প্রথম পাতা সিলেটে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান

তামাবিল স্থল বন্দরের অবকাঠামোর উন্নয়ন শিগগিরই শুরু হবে

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৪-২০১৯ ইং ০২:৫২:৩১ | সংবাদটি ১২৮ বার পঠিত

তামাবিল স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শিগগিরই শুরু হবে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি এও বলেন, এক মাসের মধ্যে সেখানে ব্যাংকের বুথ স্থাপন হবে। ব্যাংকের বুথ স্থাপন করা হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পর্যটকরাও সুবিধা পাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। কয়লা, চুনাপাথর ও পাথর আমদানীর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। এ নিয়ে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে কথাও বলবেন বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান ।
গতকাল শনিবার সিলেট নগরীর দরগাহ গেইটস্থ একটি হোটেলে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের উপর প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের নীতিগত দিক সম্পর্কে ধারণা নিতেই সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সিলেটের বিয়ানীবাজারের শেওলা স্থলবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে তালিকা বাড়ানোর বিষয়ে আরো বলেন, আমদানিতে নতুন পণ্য সংযোজনের বিবেচনা করা হবে। তবে এক্ষেত্রে কোন পণ্য আমদানিতে দেশের অর্থনীতিতে ক্ষতি হলে তা তালিকায় যোগ হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিকিৎসক ও আইনজীবীদের ট্যাক্স বৃদ্ধির উপায় খোঁজা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এই দুই পেশাজীবীদের আয়কর প্রদানের হারের বিষয়টি এখনো সকলের কাছে পরিষ্কার নয়। সাধারণ মানুষর ধারণা, তারা আয়কর কম দিয়ে থাকেন। এছাড়া, বেসরকারি হাসপাতালগুলো আয়ের তুলনায় কম ট্যাক্স প্রদান করায় তাদের উপরও ট্যাক্স বাড়ানো যায় কিনা- এর উপায় খোঁজা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিলেট চেম্বার সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আরো বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ট্যাক্স-ভ্যাট এমনভাবে জড়ানো থাকে, যে কারণে সে সব দেশের জনগণ এর জাল থেকে বের হতে পারে না। কিন্তু আমাদের দেশে মাত্র ১ শতাংশ জনগণ ট্যাক্স প্রদান করে। হিসেব মতে, মোট জনসংখ্যার মাত্র ২০ লাখ লোক রিটার্ণ জমা দেন। তবে কাগজে কলমে ২০লাখ ট্যাক্সধারী রিটার্ণ জমা দিলেও পরোক্ষভাবে সকলেই কোন না কোন ভাবে ট্যাক্স দিয়ে থাকেন। যে কারণে ‘সরকার জনগণের সরকার’ কথাটি বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। এতে সকল জনসাধারণের অংশগ্রহণ এবং অবদান রয়েছে। বিদেশী সহায়তা আগের থেকে কম নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।’
‘এ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স’ কর আদায়ের উন্নত মাধ্যম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে যারা সরাসরি করদাতা নয় তাদের করের আওতায় নিয়ে আসা হয়। তাই এ মাধ্যমটি উন্নত একটি মাধ্যম। এবারের বাজেটে আলোচনা সাপেক্ষে তা সুষম করার চেষ্টা করা হবে। একই সাথে অবকাশ কর কিছু ক্ষেত্রে বাড়তে পারে আবার কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি এ প্রাক-বাজেট আলোচনায় উত্থাপিত দাবিদাওয়া বিবেচনা করার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কাস্টম্স এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের কমিশনার গোলাম মোঃ মুনীর ও কর অঞ্চল-সিলেটের কর কমিশনার রনজীত কুমার সাহা। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টম্স পলিসি) মোঃ ফিরোজ শাহ্ আলম, সদস্য (ভ্যাটনীতি) আব্দুল মান্নান শিকদার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মৃণাল কান্তি দেব, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোঃ আসলাম উদ্দিন।
মুক্তালোচনা পর্ব পরিচালনা করেন সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি এমদাদ হোসেন চৌধুরী। সভায় বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ও বক্তব্য রাখেন পরিচালক এবং ভ্যাট, বাজেট, শুল্ক, কর ও ট্যারিফ সাব কমিটির আহবায়ক মোঃ হিজকিল গুলজার, পরিচালক পিন্টু চক্রবর্তী, কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি চন্দন সাহা ও মোঃ আতিক হোসেন, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপের সেক্রেটারী মুজিবুর রহমান মিন্টু, সিএন্ডএফ এজেন্ট গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বশিরুল হক, হবিগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক শেখ আনিসুজ্জামান, গণদাবী ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ, উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়, গণদাবীর কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারী অধ্যাপক শফিকুর রহমান এডভোকেট, সুনামগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক নুরুল ইসলাম, কর আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবুল ফজল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম পাঠান, সাংবাদিক কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী, ফল ও কাঁচামাল আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি মোঃ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা চৌধুরী, বিসিক শিল্প মালিক সমিতি গোটাটিকরের সাধারণ সম্পাদক আলীমুল এহছান চৌধুরী, রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজনু মিয়া, সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জিয়াউল হক, সিলেট চেম্বারের পরিচালক ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, সিলেট কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী এবং সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা শেখ ছাদিকুর রহমান।
সভায় সাবেক এমপি সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, বিজিবি সিলেটের সেক্টর কমান্ডার লেঃ কর্নেল আহমেদ ইউসুফ জামিল পিএসসি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব ইখতিয়ার উদ্দিন মোঃ মামুন, মোঃ ওয়াহিদ উল্লাহ, এ বি এম শফিকুর রহমান, হাসান মোহাম্মদ তারেক রিকাবদার, দ্বিতীয় সচিব মোঃ তারিক হাসান, মোহাম্মদ মেহরাজ উল-আলম স¤্রাট, শাহ্ মোঃ ফজলে এলাহী, উপ সচিব মোঃ কামরুল হাসান, যুগ্ম কর কমিশনার মিনহাজ উদ্দিন পালোয়ান, সিলেট চেম্বারের পরিচালক মোঃ সাহিদুর রহমান, এহতেশামুল হক চৌধুরী, মোঃ আব্দুর রহমান (জামিল), হুমায়ুন আহমেদ, জনতা ব্যাংকের জিএম মোঃ আসাদুজ্জামান, কাস্টম্স ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চেম্বারের প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যাংকার, সিলেট চেম্বারের সদস্যবৃন্দ, করদাতাবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ আসন্ন বাজেটে বিবেচনা করার জন্য অনেকগুলো প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে-করের বোঝা না বাড়িয়ে আওতা বাড়ানো, তামাবিল স্থলবন্দরে ব্যাংকের বুথ স্থাপন, স্থলপথে পর্যটকদের ট্যাক্স বাতিল, প্যাকেজ ভ্যাট চালু রাখা, ফল আমদানির বাঁধা অপসারণ, শেওলা বন্দর দিয়ে সবধরণের পণ্য আমদানি-রপ্তানি, অগ্রিম শুল্ক বিধান বাতিল, পর্যটনের বিকাশে হোটেল-রিসোর্টগুলোকে ১০ বছরের কর অবকাশ প্রদান, স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন শিল্প স্থাপনে কর অবকাশ প্রদান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়ে ব্যবসায়ীরা ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। চেম্বারের প্রস্তাবগুলো আসন্ন বাজেট বাস্তবায়নে সহায়ক হবে তার বিশ্বাস।
মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এর মধ্যে বিসিক শিল্প নগরীতে প্লট হস্তান্তরের উপর ধার্য্য ফি থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার, ইকোনমিক জোনের মত সুযোগ-সুবিধা প্রদান, কৃষি যন্ত্রপাতির উপর সকল পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি, কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে এলসি কমিশনের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার, নিজেদের সম্পত্তি হস্তান্তর সহজীকরণ, প্যাকেজ ভ্যাট চালু রাখা, হাই-টেক পার্কের যন্ত্রাংশ ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের উপর সকল ট্যাক্স প্রত্যাহার, সুনামগঞ্জের ডলুরা ও বাঁশতলা শুল্ক স্টেশন চালু, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ইকোনমিক জোন ও বিসিক শিল্প এলাকায় প্লট বরাদ্দ, রেলওয়ে খাতে সিলেটের জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রদান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো টার্মিনাল ও স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করে পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি, শুল্ক স্টেশনগুলোতে আমদানি-রপ্তানিকারকদের জন্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • রাষ্ট্রপতি চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন
  •   মাত্র ২৪ দিনেই ১৩৫ কোটি ডলার রেমিটেন্স
  • প্রধানমন্ত্রী ত্রিদেশীয় সফরের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার ঢাকা ত্যাগ করবেন
  • আলবিদা মাহে রমজান
  • রমজান থেকে স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি কর্তব্য পালনের শিক্ষা নিতে হবে
  • ঈদকে সামনে রেখে সিলেটে র‌্যাবের তিন স্তরের নিরাপত্তা
  • সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ তৈরী করতে হবে
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভিপি নূরকে অনুষ্ঠানে যেতে বাধা-
  • রমজানুল মোবারক আস-সালাম
  • মাধবপুর ও শ্রীমঙ্গলে সড়কে প্রাণ গেলো ৪ জনের
  • সিলেটে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী পালিত
  • সরকারের ভ্রান্ত নীতিতে কৃষকরা সঙ্কটে: ফখরুল
  • স্কুল জীবন থেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দরকার : প্রধানমন্ত্রী
  • ভারতে এবার সরকার গঠনের পালা
  •   খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে
  •   সরকার এতো অমানবিক নয়
  • মোদীকে শেখ হাসিনার ফোনে দু’দেশের সম্পর্কে অত্যন্ত আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটেছে
  • ভারতের গুজরাটে কোচিং সেন্টারে আগুন: নিহত ১৯
  • হবিগঞ্জে তিনজনের মৃত্যু, আহত ২
  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো জোরদার হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • Developed by: Sparkle IT