শিশু মেলা

শাহানের স্বপ্ন

বোরহান বিশ্বাস প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৪-২০১৯ ইং ০০:১৮:৩০ | সংবাদটি ১৭৯ বার পঠিত

শাহানের নিজের তেমন কোনো স্বপ্ন নেই। আর থাকবেই বা কি করে! ক্লাস টুতে পড়া ছোট্ট একটি শিশুর কি আর তেমন স্বপ্ন থাকে! পড়ালেখা কেনো করছে সেটাও শাহানের মাথায় আসে না। সে শুধু জানে স্কুলে না গেলে বাবার বকুনি খেতে হবে। এটা-ওটা চাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। বাবা প্রায়ই বলেন, মন দিয়ে লেখাপড়া করো। মানুষের মতো মানুষ হতে হবে।
শাহান কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না, বাবা কেনো তাকে বার বার এ কথাটি বলেন। সে তো মানুষের মতোই মানুষ। হাত আছে, পা আছে, মাথা আছে, চোখ আছে, সবই তো ঠিক আছে। তারপরও কেনো আবার ওই কথা, বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হবে!
এক রাতে শাহান স্বপ্ন দেখে, বিশালাকৃতির একজন মানুষ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আর উঁচু উঁচু ছাদের বাগানগুলো দেখছে। সবাই তার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। ইয়া লম্বা, দৈত্যের মতো দেখতে। তারও হাত, পা, মাথা সব আছে। সবাই উপরের দিকে তাকিয়ে হা করে তাকে দেখছে। শাহানও ভিড়ের মধ্যে অদ্ভুত মানুষটিকে দেখতে গেল।
এতো বড় মানুষ সে জীবনেও দেখেনি। তাই, ভয়ে জড়োসরো হয়ে রইলো। একেবারেই কাছে গেল না। মানুষটি হাঁটতে হাঁটতে এক সময় অদৃশ্য হয়ে গেল। শাহানের ঘুম ভেঙে গেল। পাশেই বাবা ঘুমাচ্ছেন। স্বপ্নে দেখা বড় আকৃতির মানুষটির সঙ্গে বাবার তুলনা করে শাহান মুচকি হাসলো। অন্য কাতে গিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লো।
সকালে ঘুম থেকে জেগে বাবাকে দেখে শাহান আবারও মুচকি হাসলো। মা কারণ জিজ্ঞেস করতেই শাহান আরো বেশি হাসা শুরু করলো। এবার বাবা জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার! কী হয়েছে, ঘুম থেকে জেগেই শুধু হাসছো! শাহান আবারো হাসে। বাবার ধমক খেয়ে সে অনেক কষ্টে হাসি চেপে রাখে।
বাবার হোন্ডায় চড়ে শাহান স্কুলে যাচ্ছে। আবারো স্বপ্নের কথা মনে হতে সে হাসা শুরু করলো। বাবা হাসির কারণ জিজ্ঞেস করলেন। শাহান হাসি থামিয়ে গম্ভীর থাকার চেষ্টা করলো। বাবা সামনের দিকে তাকিয়ে আবার হোন্ডা চালাচ্ছেন। আবারও হাসি। এবার রাস্তার এক পাশে হোন্ডা থামিয়ে বাবা বললেন, তোমার সমস্যাটা কী? বারবার হাসছো কেনো? শাহান কিছু বলে না। আবার যদি হাসো তো স্কুলে না গিয়ে বাসায় চলে যাব, রেগে বললেন বাবা। মুখ কুঁচকে, দাঁত কামড়ে হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করে শাহান।
ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। টিচার রোল কল করছেন। শাহানের রোল কল হতেই সে ইয়েস স্যার বলে হেসে ফেললো। স্যার এদিক-ওদিক তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার শাহান হাসছো কেনো! শাহান চুপ করে রইলো। স্যার এবার সবার হোমওয়ার্ক দেখছেন। শাহান তার খাতাটি স্যারের সামনে তুলে ধরলো। কোনো ভুল না থাকায় স্যার ‘ভেরি গুড’ লিখে দিলেন। আর বললেন, এই তো ঠিক আছে। মানুষের মতো মানুষ হওয়া চাই।
এ কথা শুনেই শাহান হো হো করে হেসে ওঠলো। তার হাসি দেখে ক্লাসের সবাই হাসতে শুরু করলো। স্যার কিছুটা ইতস্ততার মধ্যে পড়ে গেলেন। ভাবলেন, কোনো ভুল হলো নাকি? শাহানকে আবারও হাসির কারণ জিজ্ঞেস করলেন। সে মাথা নিচু করে চুপ রইলো।
স্কুল শেষে বাসায় ফিরেছে শাহান। ঘরে অতিথি। একজন অতিথি শাহানকে কাছে ডেকে নাম জিজ্ঞেস করলেন। কোন ক্লাসে পড়ো, রোল কতো আরো অনেক কিছু। সবশেষে বললেন, বাবার মতো তোমাকে মানুষ হতে হবে। বড় হতে হবে। শুনে শাহান হেসে উঠলো। মেহমানরা কিছু বুঝে উঠতে পারলেন না। মা কিছুটা বিব্রত। শাহানকে নিয়ে ভেতরে গেলেন। দু’হাত সামনে এনে শক্ত করে ধরে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে? এমন করছো কেনো?
কি মনে করে যেন মা বললেন, কোনো স্বপ্ন দেখেছিলে নাকি? শাহান হেসে বললো হ্যাঁ। মা শাহানের কাছে স্বপ্নের কথা শুনে নিজেও হেসে ওঠলেন। আর বললেন, ওটা কথার কথা বাবা। যে পড়ালেখা করে সে অনেক কিছু জানতে পারে। আর যে অনেক কিছু জানতে পারে সে মানুষের মধ্যে সেরা হয়। তাকেই মানুষের মতো মানুষ বলে সবাই।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT