পাঁচ মিশালী

ছাদের উপর ফলের বাগান

আফতাব চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৪-২০১৯ ইং ০০:১৭:৪৮ | সংবাদটি ২৮০ বার পঠিত


জোহরা মমতাজ চৌধুরী একজন গৃহিনী। স্বামী শাহেদ আহমদ চৌধুরী একজন ব্যবসায়ী। থাকেন সৌদিআরবে। গ্রামের বাড়ী গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং, শেরপুর বড়বাড়ি। সিলেট শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে পীরেরবাজার এলাকার ইউনাইটেড হাউজিং-এর ১ নং রোডের ৬৩ নং বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। শাহেদ ও মমতাজ দম্পতির ২ ছেলে ও ১ মেয়ে। ছেলে মেয়েরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। মমতা শখ করে নিজের বাড়ির ছাদে সময় কাটান নিজ হাতে গড়া বাগানে।
ছাদ শুধু যে জামা-কাপড় শুকাবার কিংবা হাওয়া খাওয়ার জন্য নয়। মমতার বাড়ীর ছাদে গেলেই তার প্রমাণ মিলে। ঐ বাড়ির খোলা ছাদে নানা রকমের ফুল, ফল গাছের সমারোহ দেখে মুগ্ধ হতেই হয়। গাছের ডালে ডালে শোভা পাচ্ছে বারোমাসি পেয়ারা, নানা প্রজাতির লেবু, আম, জলপাই, বারোমাসি মালটা, কমলা, লিচু, তেজপাতা, এলভেরা, বরমটা, মেহদি, জাম্বুরা, আমড়া, ছফেদা, আদাজামির, লঠকন, তুলসী, সবরীকলা, নিম, পেঁেপ, পান, ঢেড়শ, ষ্টবেরী, কৃষ্ণকচু, পুদিনা, থাইগ্রাস বিলেতি ধনিয়া, আনারস, পোলাও ও রোষ্টের সুগন্ধি পাতা, হাসনাহেনা, পুঁইশাক, বারোমাসি মরিচ, বেগুণ, টমেটোসহ গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতকালীন নানা প্রজাতির ফুল ও ফল।
মমতা চৌধুরী নিজের বাড়ীর ছাদে তার নিজের হাতে লাগানো গাছে ধরা ফুল-ফল-শাকসবজি আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে বিতরণ করে যেমন আনন্দ পান, তার চেয়ে বেশী আনন্দ উপভোগ করেন নিজের লাগানো গাছের ফলজ চারা বা কলম তৈরী করে অন্যদের বিলিয়ে দিতে। এটা তার নেশা বা শখ বলা যায়। তাঁর নিজ হাতে গড়ে তোলা ছাদের বাগান দেখতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অনেকেই ভীড় জমান। মমতা চৌধুরী তাঁর নিজ হাতে ছাদের বাগানে উৎপাদিত ফুলমূল অন্যদের হাতে তুলে দিয়ে দারুণ আনন্দ উপভোগ করেন। এভাবেই তিনি নিজ এলাকায় বা পরিচিত জনের কাছে ফলবন্ধু হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
ফলপ্রেমী মমতা নিজ বাড়ীর ছাদে বাগানটি গড়ে তুলেছেন একান্তই ব্যক্তিগত উদ্যোগে, বাণিজ্যিক কোন উদ্দেশ্যে নয় মোটেই। নিজ পরিবারের সদস্যদের মতই তিনি বাগানের যতœ, পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। এখন দিনের বেশিরভাগ সময় তাঁর ছাদের বাগানেই কাটে।
খোলামনের হাসিখুশী প্রিয় মমতা চৌধুরী পরোপকারী, ধর্মপ্রাণ ও স্বামীভক্ত। পরিবার পরিজনের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার ব্যাপারেও তিনি দারুণ আগ্রহী। তাঁর বক্তব্য আমাদের দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি। এ মাটিতে সোনা ফলে। তিনি অন্য নারীদেরকেও স্ব-স্ব বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা ছাদে বাগান করার উৎসাহ দিয়ে বলেন, আমরা প্রত্যেকে এভাবে করলেই দেশবাসীর পুষ্টি ও ভিটামিনের চাহিদা মিটবে, অন্যদিকে অথনৈতিক দিক দিয়েও লাভবান হওয়া সম্ভব।
গৃহিনী মমতার একান্ত ধারনা, আন্তরিকতা, চেষ্টা ও সাধনা থাকলে যেকোন অসাধ্যকে সাধন করা যায়। তাঁর সাফল্যের প্রতি থাকলো আমাদের ফুলেল শুভেচ্ছা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT