ধর্ম ও জীবন

 দোয়া একটি পছন্দনীয় ইবাদাত

কানিজ আমেনা প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৪-২০১৯ ইং ০১:০৯:৩৪ | সংবাদটি ২৩৯ বার পঠিত

আল্লাহ তা’আলার কাছে নামায, রোযার মতো দোয়াও একটি ইবাদাত। অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি ইবাদাত। কেউ কেউ মনে করেন মানুষের জীবনে যা কিছু ঘটে সবই তো পূর্বনির্ধারিত বা ভাগ্য নির্ধারিত। তাহলে দোয়া করে কি হবে? আল্লাহ তা’আলা কুরআনে বলেছেন, ‘এবং তোমার প্রভু বলেন, তোমরা আমার কাছে চাও, আমি তোমাদের চাওয়া পূরণ করবো’। (সুরা : মুমিন-৬০)
বুখারি শরীফের প্রথম হাদিসে এসেছে, ‘প্রত্যেকটি কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। মানুষ তার মনের নিয়ত অনুযায়ী কর্মফল পাবে’। কুরআনে অন্যত্র বলা হয়েছেÑ‘মানুষ ততোটুকুই পায়, যতোটুকুর জন্য সে চেষ্টা করে।’ (সুরা : নাজম-৩৯)
যে জাতি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিজেরা চেষ্টা করে না, আল্লাহ তাদের ভাগ্য এমনিতেই পরিবর্তন করে দেন না’। (সুরা : আনফাল-৫৩)
দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন করা যায় কি না, এ ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, হযরত সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কোন কিছুই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না এবং নেক আমল ছাড়া আর কিছুই হায়াত বৃদ্ধি করতে পারে না। (তিরমিজি)
তাহলে দেখা যাচ্ছে, জীবনে যেকোনো জিনিস পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে মন থেকে আন্তরিকভাবে নিয়ত করতে হবে। পরিকল্পনা করতে হবে। এরপর তা পাওয়ার জন্য যথাসাধ্য পরিশ্রম ও চেষ্টা করতে হবে। হতে পারে তা মানসিক, শারীরিক বা অর্থনৈতিক শ্রম অথবা সব রকমের শ্রমের সমন্বয়। সেই সাথে আল্লাহর কাছে তা পাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত দোয়া করতে হবে। তবেই কাক্সিক্ষত বস্তু অর্জন ও জীবনে সাফল্য লাভ সম্ভব হবে। মানুষের ভাগ্য বা তকদির একটি অত্যন্ত জটিল বিষয়। এটি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা বা গবেষণা করা জরুরিও নয় এবং আল্লাহ তা’আলা তার সৃষ্টির উপর সেই দায়িত্ব অর্পণও করেননি। বরং কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানা যাচ্ছে মানুষের দায়িত্ব হলো সে এই পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে যে আগমন করেছে এই হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য কি। সে সম্পর্কে ইলম বা জ্ঞান অর্জন করা। ইহকাল ও পরকালে সফলতার জন্য কাজ করা, চেষ্টা করা, পরিশ্রম করে যাওয়া। সেই সাথে আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘একবার আমরা তাকদির সম্পর্কে তর্ক-বিতর্ক করছিলাম। এমন সময় হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের কাছে আগমন করলেন। তিনি ভীষণ রেগে গেলেন, তার চেহারা মোবারক এমন লাল হয়ে গেলো যেনো তার দুই গালে বেদানার নিংড়ানো রস মেখে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, ‘এ বিষয়েই কি তোমরা নির্দেশিত হয়েছো? আর আমি কি এ নিয়েই তোমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছি? তোমাদের পূর্ববর্তীরা যখনই এ বিষয়ে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে তখনই তারা ধ্বংস হয়েছে। আমি তোমাদের কঠোরভাবে বলছি, তোমরা আর এ নিয়ে তর্কাতর্কি করবে না’। (তিরমিজি)
আমরা বান্দাহ হিসেবে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা’আলার উপর নির্ভরশীল এবং প্রতিনিয়তই আমরা তার মুখাপেক্ষী। আমরা তার কাছে সব সময় দোয়া করি, সব সময় কিছু না কিছু চাই। তাই দোয়া বিষয়ক কিছু মাসয়ালা আমাদের জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
দোয়া কবুল হওয়ার চারটি শর্ত : ফরজ ইবাদাত নিয়মিত পালন করা। হালাল রুজি গ্রহণ করা। হারাম রুজি বর্জন করা। পিতামাতার আনুগত্য করা
দোয়া করার সময় যা বলা যাবেনা :
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী কোন নেতিবাচক দোয়া করা যাবে না। কোন মন্দ নিয়তে দোয়া করা যাবে না। দোয়া কবুলের জন্য অস্থিরতা প্রকাশ বা তাড়াহুরা করা যাবে না।
বান্দাহ্ যা চায় আল্লাহ্ তা নগদ প্রদান করেন সাথে সাথে বা কিছুটা বিলম্বে। আসলে দ্রুত বা দেরি বলে কিছু নেই। বান্দাহ্র জন্য সঠিক যে সময়ে তার কাক্সিক্ষত বস্তুটি পাওয়া তার জন্য কল্যাণকর হবে আল্লাহ্ তাকে সেই সময়েই তা দান করেন।
দোয়ার বিনিময়ে অন্য কোন বিপদ বান্দাহ্র জীবন থেকে দূর হয়ে যায় যা তার ভাগ্যে নির্ধারিত ছিলো।
যে জিনিসের জন্য দোয়া করা হয় তা পরকালের জন্য জমা থাকে। ইহকালে না পেলেও আল্লাহ্ তা বান্দাহ্কে পরকালে প্রদান করবেন।
দোয়া কবুল হতে দেরি দেখলে :
যখন সঠিক সময় আসবে (যে সময়ের কথা আল্লাহ্ জানেন) তখন দোয়া কবুল হবে। এই ইতিবাচক চিন্তা থেকে দোয়া করে যেতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট চেষ্টা-সাধনা চালিয়ে যেতে হবে।
আল্লাহ্ এটা পছন্দ করেন যে তার বান্দাহ্ তার কাছে বেশি বেশি করে দোয়া করুক। বারবার তার মনের কথা মনের আকুতি-কাকুতি-মিনতির সাথে প্রকাশ করুক। তখন তিনি খুশি হয়ে দয়াপরবশ হয়ে বান্দাহ্কে সে যা চায় তা দিয়ে দেন। তাই বেশি বেশি করে দোয়া করতে হবে।
অনেক সময় বান্দাহ্র ধৈর্য পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ্ বান্দাহ্র দোয়া কবুল করতে সময় নেন। তাই ধৈর্য ও সবর অবলম্বন করে দোয়া চালিয়ে যেতে হবে।
দোয়ার ব্যাপারে আমরা অনেক সময় উদাসীন থাকি। অথচ সৃষ্টিকর্তা এটা সব সময়ই চান যে তার সৃষ্টি দু’হাত তুলে মোনাজাত বা দোয়ার মাধ্যমে তার মনের কথা প্রকাশ করুক। সেইসাথে দোয়ার মাধ্যমে ¯্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির আনুগত্য, নির্ভরশীলতা ও মুখাপেক্ষীতা প্রকাশ পায় যা ¯্রষ্টার কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয়। আপনি দুনিয়াবী কোন পেরেশানিতে আছেন? অহেতুক মানুষের কাছে হাত না পেতে কাকুতি-মিনতি না করে সব দেওয়ার মালিক সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী যিনি তার কাছে হাত তুলে চান, তার কাছে সেজদায় মাথা নত করে চান, তার কাছে রাতের আঁধারে যখন এ বিশ্বচরাচর নিদ্রায় মগ্ন তখন অশ্রু বিসর্জন সহকারে চান। দেখবেন এতে মনেও অনেক প্রশান্তি অর্জিত হবে। মহান আল্লাহ তা’আলা সকলের মনের নেক আশা পূরণ করুন ও দোয়াসমূহ কবুল করে নিন। আমিন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT