শিশু মেলা

ক্ষুদে গোয়েন্দা

নিখিল রায় পূজন প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৪-২০১৯ ইং ০০:১৭:২২ | সংবাদটি ১৫১ বার পঠিত



স্কুল ছুটির পর রাতুল তার দুই বন্ধুর সাথে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়ালো ওদের সামনে। গাড়ি থেকে ড্রাইভার মুখ বের করে বললো, ডাক্তার লিটনের বাড়ি কোন দিকে?
রাতুল বললো, আমার বাবা ডাঃ লিটন।
গাড়ির ভিতর থেকে একজন বললেন, গাড়িতে উঠে আয়, তোদের বাড়িতে যাবো।
রাতুল ওর বন্ধুদের নিয়ে গাড়িতে উঠলো। পুলিশ অফিসার বললেন, তোর বাবা আর আমি এক কলেজে পড়তাম। তখন থেকে বন্ধুত্ব। এক সময় ও হলো ডাক্তার, আমি পুলিশ। আমাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় চাকরি করতে হচ্ছে। কিন্তু তোর বাবা খুব ভাগ্যবান। সিলেট জেলার ভিতর বিভিন্ন উপজেলায় চাকরি করে এখন নিজ উপজেলায় চলে এসেছে।
রাতুল পুলিশ কাকুকে নিয়ে বাসায় ঢুকলো। ডাঃ লিটন পুলিশ সুপার মিজানকে দেখে আনন্দিত হলেন। তারপর দু’বন্ধু অনেকক্ষণ গল্প-গুজব করলেন। চা নাস্তার পর দুপুরের ভাত খেয়ে তবেই মিজান কাকু ফিরে গিয়েছিলেন।
মিজান কাকু এমনি এমনি এই গ্রামে আসেননি। আমাদের শান্ত গ্রামটি বেশ কিছুদিন ধরে অশান্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন কারোনা কারো বাড়ি চুরি হচ্ছে। চোররা গোয়ালঘরে ঢুকে গরু ছাগল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের লোকজন রাত জেগে পাহারা দেওয়া শুরু করলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও খুব তৎপর হয়ে উঠলো। এত কিছুর পরও চুরি বন্ধ হলো না। গ্রামের লোকজনের মত পুলিশও অবাক হলো। এত পাহারার মধ্যে চুরি হচ্ছে কিভাবে? চোরেরা গরু ছাগল নিয়ে গ্রাম থেকে বের হচ্ছেই বা কিভাবে?
রাতুলের গোয়েন্দার বই পড়ার খুব শখ। অনেক বই পড়েছে। গোয়েন্দারা বুদ্ধি দিয়ে কী চমৎকারভাবে সব রহস্যের সমাধান করে ফেলে। এই ব্যাপারটি রাতুলের খুব ভালো লাগে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় বড় হয়ে সেও গোয়েন্দা হবে। রাতুল চুরির ব্যাপার নিয়ে অনেক ভেবেছে। চোরেরা গরু ছাগল চুরি করে সাথে সাথে গ্রাম থেকে চলে যাচ্ছে না। গেলে পাহারায় নিয়োজিত গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়ে যেত। তাহলে চুরি করা গরু ছাগল গ্রামের কোথাও জড়ো করে লুকিয়ে রাখছে। পরে সুযোগ বুঝে পাচার করছে। গ্রামে কোথায় রাখতে পারে, এই কথাটি ভাবতে গিয়ে হঠাৎ করে একটা সম্ভাবনা উঁকি দিয়ে উঠে রাতুলের মনে।
খালেদ সাহেবের বিরাট বাড়ি। তিনি বছরখানিক আগে সপরিবারে বিদেশে চলে যাওয়ায় বাড়িটি খালি পড়ে আছে। মাসখানেক আগে একজন ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ী এসে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছে। তারপর থেকে কয়েকজন ভাঙ্গাড়ির লোকজন গ্রামে ফেরি করে পুরাতন জিনিসপত্র কিনে এনে ঐ বাড়িতে জমা করে। সপ্তাহ বা পনের দিন পর সন্ধ্যার দিকে বড় একটি ট্রাক এসে ভাঙ্গাড়ি জিনিসপত্র নিয়ে শহরে চলে যায়। এভাবেই চলছে। রাতুল ভাবছে ভাঙ্গাড়ি ব্যবসার আড়ালে ওরা গরু ছাগল চুরি করছে না তো? কারণ গরু ছাগল লুকিয়ে রাখার জন্য ঐ বিরাট বাড়িতে প্রচুর জায়গা আছে। নিজের অনুমান সত্যি না মিথ্যা, তা যাচাই করার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সন্ধ্যার পর পর রাতুল ওর দুই বন্ধু রতন ও শুভকে নিয়ে প্রাচীরঘেরা বিরাট বাড়িতে প্রবেশ করে। খুব সতর্কতার সহিত বাড়ির প্রতিটি কক্ষ পর্যবেক্ষণ করতে থাকলো। রান্না ঘরে দু’জন লোক রান্নার কাজে ব্যস্ত। পাশের ঘরে কয়েকজন তাস খেলছে আর নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। রাতুল খুব সাবধানে বন্ধুদের নিয়ে একের পর এক কক্ষ দেখছিল আর হতাশ হচ্ছিল। আর মাত্র দুটি কক্ষ দেখার বাকী ছিল। তখনই গরুর হাম্বা ডাক শুনতে পেল। তখনই হতাশার মাঝে আশার আলো জ্বলে উঠলো।
রাতুল ঐ কক্ষের ফাঁক গলে টর্চের আলো ফেললো। সাথে সাথে চমকে উঠলো। বেশ কয়েকটি গরু ও ছাগল সেখানে বাঁধা। রাতুল দ্রুত বন্ধুদের নিয়ে ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। বাড়িতে বাবার মোবাইল থেকে মিজান কাকুকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। কাকু বললেন, আর কারো সাথে এই ঘটনা নিয়ে কোন কথা বলিস না। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।
খুব ভোরে চিৎকার চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙ্গে যায় রাতুলের। শেষ রাতের দিকে পুলিশ খালেদ সাহেবের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে গ্রাম থেকে চুরি হওয়া বেশ কয়েকটি গরু ছাগল উদ্ধার করে। সেই সাথে নয় জন চোরও ধরা পরে। মিজান কাকু নিজে অপারেশন পরিচালনা করেন। গ্রামবাসীর কৌতুহলের সীমা নেই। সবাই অবাক বিস্ময়ে ঘটনা দেখছে। মিজান কাকু কাজ শেষ করে বাবাকে বললেন আমার ক্ষুদে গোয়েন্দা কোথায়? রাতুল সামনে যেতেই কাকু রাতুলকে জড়িয়ে ধরে হাসতে হাসতে বললেন, দেখতে হবেনা কার ভাতিজা। বললেন শীঘ্রই তোকে পুলিশের তরফ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ভালো থাকিস।
বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কাকু গাড়িতে উঠলেন। পুলিশের গাড়ি দ্রুতগতিতে শহর অভিমুখে ছোটে চললো।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT