সম্পাদকীয়

বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৪-২০১৯ ইং ০০:৩২:২৭ | সংবাদটি ২১৩ বার পঠিত

আজ বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস। ১৯৮২ সালের আজকের এই দিনে তিউনিশিয়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মনুমেন্টস এ- সাইটস’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সেই দিনটিকে (১৮ই এপ্রিল) প্রতি বছর বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস (ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর মনুমেন্টস এ- সাইটস) হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৮৩ সালে দিনটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়। ২০১৪ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৩৮তম বৈঠকে নতুন করে ২৬টি স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২১টি সাংস্কৃতিক, চারটি প্রাকৃতিক ও একটি মিশ্র ঐতিহ্য। সব মিলিয়ে ইউনেস্কো ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রায় আটশ’ ৯০টি অনন্য বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ছয়শ’ ৮৯টি সাংস্কৃতিক, একশ’ ৭৬টি প্রাকৃতিক এবং ২৫টি উভয় বৈশিষ্ট্যের। এই তালিকা থেকে প্রতি বছর কিছু কিছু বাদ পড়ছে এবং কিছু কিছু নতুন তালিকাভূক্ত হচ্ছে।
বিশ্ব ঐতিহ্য দিবসের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে। বিশ্বের ২১টি দেশের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভূক্তির জন্য স্থানগুলো নির্বাচন করে। এই কমিটি সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যস্থলগুলের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারক করে। ঐতিহ্যস্থলগুলোর ব্যবস্থাপনার জন্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ফা- থেকে অর্থায়ন করা হয়। এই সংক্রান্ত কনসলিং দি প্রটেকশন অব ওয়ার্ল্ড কালচারাল এ- ন্যাচারাল হেরিটেজ কনভেনশন’-এ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশসহ একশ’ ৮৬টি দেশ। ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের তিনটি স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হলো পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, বাগেরহাট মসজিদ শহর এবং সুন্দরবন। জাতিসংঘের বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর নীতি অনুসারে প্রতিটি ঐতিহ্যবাহী স্থানকে একটি পরিচয়বাহী নম্বর দেয়া হয়। বর্তমানে এই নম্বরের সংখ্যা ১২শ’ ছাড়িয়ে গেছে। ইউনেস্কো গত কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছে। তারা মূলত এইসব নিদর্শনকে গোটা মানবজাতিরই অভিন্ন উত্তরাধিকার হিসেবে তুলে ধরছে।
বিভিন্ন প্রতœতাত্ত্বিক স্থান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিই বিশ্ব ঐতিহ্য দিবসের উদ্দেশ্য। আমাদের দেশে ঐতিহাসিক প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের অভাব নেই। প্রাকৃতিক-সাংস্কৃতিক অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো অযতেœ অবহেলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। অনেক ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মানদন্ডে হয়তো উত্তীর্ণ হবেনা, তবে এসব স্থান বা স্থাপনাকে সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আর বিশ্বের এতিহ্য সচেতন জাতিগুলোই এগিয়ে যাচ্ছে সব ক্ষেত্রে। এই বিষয়াদি সামনে রেখেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গ্রহণ করা হোক যথাযথ কর্মসূচি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT