মহিলা সমাজ

ভালোবাসা নীল

সালেহা রুনী প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৪-২০১৯ ইং ০০:৪৯:০১ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

কয়েকদিন থেকেই বুকের মাঝখানে একটা ব্যথা। ব্যথাটা যে ঠিক কি রকম, তা সঠিকভাবে বলতে পারি না। ব্যথাটা শির শির করে জাগে আবার নিভে যায়। যতবারই আমি ব্যথার ককিয়ে উঠে ডুকরে কাঁদি, তখনই অস্পষ্ট কুয়াশার মতো সবুজ আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। ওর মুখে হাসি, তাড়াতাড়ি চোখটা মুছে নিই।
সবুজ হাসছে দেখে আমি বলতে চাই, সবুজ তুমি হাসছ কেন? কিন্তু আমি বলতে পারিনা। আমার ঠোঁট নড়ে, বুকটা আরও ব্যথা করে উঠে, সবুজ যেন বুঝতে পারে আমার মনের কথা। বলে আমি হাসছি কেন? জানতে চাও পিয়া? একদিন বলেছিলামনা আজ আমার কথা শুনে হাসছো, একদিন তুমি কাঁদবে, আমি হাসবো। সবুজের এই কথা শুনে আমি হু হু করে কাঁদি, কাঁদতে কাঁদতে বুক ভাসিয়ে দিই।
একদিন আমি হু হু করে হাসতাম, হেসে হেসে গড়িয়ে পড়তাম। সবুজ ধমকে বলত ‘পিয়া তুমি এতো হেসো না, তোমার এতো হাসি আমার সহ্য হয় না। ওমা! হাসবো না? তো কাঁদবো নাকি? একদিন তোমাকে কাঁদতে হবে পিয়া। না না আমি কোনোদিন কাঁদবো না সবুজ। কিন্তু আমি যে কাঁদছি পিয়া। আমি জানিনা পিয়া কেন?
কেন নিরাশায় প্রান্তরে ছেয়ে যাওয়া এমন আনন্দের আতিশয্যে বারবার তোমার কাছে ছুটে আসি। তোমাকে ভালোবাসি। আমি তো বেশি কিছু চাইনি। চেয়েছিলাম শুধু তোমার ভালোবাসা। আমি আবার হেসে উঠি। বলি তোমার ছেলেমানুষি কথা শুনলেই আমার হাসি পায়। তুমি আমাকে নিরাশ করলে পিয়া। তুমি আমার কথা শুনলেই হাস পিয়া। একদিন আসবে তুমি কাঁদবে, আমি হাসবো।
না না সবুজ। তুমি এমন কথা বলো না। সবুজ অভিমান করে চলে যায়। মনটা খারাপ হয়ে যায়। আমি সবুজকে বুঝাতে পারি না। ভালোবাসার গলি বড় সরু, এখানে দু’জন পাশাপাশি হাঁটা যায় না, বাস্তব বড় কঠিন। বাস্তবের রূঢ়তার জন্য তোমাকে চলে যেতে হবে। তুমি আমার কাছে থাকতে পারবে না। আমার ভালোবাসার পাখিটাকে মেরে ফেলবে। মিতুলকে আমি ভালোবাসি। ভালোবাসা দিয়ে ও আমার জীবনটাকে ভরিয়ে তুলবে।
অনেকদিন হয় সবুজ আসে না, ওর ঘরে গিয়েও ওকে পাইনি। এমন তো হয় না, দু’দিনেই ওর রাগ ভেঙ্গে যায়। না হয় আমিই রাগ ভাঙ্গিয়ে ফেলতাম, আমার কথা শুনে ও আর রাগ করে থাকতে পারতো না। সবুজ, তুমি বড্ড ছেলেমানুষ। ছোটবেলার খেলার সাথীর সাথে কেউ এভাবে রাগ করে। একেবারে ছেলেমানুষ, কোনো বুদ্ধি নেই। নিজের খুব বুদ্ধি হয়েছে না? সবুজ বলে-বারে হবে না। তবুও তো তোমার একদিন আগে আমার জন্ম। তোমার একদিনের বড় আমি, সম্মান করে কথা বল।
ইশ! আমার পাশে এসে দাঁড়াও। দেখি কে ছোট, কে বড়? বারে তুমি আমার চেয়ে লম্বা না হলে আবার পুরুষ। কিন্তু এবার সবুজের রাগ আর ভাঙ্গে না অনেকক্ষণ হয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ঘর অন্ধকার, সবুজ শুয়ে আছে। এ অসময়ে কেন শুয়ে আছে? শরীর খারাপ নাকি? মাথায় হাত দিলাম।
কে? আমি! ওহ, পিয়া! কি হয়েছে তোমার? এ অসময়ে শুয়ে আছ যে? এমনি ভালো লাগছিল না। ভালো লাগবে কেমন করে। এ অসময়ে কেউ শুয়ে থাকে? সবুজ বলে ‘জান পিয়া আমি একটা স্বপ্ন দেখছিলাম, দেখি কালো কাপড়ে আবৃত একটি মূর্তি আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। আমি ভয় পেয়ে গেলাম, জিজ্ঞেস করলাম তুমি কে? ও কোনো জবাব দিলো না। ঠিক তখনি নীল শাড়ী পরনে চুলগুলি পিঠময় ছড়ানো কপারে মস্ত বড় নীর টিপ দেয়া হাতে একটা লাল গোলাপ নিয়ে একটা মেয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। দেখতে ঠিক তোমার মতো। আমি খুশিতে লাফিয়ে উঠি। ওকে বলি, ‘তোমাকে ভালোবাসি, মেয়েটি হেসেছিলো, বলেছিলাম তোমার ভালোবাসা পেতে চাই’। ও হেসেছিলে! তুমি আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েগেছ। ও হেসেছিলো, তারপর চলে গিয়েছিলো। তখন কালো মূর্তিটি বলেছিলো দেখলে ও তোমাকে ভালোবাসে না। তুমি আমার কাছে এসো। আমি ভালোবাসবো। তোমার কাছে বসবো। তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেব। জিজ্ঞেস করেছিলামÑকে তুমি? কালো মূর্তিটি বলেছিলো, আমি মৃত্যু।
সবুজ আর বলতে পারেনি। ওর কণ্ঠ বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, আমি কিছু বলতে পারিনি। সবুজের কাছে থেকে চলে এসেছিলাম। সবুজ চলে গেল অনেক দূরে। যাবার সময় বলে গেল পিয়া আমি চলে যাচ্ছি। তোমার ভালো চাই। তুমি সুখি হও। আর তোমাকে ভালোবেসে যে অপরাধ করেছি ক্ষমা চাচ্ছি, আমি জানি তুমি মিতুলকে ভালোবাসো। সবুজকে আমি হাসি মুখেই বিদায় দিয়েছিলাম।
অনেক অনেক বৎসর পর সবুজ জানতে চেয়েছিলো আমি কেমন আছি। আমি পারিনি সবুজকে জানাতে আমার কষ্টের কথা, বলতে পারিনি মিতুল ভালোবাসার পাখিটাকে মেরে ফেলছে। তুমি মেরে ফেলবে বলে যে পাখিটাকে সযতনে মিতুলের হাতে দিয়েছিলাম। মিতুল তা ধন দৌলত, বংশ মর্যাদার কাছে গলা টিপে মেরে ফেলেছে, তাই তো বুকে ব্যথা, এতো কান্না, আমার ভালোবাসার জন্য।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT