ধর্ম ও জীবন

শবে বরাতে মাইক ব্যবহার প্রসঙ্গে

আব্দুল হান্নান তুরুকখলী প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৪-২০১৯ ইং ০০:৫০:৪৫ | সংবাদটি ১৬৫ বার পঠিত

অশেষ ফজিলত ও বরকতে পূর্ণ লাইলাতুন বরাত। লাইলাতুন বরাতের অগণিত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। লাইলাতুল বরাতের কতিপয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছেÑএ রাতে বান্দা যা চাইবে আল্লাহপাক তা তাকে দান করবেন। প্রত্যেক রাতের শেষভাগে আল্লাহপাক একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর বান্দাদেরকে আহবান করেন। আল্লাহর সেই আহবানে সাড়া দিয়ে যে বান্দা যা প্রার্থনা করে আল্লাহপাক তা তাকে দান করেন। কিন্তু শবে বরাতের বেলায় এর বিপরীত। শবে বরাতে আল্লাহপাক সূর্যাস্তের পর হতেই দুনিয়ার আসমানে এসে তাঁর বান্দাদেরকে আহবান করতে থাকেন এবং বান্দাগণ যে যা প্রার্থনা করে তা তাকে দান করেন। এভাবে ফজর পর্যন্ত আল্লাহপাক তাঁর বান্দাদেরকে এক বাক্যে ক্ষমা ঘোষণা করতে থাকেন।
কবর জিয়ারত করা সুন্নাত। রাসুল (সা.) একা কবর জিয়ারত করেছেন। শবে বরাতে আল্লাহপাক বনি কলব গোত্রের বকরির পশমের সমসংখ্যক গুনাহগার উম্মতে মুহাম্মদীকে আল্লাহপাক ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি : ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা- ১৫৬। ইবনে মাজাহ : পৃষ্ঠা- ৯৯, মিশকাত শরীফ : পৃষ্ঠা- ১১৪-১১৫)
পুণ্যময় রজনী শবে বরাত। শবে বরাত উম্মতে মুহাম্মদীকে দেয়া আল্লাহর অনুগ্রহ। এ রাতে ইবাদত করে গুনাহগার বান্দাগণ পরকালের নাজাতের পথ সুগম করতে পারবেন। এই প্রত্যাশায় আমরা শবে বরাতে রাতে জাগরণ করি। ইবাদত-আরধনায় কাটিয়ে দেই সারা রাত। কিন্তু আমরা অনেকে শবে বরাতে ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার কারণে সারারাত ইবাদত করেও এর সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়ে যাই।
আমরা সকলেই জানি, শবে বরাতে নামাজ, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলীল, দুরুদ সবই নফল ইবাদত। আর একথাও আমরা সবাই জানি, নফল ইবাদত করতে হবে নীরবে, একান্তে। লোক দেখানো, লোক শোনানো নফল ইবাদত কখনও আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। এক্ষেত্রে আমরা যে ভুলটি করি তা হচ্ছেÑ আমাদের মধ্যে কেউ কেউ পারিবারিকভাবে শবে বরাতে মাইক ব্যবহার করেন। এ মাইক দ্বারা সারারাত কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার করে থাকেন। আবার কোনো কোনো এলাকার উদ্যোগে মসজিদে মাইক ব্যবহার করে শবে বরাতে সারারাত কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও ওয়াজ নসীহত করা হয়। এরা মনে করেন, শবে বরাতে মাইক ব্যবহার করে এসব নফল ইবাদত করে সব সাওয়াব পেয়ে যাবেন। আসলে তা নয়, বরং এটা তাদের সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। শবে বরাতে মাইক ব্যবহার করে সমস্ত এলাকার নারী পুরুষের নফল ইবাদতে যে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি করছেন তারা কি সে বিষয়টি ভেবে দেখছেন? মাইকে আওয়াজ শুনলে বাসা-বাড়িতে কেউই নীরবে, একান্তমনে ইবাদত করতে পারবেন না। মাইক ব্যবহার করে অন্যের ইবাদতে বিঘœ সৃষ্টি করা যে মহাপাপ তার ভয়াবহ পরিণাম কি তারা জানেন? নিজে নফল ইবাদত করবে এটা অত্যন্ত ভালো কথা, কিন্তু মাইক ব্যবহার করে নফল ইবাদত করার নামে অন্যের ইবাদতে বিঘœ সৃষ্টি করবেÑ এটা কেমন কথা? দুঃখজনক বাস্তব ঘটনা হচ্ছে এই যে, শবে বরাতে অনেক মসজিদের ইমাম সাহেবগণকে দেখা যায় শবে বরাতের ওয়াজের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাইকে ওয়াজ করে বাসা-বাড়িতে ইবাদতরত মানুষের ইবাদতে বিঘœ সৃষ্টি করে থাকেন। এটা মোটেই কাম্য নয়। অথচ ঐ ইমাম সাহেবগণও ভালোভাবেই জনেন, শবে বরাতে মাইকে ওয়াজ করলে, জিকির করলে, মাইকে তাসবিহ-তাহলিল করলে অন্যের ইবাদতে চরম বাঁধার সৃষ্টি হয়। তাঁরা এটাও জানেন, শবে বরাতের নফল ইবাদত নীরবে, একাকী ও একান্তমনে করা অতি উত্তম। এরপরও ইমাম সাহেবগণ শবে বরাতের নফল ইবাদতের নামে অবাধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাইক ব্যবহার করেনÑএটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সঠিক ফতোয়া হলোÑশবে বরাতে নফল ইবাদতে মাইক ব্যবহার করা বৈধ হবে না। মাইক ব্যবহার করে ইবাদত করে অন্য কারো ইবাদতে বিঘœ সৃষ্টি করলে সেই ইবাদত আল্লাহর দরবারে কখনও কবুল হবে না।
শবে বরাত মুসলিম মিল্লাতের নিকট অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ রাত। এ রাতে নফল ইবাদতের নামে কেউ মাইক বাজাবে আবার সেই মাইক বাজানোর কারণে অন্য মুসলমানের ইবাদতে বিঘœ সৃষ্টি হবে এটা কখনও হতে পারে না। শবে বরাতের ইবাদতকে লৌকিকতামুক্ত করতে হবে। আল্লাহপাক আমাদেরকে শবে বরাতে সঠিকভাবে ইবাদত করার তৌফিক দান করুন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT