সম্পাদকীয়

‘ডিজিটাল’ প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৪-২০১৯ ইং ০০:১৯:০৫ | সংবাদটি ১৬৭ বার পঠিত

প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে ‘ডিজিটাল’। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে কর্মযজ্ঞ চলছে তারই অংশ হিসেবে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটাল করা হচ্ছে। এর আওতায় সারা দেশের অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেয়া হয়েছে একটি করে ল্যাপটপ। সেই সঙ্গে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর দেয়া হয়েছে ২২ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে। এছাড়া, চলতি বছর সাড়ে পাঁচ হাজার প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে ডিজিটাল ডিভাইস। মূলত এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ডিজিটাল ক্লাস রুম তৈরি করা। এছাড়া, আরও ৩৬ হাজার সাতশ ৪৬টি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর এবং ৫১ হাজার সাউন্ড সিস্টেম কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বত্র ই-মনিটরিং সিস্টেম চালুর লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার ট্যাব সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব শিগগীরই এগুলো বিতরণ করা হবে। সর্বোপরি, ৪৬ হাজার বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম উন্নয়নের জন্য দু’শ ৫৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু এতো কিছুর পরও প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হয়নি প্রত্যাশিতভাবে।
দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় এক লাখ আট হাজার পাঁচশটি। এগুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। আর শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। কিন্তু আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার কাংখিত পর্যায়ে অগ্রগতি হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত হচ্ছে না; যে কারণে শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা যাচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার আগেই অনেক শিশু ঝরে পড়ছে। তাছাড়া ১৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনও স্যানিটেশন সুবিধার বাইরে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ বিদ্যালয়ে। রয়েছে মানসম্মত শিক্ষকের অভাব। শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অথচ এতোসব প্রতিকূলতার মধ্যেও সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার ল্যাপটপ প্রদান করছে; শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে দেয়া হচ্ছে ট্যাব। উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু সরকারের সেই উদ্দেশ্য কতোটুকু সফল হচ্ছে, সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ এ ব্যাপারে সরকারের যথাযথ মনিটরিং নেই।
সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রথম কাজ হলো শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা। পরবর্তী কাজ হলো শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং অন্তত তাদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর তিন দশক পরও বিদ্যালয় বয়সী সব শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। বিনামূল্যে বই প্রদান, মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু কিংবা উপবৃত্তি প্রদানের পরও প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে কেন এই দৈন্যদশা, তা উপলব্ধি করতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিশুদের উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি লেখাপড়ার মান উন্নত করা এবং ডিজিটাল প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার মাধ্যমে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT