প্রথম পাতা বড়লেখায় গাছ উপড়ে বৃদ্ধ নিহত ॥ এয়ারপোর্ট সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত

সিলেট বিভাগে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৪-২০১৯ ইং ০২:১০:০৫ | সংবাদটি ৫৫ বার পঠিত

কালবৈশাখী ঝড়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে নিমার আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কাচা আধাপাকা ঘরবাড়ি। সিলেট আম্বরখানার এয়ারপোর্ট সড়কে গাছ পড়ে কয়েক ঘন্টার জন্য যানচলাচল বন্ধ ছিল। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
গোয়াইনঘাটে কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার রুস্তুমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত কাঁচা ও টিনের চালা বিশিষ্ট ঘরবাড়ি ধসে ও গাছ উপড়ে পড়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়ও এমন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তা-বে বাড়িঘর ছাড়াও ফসলি গাছ-গাছালির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, মৌসুমের স্বাভাবিক ঝড় এটি। সিলেটের উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিক থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় হয়। সকাল ৮টা ১৪ মিনিট থেকে ৯টার মধ্যে খুব অল্প সময়ে প্রায় ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জানান, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। এছাড়া অন্য উপজেলাগুলোতেও ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। তবে সিলেটে ঝড়ে প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, ঝড়ে সিলেট বিমানবন্দর সড়কের লাক্কাতুরা এলাকায় গাছ পড়ে সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ঘন্টা দেড়েকপর গাছ সরানো হলে ফের যান চলাচল শুরু হয়।
বড়লেখা মৌলভীবাজার থেকে নিজস্বসংবাদদাতা জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে নিমার আলী (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার সকাল নয়টায় উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের গৌরনগর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত নিমার আলী ওই এলাকার মৃত জোয়াদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে নিমার আলী বাড়ির উঠোনে ছিলেন। এ সময় প্রচ- ঝড় শুরু হলে ঘরের পাশে থাকা আম গাছের একটি বড় ডাল নিমার আলীর ওপর ভেঙে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আহতাবস্থায় স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, সকালে বড়লেখায় কালবৈশাখীর ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের গাছ পড়ে রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন গাছ কেটে সরিয়ে দিলে পুনরায় যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে তাৎক্ষণিক কালবৈশাখীর ঝড়ে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার বিস্তারিত জানা যায়নি।
ওসমানীনগর থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে এ দুই উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি। উপড়ে গেছে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ লাইন। আহত হয়েছেন বোয়ালজুড় ইউনিয়নের মুকবেলপুর গ্রামের একজন।
গতকাল সোমবার সকালে কালবৈশাখীর তান্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। উপজেলার প্রায় ৫ শতাধিক বাড়িঘর, অসংখ্য গাছ পালা ও বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষকরা আটকা পড়েন ধান ক্ষেতে। ঝড়ের তান্ডবে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে, বিভিন্ন লাইনে গাছ ভেঙ্গে ঝুলে পড়ে।
ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ৮ ইউনিয়নের ৫৭টি গ্রাম ও ২৮ কিলোমিটার এলাকা ঝড়ের তান্ডবে আক্রান্ত হয়েছে। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে ১৭৮টি ঘরবাড়ি এবং ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ১টি মসজিদ ও ১টি ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান,, ঝড়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে আমরা তালিকা তৈরী করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ঊর্ধ্বতন মহলে প্রেরণ করা হয়েছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে।
এদিকে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কাশিকাপন জোনাল অফিসের ডিজিএম ফাইজুল্লা জানান, পল্লী বিদ্যুতের ১৬টি খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। গাছপালা পড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিড়ে গেছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কমীরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।
বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমজি রাসুল খালেক বলেন, ঝড়ের কারণে আমার ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতি হয়েছে। আমার ইউনিয়ন ভবনের টিনের চালও উড়ে গেছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ১৬০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৬টি ঘর। তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সহযোগিতা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা উর্ধ্বতন মহলে প্রেরণ করা হয়েছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: ফেঞ্চুগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। হঠাৎ অন্ধকার করেই প্রচ- বেগে ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য কাঁচা বাড়িঘর ভেঙ্গে পড়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, দোকানপাট, পোল্ট্রি খামার, কাঁচা ও আধাপাকা ঘর। ল-ভ- হয়ে গেছে গাছপালা। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। আমাদের লোকজন মাঠে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাবেন।
এদিকে, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুতের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত পাঁচটি খুঁটি ও বিভিন্ন জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে। সব জায়গায় লোক পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কালবৈখাশী ঝড়ে গতকাল সোমবার ৫ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সহস্রাধিক গাছ-পালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি তার ছিঁড়ে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ফসল।
এলাকাবাসী জানান, ঘন্টাব্যাপী কাল বৈশাখী ঝড়ে জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই, হবিবনগর, ভবানীপুর, যাত্রাপাশা, জগন্নাথপুর, হবিবপুর, কেশবপুর, লুদরপুর, ইসহাকপুরসহ উপজেলার পাইলগাঁও ও চিলাউড়া - হলদিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক কাঁচাঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মধু মিয়া জানান,পাইলগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদ সহ ইউনিয়নের অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতি হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আজিজুল ইসলাম বলেন, কাল বৈশাখী ঝড়ে জগন্নাথপুরের বিদ্যুৎ খুটি ও তার ছিড়ে গেছে। অসংখ্য গাছ গাছালি বিদ্যুতের তার পড়ে আছে। জগন্নাথপুর-সিলেট সংযোগ লাইনে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি স্থানে বিদ্যুতের তারে গাছ পড়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখতে কাজ করছি। কখন বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা নির্মল দাস বলেন, কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে হাওরের প্রচুর পরিমাণে পাকা ধান ঝরে গেছে। এছাড়াও নলুয়া হাওরপাড়ের ভুরাখালি, দাসনাগাঁও, চিলাউড়া,স্বজনশ্রী, সমধল, বেতাউকা সহ বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ির ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে ।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, কাল বৈশাখী ঝড়ে বোরো ধানের তেমন ক্ষতি হয়নি। তারপরও আমরা খোঁজ খবর রাখছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম বলেন, কাল বৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বোরো ধানসহ ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে এই দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম এখনো অন্ধকারে রয়েছে।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে ------------দানবীর ড. রাগীব আলী
  • শ্রীলঙ্কা হামলার দায় স্বীকার করে আইএসের বার্তা
  • একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু আজ
  • শ্রীলংকায় নিহতের সংখ্যা ৩২১ জনে দাঁড়িয়েছে
  • জায়ান চৌধুরীর দাফন আজ
  • দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
  • সিলেটে বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট বর্ডার কমিটির বৈঠক আজ
  • সুষ্ঠু ভোটার তালিকা সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত
  • দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের হাতে গোলাপগঞ্জের জয়নাল নিহত
  • শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২৯০
  • সারাদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ আজ শুরু
  • শেখ সেলিমের নাতি দিরাইয়ের জায়ানের মরদেহ আসছে কাল
  • শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
  • শ্রীলংকা হামলার দায় স্বীকার করলো তৌহিদ জামাত
  • খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা: খন্দকার মোশাররফ
  • শ্রীলঙ্কার মতো হামলার ঝুঁকি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব
  • মালনীছড়া পরিদর্শনে এনবিআর চেয়ারম্যান
  • সিলেটে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র শবেবরাত উদযাপিত
  • বন্দুকের জোরে আ’লীগ ক্ষমতায়: মির্জা ফখরুল
  • Developed by: Sparkle IT