সম্পাদকীয়

খাদ্যচক্রে বিষাক্ত পানি

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৪-২০১৯ ইং ০০:১৯:৩৫ | সংবাদটি ১২২ বার পঠিত


বিষাক্ত পানি বিষাক্ত করছে আমাদের খাদ্যচক্রকে। প্রকৃতিতে অর্ধশতাধিক রাসায়নিক উপাদানকে ভারী ধাতু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ধাতুই বিষাক্ত। আর এই বিষাক্ত ধাতুর মধ্যে আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও পারদ পানির মাধ্যমে খাদ্যচক্রে মিশ্রিত হচ্ছে। এতে বিষাক্ত হচ্ছে খাদ্যচক্র। কৃষি জমি, মাছ, গবাদি-পশু বা হাঁস-মুরগীর খামারে ব্যবহৃত পানি নিরাপদ কি-না, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। তারা বলেন, খাওয়ার পানি নিরাপদ রাখতে নানা ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও কৃষিজমি, মাছ, গবাদিপশু বা হাঁস-মুরগীর খাবারে ব্যবহৃত পানি নিরাপদ রাখতে হবে। শুধু দূষিত পানিই যে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তা নয়,বরং আর্সেনিক, কার্বনেট, সিসা, পারদসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য পানির মাধ্যমে সরাসরি বা বিভিন্ন ফল ও ফসলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।
প্রকৃতির বিষাক্ত ধাতু মানবদেহে মারাত্মক রোগের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে কিডনি ও লিভার ক্যান্সার এবং ¯œায়ুর নানা জটিল রোগ-এর বিস্তার ঘটতে পারে এইসব ধাতুর মাধ্যমে। অনেক রাসায়নিকই আগুনের উচ্চ তাপে নষ্ট হয়না। আর্সেনিকের যোগান প্রাকৃতিকভাবে এলেও অন্যসব ক্ষতিকর ধাতু সব ধরনের কীটনাশক বা শিল্প কারখানার বর্জ্য থেকে আসছে। আর্সেনিকের মাধ্যমে কারও শরীরে একবার আর্সেনিকোসিস ঢুকে পড়লে পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব নয়। এর প্রভাবে উদ্ভব হওয়া বিভিন্ন উপসর্গের সাময়িক চিকিৎসা হচ্ছে আমাদের দেশে। এই চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাছাড়া, দেশের বিভিন্ন এলাকায় খামারে পরিবেশন করা পানি ও খাবার থেকে পালিত লেয়ার মুরগীর ভেতরেও প্রবেশ করছে আর্সেনিক। এক্ষেত্রে ৪৮ শতাংশ ঘরে তৈরি খাদ্য এবং ৫২ শতাংশ কমার্শিয়াল খাদ্য দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া, দুই তৃতীয়াংশ মুরগীর ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে শ্যালো-টিউবওয়েলের পানি এবং বাকিটা ডিপ-টিউবওয়েলের পানি। দেখা গেছে, কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ মুরগী বিভিন্ন মাত্রায় আর্সেনিক গ্রহণ করছে। এইসব মুরগীর বিষ্ঠায় ভয়াবহ মাত্রায় আর্সেনিক বিদ্যমান থাকে। তা অনেক সময় মাছের খাবার বা জমিতে সার হিসেবে ব্যবহারের ফলে পানি, মাটি, খাদ্য হয়ে পুনরায় মানুষ ও গবাদি পশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাছাড়া সম্প্রতি পানিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কার্বোনেট ও অর্গোনা ফসফেট জাতীয় কীটনাশক উপাদানের বিষক্রিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
মূলত পানির মাধ্যমেই মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ছে আর্সেনিকসহ অন্যান্য বিষাক্ত ধাতু। এই বিষাক্ত ধাতু গ্রহণে শরীরের বৃদ্ধি ও উন্নয়নে ব্যাঘাত, অঙ্গহানী, ক্যান্সার, ¯œায়ুবিক দুর্বলতা বা ক্ষতি সাধন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। কিছু ভারী ধাতু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে অল্প অল্প পরিমাণে হেভিম্যাটালগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ফলে তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় না। তা স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই খাদ্যে পানিবাহিত হেভিমেটাল পরিস্থিতি নিয়ে ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতা যতোটুকু জরুরি, তার চেয়ে জরুরি হচ্ছে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে গবেষণা এবং সরকারের সচেতনতা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT