সম্পাদকীয় সম্পদ সঠিকভাবে বিনিয়োগ করলে তা এক রহমত এবং সদুপায়ে এর বৃদ্ধির উদ্যম মানুষের জন্য বৈধ। -আল হাদিস

স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৪-২০১৯ ইং ০০:৪৪:৪৪ | সংবাদটি ১০৩ বার পঠিত

চলছে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ। শেষ হবে আগামীকাল শনিবার। গত মঙ্গলবার ১৬ই এপ্রিল শুরু হয় এই সপ্তাহ পালন। মূলত জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষে পালিত হচ্ছে এই সপ্তাহ। আমাদের স্বাস্থ্যসেবার মান যে পর্যায়ে রয়েছে, সে হিসেবে এখানে স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশ-এ উন্নীত হওয়ার পথে। অথচ আমাদের আশিভাগ মানুষ এখনও চিকিৎসা নেয় অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত, গ্রাম চিকিৎসক এবং পীর ফকিরের কাছ থেকে। জরিপের তথ্য হচ্ছে দেশে প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র একশ’ ৪৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী। সমসংখ্যক মানুষের জন্য আছেন মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক ও দু’জন নার্স। উল্লেখ্য, এক দশক আগে ৬০ ভাগ মানুষ হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতো। অর্থাৎ দিন দিন এই হার বাড়ছে। আর হাতুড়ে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় অনেক রোগীর জীবনে নেমে আসছে দুর্বিষহ অবস্থা।
এবারের স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেমন- অসংক্রামক রোগের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি, হৃদরোগ, স্টোক, ক্যান্সার, বহুমূত্র, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, কিডনি রোগ ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকার জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে জীবনাচরণ পরিবর্তন, ধূমপান বর্জন, উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, পর্যাপ্ত কায়িক শ্রম ও ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।
তাছাড়া, জনসাধারণকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যাকে অবহেলা না করে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের। পাশাপাশি জনগণকে নিজ নিজ এলাকায় সরকারী হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কী কী স্বাস্থ্যসেবা বিদ্যমান- তা জেনে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মূলত এই ধরণের নানা কর্মসূচি নেয়া হয় প্রতিটি ‘সপ্তাহ’ বা ‘দিবস’ পালনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সেইসব কর্মসূচি কতোটুকু বাস্তবায়িত হয় কিংবা এতে মানুষ কী পরিমাণ উপকৃত হচ্ছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।
এবারের স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও বাস্তবে তেমন কিছু চোখে পড়েনি।
সবকিছুর পরে যেটা বলা জরুরী তাহলো, গ্রাম্য গরীব রোগীরা অনেক সময়ই সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে চান না। অভিযোগ হচ্ছে, সরকারী হাসপাতালে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয় না এবং চিকিৎসকসহ অন্যান্যরা গরীব রোগীদের প্রতি অনেক সময়ই সেবা প্রদানে অবহেলা প্রদর্শন করে। জনগোষ্ঠীর ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষ বাস করে গ্রামে। তাই তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে গ্রামের সাধারণ মানুষদের। আমাদের দেশে বিভিন্ন সেক্টরে অগ্রগতি হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। সবস্তরের মানুষের জন্য সুচিকিৎসা সহজলভ্য করা না গেলে সরকারের অন্যান্য সাফল্য ম্লান হয়ে যেতে বাধ্য।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT