সম্পাদকীয়

পবিত্র শবেবরাত

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৪-২০১৯ ইং ০০:৪৩:৩৫ | সংবাদটি ৮৭ বার পঠিত


আজ দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবেবরাত। হিজরী বর্ষের অষ্টম মাস বা শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত হচ্ছে শবেবরাত। ‘শব’ অর্থ রাত আর ‘বরাত’ অর্থ নিস্কৃতি। অর্থাৎ শবেবরাত মানে নিস্কৃতির রাত। বিশ্ব মুসলিমের জন্য অশেষ রহমত, বরকত ও ফজিলত লাভের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে পুণ্যময় এই রাতে। মুসলমান নারী পুরুষ স্বীয় পাপকর্মের জন্য এই রাতে তওবা ইস্তেগফার করেন। মহান প্রভূর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আর এই শবেবরাতে মহান আল্লাহ তায়ালা সূর্যাস্তের পর থেকে পৃথিবীর আসমানে তার তাজাল্লী প্রকাশ করে বলেন যে, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি ক্ষমা করে দেবো, কোন জীবিকা সন্ধানী আছে কি? আমি তাকে জীবিকা দান করবো, আছে কি কোন রুগ্ন ব্যক্তি? আমি তাকে সুস্থতা দান করবো।
পবিত্র আলকুরআনে আল্লাহ পাক বলেন, আমি তো ইহা (আল-কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এক মূল্যবান রজনীতে, আমি তো সতর্ককারী। এর ব্যাখ্যা হচ্ছে মহাগ্রন্থ আলকুরআন অবতীর্ণ করার সিদ্ধান্ত হয় এই রাতে। তাই এই রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, শাবান হচ্ছে আমার মাস, আর রমজান হচ্ছে মহান আল্লাহপাকের মাস। কারণ পবিত্র রমজানের প্রস্তুতি নেয়ার মাস হিসেবে শাবান মাসের গুরুত্ব বেড়ে গেছে অনেকগুণ। তাই শাবান মাসে যদি নবীর তরিকা মতো এবাদত বন্দেগী করা যায়, তাহলে পবিত্র রমজান মাসে সহজভাবে আল্লাহর এবাদত বন্দেগী করা যাবে। মহানবী (সা.) আরও বলেন, যখন শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত আসবে তখন তোমরা রাত্রি জাগরণ করে আল্লাহর বন্দেগী করবে। আর এর পরবর্তী দিন রোজা রাখবে। এজন্য এই শবেবরাতের রাতে বেশি নফল এবাদত করা, দোয়া করা, কবর জিয়ারত করা, কুরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতের। হাদিস শরীফসহ অন্যান্য দলিলের ভিত্তিতে শবেবরাত উপলক্ষে ছয়টি আমলের কথা প্রমাণিত। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ই শাবান দিবাগত রাত জাগরণ করে নফল এবাদত বন্দেগী, জিকির আজকার ও কুরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত থাকা, এই রাতে বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী এই রাতে মানুষের সারা বছরের হায়াত, মওত, রিজিক ইত্যাদি লিখা হয়। এই রাতে নবী করীম (সা.) মৃত মুসলমানদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করেছেন। পরের দিন (১৫ই শাবান) নফল রোজা রাখা উত্তম। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে এবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে এই রাতটি অতিবাহিত করা। অথচ আমাদের দেশে শবেবরাতের রাতে পটকা ফোটানো, আতশবাজি কিংবা আলোকসজ্জার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে থাকে। এগুলো কুপ্রথা, বেদাআত ও গুণাহের কাজ। এই সব কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।
দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, ফজিলতময় এই মাস ও শবেবরাতের রাতটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। কোন কোন ক্ষেত্রে এবাদত বন্দেগীর চেয়ে লৌকিকতা ও আনুষ্ঠানিকতা প্রদর্শনেই আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ছি। আমরা জড়িয়ে পড়ছি নানা কুসংস্কারে। এগুলো গর্হিত কাজ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও অশেষ রহমত লাভের আশায় পরিপূর্ণভাবে এবাদতে মশগুল থেকে বিনিদ্র রজনী কাটানোই হচ্ছে আসল কাজ। কিন্তু দুঃখজনকহলেও সত্য, সাম্প্রতিককালে বিশ্ব মুসলিমের মাঝে বিরাজ করছে বিভেদ-বিশৃঙ্খলা। ইসলামের দোহাই দিয়ে মানুষ খুনসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত একটি মহল; যা ইসলামের বিধানেরই পরিপন্থী। এই রাতের মহিমায় দূর হোক এইসব অপকর্ম, বিভেদ, অশান্তি। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতেও বিরাজ করছে নানা ধরনের অপরাধ-অপকর্ম, সামাজিক অস্থিরতা। তাই আজকের এই রাতে আমাদের প্রার্থনা- মুসলিম বিশ্বের ঐক্য সুসংহত হোক, দূর হোক ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড, বিশ্বের সকল মানুষের সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত হোক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT