উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

বিচার নয় অভিশাপ

আমীরুল হোসেন খান প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৪-২০১৯ ইং ০০:১৭:৪১ | সংবাদটি ৪৬ বার পঠিত

সবার সব প্রার্থনা বিফল করে চলে গেল নুসরাত জাহান রাফী! খুব করে চাইছিলাম যে করে হোক ফিরে আসুক রাফী। গোটা সমাজ ব্যবস্থায় যেখানে পঁচন সেখানে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়া রাফীকে বড্ড বেশি প্রয়োজন ছিল। সয়ে যাওয়া চেপে যাওয়া কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমৃত্যু প্রতিবাদ করে যাওয়া বোনটি আমার! কোনভাবেই মনকে প্রবোধ দিতে পারছি না। মা বাবা ভাই বোনসহ সবার আর্তনাদে চোখের পাতা ভিজে যায়! কেন এমন মৃত্যু? এমন তো হবার কথা ছিল না! কদিন আগেই লাম্পট্যের অভিযোগে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন সহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ধার্য্য করা হয়। কিন্তু প্রশাসন সহ স্থানীয় প্রভাবশালী দের অখ- নীরবতার শিকার হয় রাফী। স্বাধীনতা বিরোধী একটি দল থেকে বরখাস্ত হয়ে সরকারি দলের ছত্রছায়ায় গড়ে তুলে তার সাম্রাজ্য। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের চাপে একের পর এক অভিযোগ চাপা পড়ে। সে হয়ে উঠে দুর্বিনীত দুঃসাহসী। যার সর্বশেষ করুণ পরিণতি রাফী। ভাবতে কষ্ট হয় সোনাগাজীতে এইসব পশুদের ভীড়ে কোথাও কি কোন মানুষ ছিল না। মৃত্যু এসে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলেও তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর রয়ে যাবে! হয়তো করুণ নৃশংস কিন্তু মাথা উঁচু করে মহান মৃত্যু তাঁর অলংকার!!
গত কছরে ধরে এরকম শ খানেক মৃত্যুর বিচার প্রক্রিয়া আটকে গেছে। প্রতিবার মিডিয়া জুড়ে নিন্দা প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায় সে ঝড় থামতেও বেশি সময় লাগে না। "Justice delayed Justice Denied"! এই অপ্রাপ্তবাক্য আমাদের সমাজ বিচার ব্যবস্থার জন্য বড় বেশি প্রযোজ্য। শুরু হয় দীর্ঘসূত্রীতা।এ সমাজের ধ্বজা প্রতিভুরা সম্পূর্ণ জেনে বুঝেই এই কাজটি করেন। দিন মাস বছরের পর বছর গড়িয়ে যায় সুরতহাল চার্জশীট পুলিশ সিআইডি ঘুরে ঘুরে একসময় মুখ থুবড়ে পড়ে কালের আস্তাকুড়ে। বিচারপ্রক্রিয়াও বালিহারি! কেন জানি না অপরাধ অপরাধীদের আড়াল করতে সর্বোচ্চ ব্যবহার। নির্যাতিতরা আইনের প্রতিভূদের ধারে কাছেও যেতে পারেন না, অথচ অর্থবিত্ত ক্ষমতার দাপটে আইন প্রশাসন বিচার ব্যবস্থা পকেটে নিয়ে ঘুরে। প্রত্যেক মৃত্যু ঘটনার পরম্পরা এক ও অভিন্ন। অপরাধ করেও বিনা বিচারে পার পেয়ে ওরা হয়ে উঠে আরো ভয়ানক আরো নৃশংসতা। বিচারহীনতার অশুভ চক্র থেকে না বেরোনো পর্যন্ত মৃত্যুর মিছিল চলবে।
ঘুণে ধরা পঁচে যাওয়া এ সমাজে কদিন খুব হৈ চৈ হবে। টকশোতে নারী প্রগতিবাদীদের চীৎকার ছবি সাক্ষাৎকার সব শেষ হয়ে যাবে। নিরাপদ দূরত্ব থেকে ততদিন লাফ ঝাঁপ দিবেন যতদিন তারা ক্ষমতার রুদ্র রোষ থেকে নিরাপদ।তারপর মাস গড়িয়ে বছর সবচুপ! রাফীর বাবা মা আমৃত্যু অপেক্ষা করবেন তাঁর মেয়ের হত্যার বিচারের জন্য। তাতে কার কি ক্ষতি বৃদ্ধি হবে! চাইলেই সে সব মেনে নিতে পারত কিন্তু নিজের বিবেক মনুষ্যত্ব সমুন্নত রাখতে তার প্রতিবাদ। একা নিঃসঙ্গ এ অসম যুদ্ধেও সে বিজয়িনী! আমরা যারা অনাদিকাল ধরে মানুষ নামক কীট হয়ে বেঁচে আছি তাদের জীবন কি আদৌ কি কোন মূল্য বহন করে?শেষ নিঃশ্বাসে তাঁর অনুচ্চারিত কণ্ঠের প্রতিটি শব্দ এই সমাজ ও প্রতিভূদের গালে চপেটাঘাত। তুমি কাউকে ক্ষমা করো না রাফী!!!
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে হতাশা দূর করা জরুরি
  • দুর্নীতির কারণে বাড়ছে আয় বৈষম্য
  • রক্তরাঙা পীচঢালা পথ
  • কোন পথে এগোবে ভারত
  • পাটশিল্পের বিপর্যয় কেন?
  • চাকরি প্রার্থীদের নানান সমস্যা
  • শবে বরাত : আমাদের করণীয়
  • শিক্ষকের গায়ে কলঙ্কের দাগ
  • উন্নয়ন হোক দ্রুত : ফললাভ হোক মনমতো
  • হার না মানা জাতি
  • বাংলা বানান নিয়ে কথা
  • আলজেরিয়ার পর সুদানেও স্বৈরশাসকের পতন
  • দেশের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার হাল-চাল
  • ইলিশ : অর্থনীতি উন্নয়নের বড় হাতিয়ার
  • নুসরাত ও আমাদের সমাজ
  • শিশুরাই আমাদের শিক্ষক
  • জ্ঞান বিকাশে সংবাদপত্রের ভূমিকা
  • প্রসঙ্গ : বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এবং আমাদের জাতীয় ঐক্য
  • বজ্রপাত আতঙ্ক ও আমাদের করণীয়
  • সুদান : গণবিপ্লবে স্বৈরশাসক বশিরের পতন
  • Developed by: Sparkle IT