মহিলা সমাজ

ঘড়ি

লকনা ভূইয়া ঋতু প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৪-২০১৯ ইং ০০:৪৯:২৩ | সংবাদটি ১১৭ বার পঠিত

এখন থেকে প্রায় ২১ বছর আগের ঘটনা। একটি ঘড়ি বদলে দিয়েছিলো দু’টি মানুষের জীবন। মেয়েটির নাম নিতী আর ছেলেটির নাম ধ্রুব।
২১ বছর আগে নিতীর আসার কথা ছিলো, অপেক্ষায় ছিলো ধ্রুব। তার আসার কথা ছিলো রাত ৯টার গাড়িতে আর অপেক্ষায় থাকবে ধ্রুব। মেয়েটি এসেছিলো, ছেলেটি তখনও পৌঁছায়নি। ছেলেটি পৌঁছলো রাত ১০টার পর। ততোক্ষণে মেয়েটা আর সেখানে ছিলো না, চলে গিয়েছিলো হয়তো কোথাও। ছেলেটার ঘড়ি কোনো কারণে ১ ঘণ্টা পিছনে ছিলো, নয়তো তার দেরি হতো না। মেয়েটাও কোথাও চলে যেতো না। এই ঘড়িটার জন্য ছেলেটা নিতীকে হারিয়েছে! ঐ ঘড়িটাকে ধ্রুব’র কাছে এখন হাতকড়া মনে হয়। তারপরেও ঘড়িটা যতœ করে রেখে দিয়েছে একটি আশায়, যদি মেয়েটা ফিরে আসে তাকে প্রমাণ স্বরূপ দেখাবে বলে। ছেলেটা বিশ্বাস করে মেয়েটা একদিন আসবে।
নিতীকে না পাওয়ার পর সে অনেক দামি ঘড়ি কিনেছে, যে ঘড়িটা কখনো বন্ধ বা স্লো হয় না। সেভাবে এই ঘড়িটা যদি ২১ বছর আগে থাকত তবে আমার দেরি হতো না। নীতিকেও আমার হারাতে হতো না। দীর্ঘ ২১ বছর যাবৎ ছেলেটি নিজেকে শাস্তি দেয়, দেরি হওয়া ঘড়ির জন্য। এখন যে কোনো কাজে দামি ঘড়িটি দেখে সব মিলিয়ে নেয়। এখন সে এক মিনিটও নষ্ট করতে প্রস্তুত নয়। মেয়েটির যেখানে আসার কথা, সে প্রতিদিন সেখানে মেয়েটির বেঁধে দেওয়া সময় রাত ৯টায় যায়। যদি সে আসে সেই আশায়, আর যেনো ১ মিনিটও নষ্ট না হয়। ২১ বছরের মধ্যে সে মেয়েটিকে দেখেনি, এমনকি কোনো খবরও পায়নি। কেননা মেয়েটি তার কোনো ঠিকানা রেখে যায়নি। ছেলেটির মন বলে, মেয়েটি একদিন ফোন করবে, আর বলবে, ধ্রুব স্টেশন থেকো রাত ৯টায় আসছি। থেকো সেখানে, ১ মিনিটও যেনো দেরি না হয়। কিন্তু ছেলেটার নতুন নাম্বার ওর জানা নেই। তবে ছেলেটার কোনো কিছুই মেয়েটার অজানা ছিলো না।
আচ্ছা, মেয়েটা সেদিন ছেলেটাকে না পেয়ে চলে গেলো, সে কোথায় গেল? অভিমান, রাগ, আত্মহত্যা, মৃত্যু নাকি অন্য কিছু। অভিমান বা রাগের তো একটা সীমা থাকে। দিন, মাস, বছর, যুগ। তাহলে কি সে বাড়ি ফিরে গিয়ে মায়ের বান্ধবীর বখাটে ছেলেকে বিয়ে করল। কিন্তু না, নিতী বিয়ের পিড়িতে বসার মতো মেয়ে না। ও ছিলো বড় একরোখা মেয়ে। বিয়ে করবে না বলেই ঘর ছেড়ে চলে এসেছিলো। ফিরেই গেল, তাকে কি ভুলে গেল। ভোলার মতো আত্মভোলা মেয়ে সে নয়। কোথায় আছে সে? কোনোভাবে তো একটা খবর পৌঁছাতে পারতো যে, আমি সেদিন এসেছিলাম। তুমি কেনো এলে না? ছেলেটি বলতো; আমি এসেছিলাম, আমার ঘড়ির সময়টা সঠিক ছিলো না। দেখো আমি অপেক্ষায় আছি, তুমি চলে আস। আজো একাকি রয়েগেছি তোমার জন্য। কেনো চলে গিয়েছিলে, অপেক্ষা করতে পারনি ঘণ্টা খানিক? জানো, আমি এখন একটা ঘড়ি কিনেছি। কখনো আর স্লো হবে না। তোমার ৯টা মানে আমারও ৯টা। প্রতিটি ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড বিশ্ব ঘড়ির সাথে মিলিয়ে নিয়েছি। আর দেরি হবে না।
ছেলেটির ভাবনার মতো কিছুই হলো না। এখনো তেমন কিছুই হয়নি। মেয়েটি অনেক দূরে চলে গেছে, যেখান থেকে হয়তো আর ফিরে আসা যায় না। তবে কি মৃত্যু, মানে আত্মহনন, নাকি কারো ভোগের সামগ্রী...! কেননা তখনকার সময় এতোটা সহজ ছিলো না। খুব কঠিন ছিলো যে, একবার রাতে ঘর থেকে বের হলে আর ঘরে ফেরা যেতো না। সে নেই, হয়তো হারিয়ে গেছে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT