ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৪-২০১৯ ইং ০১:০৬:১৮ | সংবাদটি ১২৭ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
কিন্তু যে উক্তি ও বাক্যাংশে অর্থই মূল উদ্দেশ্য শব্দ নয়, যদি সেগুলোতে শব্দগত এমন পরিবর্তন করা হয় যাতে অর্থের ক্ষেত্রে কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না, তবে অধিকাংশ মুহাদ্দেসীন ও ফুকাহার মতে এ পরিবর্তন জায়েয। ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও ইমাম আযম (রা.) থেকে ইমাম কুরতুবী উদ্ধৃত করেন যে, হাদিসের অর্থভিত্তিক বর্ণনা জায়েয, কিন্তু শর্ত হচ্ছে এই যে, বর্ণনাকারীকে আরবি ভাষায় পারদর্শী হতে হবে এবং হাদিস বর্ণনার স্থান-কাল-পাত্র সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞাত থাকতে হবেÑযাতে তার ভুলের কারণে অর্থের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য সৃষ্টি না হয়।
উল্লেখিত ৬০তম আয়াতে বলা হয়েছে, হযরত মুসা (আ.) নিজ সম্প্রদায়ের প্রয়োজনে পানির জন্য দোয়া করলে আল্লাহ পাক পানির ব্যবস্থা করে দিলেন। পাথরের উপর লাঠির আঘাতে সাথে সাথে প্র¯্রবণ প্রবাহিত হয়ে পড়ল। এতে বোঝা গেল যে, এস্তেসকা (পানির জন্য প্রার্থনা) এর মূল হল দোয়া। মুসা (আ.) এর শরীয়তেও বিষয়টিকে শুধু দোয়াতেই সীমিত রাখা হয়েছে। যেমন, ইমাম আযম আবু হানিফা (রহ.) বলেন যে, এস্তেসকার মূল হলো পানির জন্য দোয়া করা। এ দোয়া কোন কোন সময়ে এস্তেসকার নামাযের আকারেও করা হয়েছে। যেমন, এস্তেসকার নামাযের উদ্দেশে হুযুর (সা.) এর ঈদগাহে তাশরিফ নেয়া এবং সেখানে নামায, খুৎবা ও দোয়া করার কথা বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। আবার কখনও নামায বাদ দিয়ে শুধু বাহ্যিক অর্থে দোয়া করেই ক্ষান্ত করেছেন। যেমন, বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে যে, হুযুর (সা.) জুমার খুৎবায় পানির জন্য দোয়া করেনÑ ফলে আল্লাহ পাক বৃষ্টি বর্ষণ করেন।
একথা সর্ববাদিসম্মত যে, এস্তেসকা নামাযের আকারে হোক বা দোয়া রূপে হোক তা ক্রীয়াশীল ও গুরুত্ববহ হওয়ার জন্য পাপ থেকে তাওবা, নিজের দীনতা-হীনতা ও দাসত্বসুলভ আচরণের অভিব্যক্তি একান্ত আবশ্যক। পাপে অটল এবং আল্লাহর অবাধ্যতায় অনড় থেকে দোয়া করলে তা ক্রিয়াশীল হবে বলে আশা করার অধিকার কারো নেই।
জ্ঞাতব্য : ৬১ তম আয়াতে বর্ণিত ঘটনাও তীহ উপত্যকা সংশ্লিষ্ট। মান্না ও সালওয়ার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়েই তারা ওসব সব্জী ও শস্যের জন্য আবেদন করল। এ প্রান্তরের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি শহর ছিল। সেখানে গিয়ে চাষাবাদ করে উৎপন্ন ফসলাদি ভোগের নির্দেশ দেয়া হলো।
তাদের লাঞ্চনা-গঞ্জনার মধ্যে এটাও একটা যে, কেয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য ইহুদীদের থেকে রাজ্য ছিনিয়ে নেয়া হলো। অবশ্য কেয়ামতের অব্যবহিত পূর্বে, সর্বমোট চল্লিশ দিনের জন্য নিছক লুটেরা দলের ন্যায় অনিয়মিত ও আইন-শৃঙ্খলা বিবর্জিত, ইহুদীদের কিঞ্চিৎ ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। একে কোন বুদ্ধিমান ও বিবেকবানই রাজ্য বলতে পারবে না। আল্লাহ পাক হযরত মুসা (আ.) এর মাধ্যমে পূর্বেই তাদেরকে সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, যদি নির্দেশ অমান্য কর, তবে চিরকাল তোমরা অন্য জাতির দ্বারা শাসিত হতে থাকবে। যেমন, সূরা আরাফে বলা হয়েছেÑ
‘এবং সে সময়টি স্মরণ করুন, যখন আপনার পালনকর্তা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, নিশ্চয় তিনি ইহুদীদের উপর কেয়ামত পর্যন্ত এমন শাসক প্রেরণ (নিয়োগ) করতে থাকবেন, যারা তাদের প্রতি কঠিন শাস্তি পৌঁছাতে থাকবে।’ বস্তুতঃ বর্তমান ইসরাইল রাষ্ট্রের মর্যাদাও আমেরিকা ও বৃটেনের গোলাম বৈ আর কিছু নয়।
তাছাড়াও বহু নবী বিভিন্ন সময়ে ইহুদীদের হাতে নিহত নিগৃহিত হয়েছেনÑযা নিতান্ত অন্যায় বলে তারা নিজেরাও উপলব্ধি করত, কিন্তু প্রতিহিংসা ও হঠকারিতা তাদেরকে অন্ধ করে রেখেছিলো।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT