানা ধরনের দুর্যোগ অব্যাহত থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ের দুর্যোগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মার্চ মাস থেকে শুরু করে পুরো বর্ষা ঋতু অর্থাৎ জুন-জুলাই পর্যন্ত নানা ধরনের দুর্যোগ অব্যাহত থাকে। আর বজ্রপাতের ক্ষেত্রে দেখা যায় মার্চ থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত দুই থেকে তিন দিন মাঝারি থেকে প্রবল আকারে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রঝড় হতে পারে। দেশের অন্যত্র পাঁচ থেকে ছয়দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ঝড় বা বজ্রঝড় হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া চলতি মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপদাহ বয়ে যেতে পারে। এই সময় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতেও পারে। দেশের অন্যত্র এক থেকে দু’টি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। যেখানে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে। বঙ্গোপসাগরে চলতি মাসে একাধিক নি¤œচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তাছাড়া, এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে এবং সিলেটসহ উত্তর পূর্বাঞ্চলে অকাল বন্যারও আশংকা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধ করা বা ঠেকানো যায় না। তবে দুর্যোগ পরিস্থিতি সঠিক সময়ে মোকাবেলায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেকাংশে কমানো যায়। এ জন্য আমাদের সতর্কীকরণ ও প্রাক-প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
আবহমানকাল থেকে এদেশের মানুষ নানা ধরনের দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই বেঁচে আছে। ঝড়, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, সাইক্লোন, টর্নেডো ইত্যাদি বলা যায় এই ভূ-খ-ের মানুষের নিত্যসঙ্গী। এসবের মধ্যেই জীবন গড়ে, সংসার সাজায় মানুষ। বন্যা কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙ্গে যায় সেই সাজানো সংসার, আবার গড়ে তোলা হয়। এই ভাঙ্গাগড়ার খেলা চিরন্তন। এটা অতীতে ছিলো, আছে এখনও, আগামীতেও থাকবে। আর তাই দুর্যোগ প্রতিরোধ নয় বরং দুর্যোগে যাতে জানমাল রক্ষা করা যায়, সে ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষ করে বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড় বা ভূমি ধসের মতো যেসব দুর্যোগের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে, এগুলোর ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া, মানুষের কিছু অপরিণামদর্শী আচরণের জন্যও বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টির মতো দুর্যোগের মাত্রা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞগণ বলে আসছেন। সুতরাং সর্বাত্মক সচেতনতার মাধ্যমে কিছু কিছু দুর্যোগের মাত্রা কমানোর জন্য আমাদেরই সক্রিয় হতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT