উপ সম্পাদকীয়

ঐতিহ্যময় উৎসব পহেলা বৈশাখ

সালেহা আফরিন বেবী প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৪-২০১৯ ইং ০০:৫০:১৮ | সংবাদটি ২১৩ বার পঠিত

ঐ নূতনের কেতন ওড়ে। কাল-বোশেখির ঝড়। জাতীয় কবির এই শব্দ কলির মতোই বাঙালি প্রাণ নতুন বছরকে বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির নানা আয়োজনে রঙে-বর্ণে উৎসবে দেশ জুড়ে আজ বরণ করবো আমরা পহেলা বৈশাখ। আবহমান ঐ বাংলার দিক দিগন্ত ঔজ্জল্যে ভরিয়ে দিতে। আকাশ বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নি ¯œানে শুচি করে তুলতে আবার এসেছে বৈশাখ।
আবহমান ঐ বাংলার বর্ষবরণের উৎসবের আমেজে মুখরিত হবে এ দেশের চারদিক।
আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। তাই কৃষির সঙ্গে বাংলা নববর্ষের ঘনিষ্ঠতা জড়িয়ে আছে।
এই সন প্রবর্তনের সূচনা থেকেই মোগল বাদশাহরা রাজ কাজে ও নথিপত্রে ব্যবহার করতেন হিজরি সন। হিজরি চান্দ্র বছর, যা ন্যূনধিক ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয়। কিন্তু সৌর বছর পূর্ণ হয় ন্যূনধিক ৩৬৫ দিনে। বছরে প্রায় ১১ দিনের পার্থক্য হওয়ায় হিজরি সন আবির্ভূত হয় এবং ৩৩ বছরের মাথায় সৌর বছরের তুলনায় এক বছর বৃদ্ধি পায়।
কৃষি কৃষক এবং ভূমি মালিকদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করতে হলে সারাদেশে একটি অভিন্ন সৌর বছরের প্রয়োজন।
আর ঐ ধারণা থেকেই স¤্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ অথবা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তা কার্যকর হয় তার সিংহাসন আরোহণের সময় অর্থাৎ ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ই নভেম্বর থেকে।
আকবরের নবরতœ সভার আমির ফতেহ উল্লাহ খান সিরাজী বাংলা সন প্রবর্তনের কাজটি সম্পন্ন করেন। প্রথমে এর নাম ছিল ফসলি সন। পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
বৈশাখ নামটি নেয়া হয়েছিল নক্ষত্র বিশাখার নাম থেকে। আর সেই থেকে ক্রমান্বয়ে নববর্ষের ব্যাপ্তি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
এখন এটি রূপান্তর হয়েছে সারাদেশে পালিত লোকজ উৎসবে।
কালের বিবর্তনে নববর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক পুরনো উৎসবেরও বাংলা সন বৈশাখ। ঐ দুটির সঙ্গে হালখাতা জড়িয়ে আছে ঐতিহ্য হয়ে। তবে পুরনো ঐ হালখাতার ঐতিহ্য এখন খুব কমই দেখা যায়।
যদিও অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা।
চিরাচরিত ঐ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়। তবে তা কমে গেছে, বহুলাংশে।
পহেলা বৈশাখ নববর্ষের প্রথম প্রভাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আনন্দময় উৎসবে মেতে উঠে মানুষ। পহেলা বৈশাখ ঐ একটি দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকে সারা বছর।
ঘরে ঘরে নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন। আবহমান লোক সংস্কৃতির ঐতিহ্যময় উৎসবে মেতে উঠা। নবীন সূর্যালোকে উদ্ভাসিত নতুন বছরের প্রথম সকাল। নব আনন্দ বাজুক প্রাণে। আজ মুছে যাক গ্লানি ঘুছে যাক জরা, অগ্নি¯œানে শুচি হোক ধরা এই শুভ কামনায়।
নববর্ষের প্রথম প্রভাতে ঐতিহ্যের উৎসব পহেলা বৈশাখ।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • অপরূপ হেমন্ত
  • বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চাই
  • শ্যামারচরের বধ্যভূমি ও দিরাই-শ্যামারচর রাস্তা
  • Developed by: Sparkle IT