সম্পাদকীয়

তালিকা হচ্ছে রাজাকারের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৪-২০১৯ ইং ০০:৪৮:১৩ | সংবাদটি ২০৭ বার পঠিত

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে জাতি। এবার উদযাপিত হলো ৪৯তম স্বাধীনতা দিবস। আগামী বছর ৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হবে। যার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। একই সাথে উদযাপিত হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, সব মিলিয়ে আমাদের জাতীয় জীবনে এখন বিরাজ করছে একটা উৎসবের আমেজ। যা অব্যাহত থাকবে আগামী বছর জুড়ে। এমনি এক আনন্দঘন মুহূর্তে জাতির জন্য আরেকটি সুসংবাদ। সেটা হলো- রাজাকারদের তালিকা তৈরি। একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে বাঙ্গালী নিধনযজ্ঞে সহযোগিতা করেছিলো এদেশেরই আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা কিছু লোক। এরা হত্যা, নারী নির্যাতনসহ এমন কোন অপকর্ম নেই, যা করেনি। এই দেশদ্রোহী রাজাকার আলবদর, আল শামসদের তালিকা তৈরির দাবী দীর্ঘদিনের। এর প্রেক্ষিতে এবার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে রাজাকারদের তালিকা তৈরির।
সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়- দেশ স্বাধীনের পর দালাল আইনে জাতির পিতার উদ্যোগে রাজাকার আলবদর, আল শামসদের গ্রেপ্তার ও বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এই প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে যায়, ছাড়া পেয়ে যায় একে একে গ্রেপ্তারকৃত রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সদস্যরা। এক পর্যায়ে বিস্মৃতির অতলে চলে যায় রাজাকার তালিকা প্রণয়নের কাজ। বরং তখনকার ক্ষমতাসীন সরকারের সহযোগিতায় প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ সর্বত্র রাজাকারদের দাপট চলতে থাকে। প্রকাশ্যে ও পরোক্ষভাবে তাদের বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগ করার সুযোগও করে দেয় তখনকার সরকার। এতে করে ধ্বংস হয়ে যায় তাদের কুকর্মের অনেক আলামত। শুধু তাই নয়, তখনকার সরকার বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক দালাল দেশদ্রোহীদের বিচারের জন্য তৈরি দালাল আইন বাতিল করে এবং সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারের মুখোমুখি রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের মুক্তি দেয়। সে সময় দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানায় তৈরি করা রাজাকারদের তালিকাও নষ্ট করে দেয়া হয়। বর্তমান সরকার রাজাকারদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তালিকা তৈরি করে পাঠাতে।
এক্ষেত্রে উল্লেখ করা জরুরি, মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও তৈরি হয়নি। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকবার তালিকা সংশোধন হয়েছে। বর্তমানে আরেক দফা সংশোধন হচ্ছে। তালিকায় বিভিন্ন সময় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আবার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নামও বাদ পড়েছে। তাই রাজাকারদের তালিকা তৈরিতেও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর অনেক রাজাকারই যেমন বেঁচে নেই, তেমনি অনেক মুক্তিযোদ্ধাও বেঁচে নেই। সুতরাং যথাযথ সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতেই যাতে তালিকা তৈরি হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী দেশদ্রোহী তথা রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনীর সদস্যরা যেমন, তেমনি তাদের পরবর্তী প্রজন্মও দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এখনও। তাই দেশের মানুষ চায় রাজাকারদের তালিকা তৈরিই শুধু নয়, এদের অপকর্মের বিচারও হোক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT