সম্পাদকীয়

সিলেট-ঢাকা চার ঘন্টায় ট্রেন ভ্রমণ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৪-২০১৯ ইং ০০:১৬:২৭ | সংবাদটি ১৯১ বার পঠিত


সিলেট-ঢাকা রুটে মাত্র চার ঘন্টায় ট্রেন ভ্রমণ। সেই পরিকল্পনাই করছে সরকার। সিলেট-ঢাকা রুটের সিলেট-আখাউড়া সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ-এ রূপান্তরের মাধ্যমে ভ্রমণের সময় কমানো হবে। জানা গেছে, ১৬ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেট থেকে ঢাকা যেতে আট ঘন্টার পরিবর্তে লাগবে মাত্র চার ঘন্টা। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডাবল লাইন আগে থেকেই বিদ্যমান। এছাড়া ডুয়েলগেজ এর কাজও শুরু হয়েছে। বর্তমানে আখাউড়া-সিলেট রেল লাইনটি জরাজীর্ণ। পাহাড়ি এলাকা থাকায় আঁকাবাঁকা পথ ও অপারেশন জটিলতার কারণে এই রুটে ট্রেনের গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি নয়। লাইনটি ডুয়েলগেজ করা হলে ট্রেনের গতিবেগ ঘন্টায় একশ’ ২০ কিলোমিটারে পৌঁছুবে। আর বর্তমানে ১৩ জোড়া ট্রেনের পরিবর্তে ২৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করতে পারবে। প্রকল্পের আওতায় সিলেট রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনের আধুনিকায়নও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কাজ শেষ হলে এই পথে ট্রেনগুলো ইঞ্জিন পরিবর্তন না করেই বিরতিহীনভাবে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া, রেলপথের পাশে যেসব পাহাড় রয়েছে সেগুলো যাতে ধসে না পড়ে সেজন্য নির্মাণ করা হবে রিটেইনিং ওয়াল।
মোটামুটি জরাজীর্ণ রেললাইন দিয়ে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করছে সিলেট-ঢাকা রুটে। বলা যায়. জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই লাইনে চলাচল করছে। শুধু এই রুটই নয়, সারাদেশের ট্রেন লাইনের অবস্থা একই ধরনের। দেশে সড়ক যোগাযোগের ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে দিন দিন; সেই তুলনায় রেলওয়ের সার্বিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছেনা; বরং ক্রমান্বয়ে আরও শোচনীয় হচ্ছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। তাদের অভাব অভিযোগ যেন শোনার কেউ নেই। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে রেলের নিরাপত্তা। কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীরা প্রায় সময়ই অবৈধ ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীসেবার মান প্রতিনিয়ত নীচের দিকেই নামছে। সেই সঙ্গে রেলপথের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছ। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন শাখা লাইন। সংকুচিত হওয়ার পর এখন রেল লাইনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাতশ’ ৭০ কিলোমিটার। ইতোমধ্যেই ৮/১০টি শাখা লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক স্টেশন। পরিত্যক্ত রেললাইনকে সড়কপথে রূপান্তর করার ঘটনা ঘটেছে। সর্বোপরি, দেড়শ’ বছরের পুরনো এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি প্রায় প্রতি বছরই লোকসান দিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেলওয়ে একটি বিলাসবহুল যোগাযোগের মাধ্যম। ভারতে তুলনামূলক কম ভাড়ায় এসি ট্রেনে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। রেলওয়ে সেখানে লাভজনক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক উল্টো চিত্র।
সিলেট-ঢাকা রেললাইনকে ডুয়েলগেজ লাইনে রূপান্তরিত করা হবে। এতে এ রুটের দূরত্ব কমবে, ভ্রমণের সময় কমবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন। কারণ, সরকারি অনেক প্রকল্পের কথাই শোনা যায়, যেগুলো থাকে শুধু কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। প্রায় এক দশক আগে এশিয়ার ১৮টি দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের কথা শোনা গিয়েছিলো। কিন্তু তা এখন পর্যন্ত বাস্তবের মুখ দেখেনি। এই কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখন সময় এসেছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের। সড়কপথ যতোই বাড়ছে, ততোই বাড়ছে এর ব্যস্ততা। বাড়ছে ঝুঁকিও। এই অবস্থায় রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন করা সময়ের দাবি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT