শেষের পাতা

নানা আয়োজনে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে বাংলা বর্ষবরণ

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৪-২০১৯ ইং ০২:৩১:৫১ | সংবাদটি ৩৪ বার পঠিত

 বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত রোববার জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে বাংলা নতুন বছর ১৪২৬ বঙ্গাব্দকে বরণ করা হয়েছে। শান্তির প্রতীক পায়রা এবং রং-বেরঙয়ের বেলুন উড়িয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষানুরাগী, সাহিত্য-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ অসংখ্য শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মানব হিতৈষী ব্যক্তিত্ব দানবীর ড. রাগীব আলী। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবেদ হোসেন, কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ.কে.এম দাউদ. হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. তারেক আজাদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন কলেজের সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীমা আক্তার।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দানবীর ড. রাগীব আলী তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, লোকজ সংস্কৃতির চর্চা আমাদের হৃদয়ের বোধনকে উদ্দীপ্ত করে। আজকের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। বাংলার পিঠা-পুলি আমাদের শৈশব তারুণ্যের সুন্দর নষ্টালজিক দিনগুলিকে মনে করিয়ে দেয়। এই সংস্কৃতির চর্চা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন- তবে শুধু অনুষ্ঠান উদযাপন বা আনন্দানুষ্ঠান করলেই চলবে না, চিকিৎসক হিসেবে সমাজের প্রতি সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেজন্য নিয়মিত ও সময়মতো কর্মস্থলে আসতে হবে, সেবার মানসে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে আগত রোগীদেরকে যথাসাধ্য সম্ভব উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে হবে, রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে, তবেই প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পাবে। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালনের জন্য পূনরায় আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবেদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের রয়েছে হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য। আমাদের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে আমাদেরকেই লালন করতে হবে এবং আমরা যদি আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে চলতে পারি, তবে বিশ্বের বুকে বাঙালি জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো। তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তোমাদের লেখাপড়া মনোযোগী হতে হবে এবং ভালো চিকিৎসক হয়ে দেশের আপামর জনসাধারণের সেবা করতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দানবীর ড. রাগীব আলী এবং কলেজের অধ্যক্ষ কলেজের বিভিন্ন ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজিত নানা ধরনের স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন। এসব স্টলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পিঠা- পুলির স্টল রকমারী বাঙালি খাবার ও পানের স্টল, মেহেদী লাগানো স্টল, আলপনা আঁকার স্টল সন্ধানীর বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের স্টল, বাংলার চিরায়ত ও ঐতিহ্য ধারণকৃত বিভিন্ন ধরনের ছবির স্টল ইত্যাদি বৈশাখী অনুষ্ঠানের মাত্রা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নাগরদোলা এবং সাপুড়েদের তত্ত্বাবধানে সাপের খেলা।
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের সাংস্কৃতির কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন রংয়ের বেলুন, ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণকে নতুন আঙ্গিকে সাজনো হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবেদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশাল র‌্যালি কলেজের দক্ষিণ গেইট দিয়ে বের হয়ে মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা ফুলকলি পয়েন্ট হয়ে কলেজের উত্তর গেইট দিয়ে কলেজ মাঠে এসে শেষ হয়। এতে কলেজের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ অংশ নেন।
র‌্যালি শেষে কলেজ মাঠে সুসজ্জিত মঞ্চে জমে উঠে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এসো হে বৈশাখ এর মতো বাংলার লোকজ গান। গানের তালে তালে নেচে উঠেন অনুষ্ঠানে আগত মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ দর্শক-শ্রোতা।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক প্রমোদ রঞ্জন সিংহ, অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সাইরাস সাকিবা, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক খাঁজা মোহাম্মদ মুইজ, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ফার্মাকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন, বায়োকেমিষ্টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক গুলশান আরা বেগম, সার্জারী বিভাগর অধ্যাপক পারভীন আক্তার, মানসিক বিভাগের বিভাগীয় সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুস্মিতা রায়, অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মোশাররফ হোসেন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ আহমদ, এনেসথেসিয়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনোয়ার জাহান খান, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোমেনা বেগম, ও ডা. নাসরিন সুলতানা, ডেন্টাল সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল আলম তালুকদার, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আরমান আহমদ শিপলু, আইসিইউ এর কনসালটেন্ট ডা. সৈয়দ ওহিদুল হক রাতুল, মানসিক রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এনায়েত করিম, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুইজ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সহ অন্যান্য স্তরের শিক্ষক, বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ড. আয়েশা আক্তার ও উপাধ্যক্ষ ড. নাদিরা বেগম।
সম্পন্ন অনুষ্ঠানটি স্বল্প সময়ে সুন্দরভাবে আয়োজন করার জন্য কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবেদ হোসেন সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান, সদস্য এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • দাবি আদায় না হলে ২৯ এপ্রিল পরিবহ শ্রমিকদের কর্মবিরতি
  • শেরপুরে বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল আটক
  • সিলেটে নেপাল এম্বেসীর চার্জ দ্যা এফেয়ার্সের সাথে মতবিনিময় আজ
  • কোন পানি খাব, সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার: ওয়াসার এমডি
  • ভোলাগঞ্জ সীমান্ত হাট পরিদর্শনে বাংলাদেশ -ভারত উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল
  • ওসমানীতে বিমানের সিটের নিচ থেকে ২০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার
  • সিলেট বিভাগে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু
  • প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখছেন
  • সিকৃবিতে তৃতীয় চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন
  • আদালতে হত্যা রহস্যের বর্ণনা দিলেন প্রেমিকা
  • লিডিং ইউনিভার্সিটিতে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
  • পুষ্টি হচ্ছে মানুষের সংবিধান প্রণীত অধিকার
  • ছবি
  • ছাতকে ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী ছাত্রলীগে যোগদান
  • শাবি শিক্ষার্থীরা বানালেন দেশের প্রথম পায়ে হাঁটা রোবট ‘লি’
  • বিশ্বনাথে প্রবাসীর কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেফতার
  • বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে সাতটি চুক্তি স্বাক্ষরিত
  • দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না
  • ওমরাহ পালনে যাওয়া হলো না গোয়াইনঘাটের আব্দুল হামিদের
  • মধ্যরাতে মিরাবাজারে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
  • Developed by: Sparkle IT