ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন

আতিকুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৪-২০১৯ ইং ০০:১০:৫৮ | সংবাদটি ৭৭ বার পঠিত


[পূর্ব প্রকাশের পর]
(তাং-বৃহস্পতিবার, ৩০ পৌষ ১৪০৬ বাংলা, ১৩ জানুয়ারী ২০০০ খ্রি./ দৈনিক গিরিদর্পণ, রাঙ্গামাটি)।
‘দফা নং-গ-৪। পরিষদে মহিলাদের জন্য ৩ (তিন) টি আসন সংরক্ষিত রাখা হইবে। এর এক তৃতীয়াংশ (১/৩) অউপজাতীয় হইবে।’ আগেই সমালোচিত হয়েছে যে, সংখ্যানুপাতে অউপজাতীয় আসন, মহিলা ও পুরুষ নির্বিশেষে ৫০৪৫০ প্রাপ্য। এর বিপরীতে পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্য, একাধারে গণতন্ত্র ও জাতীয় সংবিধান বিরোধী। এখানে উপজাতীয় প্রাধান্যকে প্রশ্রয় দান একটি অযৌক্তিক ব্যবস্থা।
‘দফা নং-গ-৫। পরিষদের সদস্যগণ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যগণের দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হইবেন। তিন পার্বত্য জেলার চেয়ারম্যানগণ পদাধিকার বলে পরিষদের সদস্য হইবেন এবং তাহাদের ভোটাধিকার থাকিবে। পরিষদে সদস্য পদ প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার অনুরূপ হইবে।’
এখানে এই বিভ্রান্তির অবকাশ আছে যে, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য সংখ্যা কি-২২ না ২৫। চুক্তির দফা নং খন্ড গ-৩ এ বলা হয়েছে পরিষদ ২২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। পুনরায় এই দফা নং-গ ৫-এ বলা হচ্ছেÑতিন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানেরা পদাধিকার বলে আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হবেন এবং তাদের ভোটাধিকারও থাকবে। এই ধারা নং-গ ৫-এ অনুসারে তিন জেলা চেয়ারম্যানসহ সদস্য সংখ্যা হয় ২৫। কিন্তু এখানে ফেকড়া হচ্ছে ও অউপজাতি বা বাঙালিরা মোট ২৫ সদস্যের ১/৩ অংশ সদস্য পদ পাচ্ছে না। তাদের সদস্য পদ ৭-এ সীমাবদ্ধ থাকছে, যা ২৫ এর ১/৩ অংশের কম। তদুপরি উপজাতীয় সাম্প্রদায়িক সদস্য কোটাও ঠিক থাকছে না। কারণ চেয়ারম্যানদের দ্বারা সাম্প্রদায়িক কোটায় হ্রাস বৃদ্ধি যোগ বিয়োগ হচ্ছে। পরোক্ষ নির্বাচন ও পদাধিকার ব্যবস্থাও সংবিধান সম্মত নয়।
‘দফা নং-গ-৬। পরিষদের মেয়াদ ৫ (পাঁচ) বৎসর হইবে। পরিষদের বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন, পরিষদ বাতিল করণ, পরিষদের বিধি প্রণয়ন, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিষয় ও পদ্ধতির অনুরূপ হইবে। পরিষদ আইনের ৪১ ধারার বিধান অনুসারে (পরিষদ) বাতিল না হইলে, পরিষদের মেয়াদ হইবে, উহার প্রথম অধিবেশনের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও, নির্বাচিত নতুন পরিষদ প্রথম অধিবেশনে না বসা পর্যন্ত, পরিষদ কার্য চালাইয়া যাইবে।’ (ধারা নং-১২)
এখন আশংকার কথা হলো : ৫ বছরের মেয়াদকাল পালিত হওয়া সন্দেহজনক। স্থানীয় সরকার পরিষদ ভোট কারচুপি করে ৩ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে এক যুগ পার করেও জেলা পরিষদ রূপে নতুন করে মনোনীত হয়ে চলমান। এখনো তার নির্বাচনের কোন লক্ষণ নেই। এখন আঞ্চলিক পরিষদ মনোনয়নের ভিত্তিতে অন্তরবর্তীকালের জন্য গঠিত হয়েছে। তারও নির্বাচন জেলা পরিষদের উপর নির্ভরশীল। তাই তার ও নবায়ন অনিশ্চিত। তাহলে আইন ও মেয়াদ তো প্রহসন।
এই নির্বাচনের পথে প্রথম বাধা হলো ও নির্দেশিত স্থানীয় স্থায়ী ভোটার তালিকার অনুপস্থিতি, যা ভূমি বিরোধ ও স্থানীয় অস্থানীয় নিরূপণের উপর নির্ভরশীল। তবে তার এই শুভংঙ্করের ফাঁক দীর্ঘস্থায়ী হলে, কখন নির্বাচন হবে তা বলা মুশকিল। আইনী বিধান হলোÑপ্রতি অর্থ বছর শুরু হবার পূর্বে পরিষদ উক্ত বছরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় সম্বলিত বিবরণী বা বাজেট বিধি মতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রণয়ন ও অনুমোদন করবে এবং তার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করবে। (ধারা নং-৩৫ (১)। কিন্তু এই পরিষদের বৈধ ভিত্তি নেই। এর আয়ুষ্কাল দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং তার কার্যক্রম অবৈধ হলেও অবারিত চলছে। নিয়ম পদ্ধতির অনুসরণের দায়বদ্ধতা কি করে পালিত হবে?
দেখা যাচ্ছে : পরিষদ বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদনের ব্যাপারে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত। এ ব্যাপারে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো পরিষদের অর্থ তহবিলে সরকারি দান অনুদান, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহিত অর্থ এবং কর রেইট, শুল্ক ইত্যাদির দ্বারা কি পরিষদের দায়হীন সম্পদ? আইনীভাবে পরিষদ স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কি না। এ প্রশ্নগুলোর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা আবশ্যক। না হলে তো পরিষদগুলো যথেচ্ছাচারী প্রতিষ্ঠান।
আইন করা হয়েছে : যদি প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার এরূপ অভিমত পোষণ করে যে, পরিষদ (ক) নিজ দায়িত্ব পালনে অসমর্থ, অথবা ক্রমাগতভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। (খ) প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনে সমর্থ নয়। (গ) সাধারণত এমন কাজ করে যা জনস্বার্থ বিরোধী। (ঘ) অন্য কোনভাবে ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন। ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে বা করছে, তা হলে সরকার গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা পরিষদকে বাতিল করতে পারবে। (বিধান নং-৪২)
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আদেশ প্রদানের পূর্বে পরিষদকে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে (ধারা ৪১ (১)। এই একশন পদ্ধতি ধীরগতিক ও দুর্বল। বিদ্রোহের সময় এ দীঢ়গতিক ব্যবস্থা কার্যকরী হবে কঠিন। পরিষদে কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত আইন হলো :
তবে শর্ত থাকে যে, সব শূণ্য পদে নিয়োগে পার্বত্য জেলা সমূহের উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে। (ধারা নং-২৯ (১)।
এই অগ্রাধিকার মানে কি ১০০% না তার কিছু কম? অ-উপজাতীয় বা বাঙালিরা তার পরিমান জেনে আশ্বস্ত হতে চায়। এই অগ্রাধিকারের ঠেলায় এখন পরিস্থিতি এমন যে, কার্যক্ষেত্রে কেবল উচ্ছিষ্ট ও নিম্নতম পদ ছাড়া সর্বত্রই উপজাতীয় নিযুক্তি প্রায় একচেটিয়া। যেখানে কোন উপজাতীয় প্রার্থী নেই, বা যে পদ তাদের দ্বারা অবহেলিত, কেবল ঐ সব কতিপয় পদেই অ-উপজাতীয়রা প্রার্থী ও নিযুক্ত হতে পারে এবং তাও কদাচিং। অথচ সংখ্যানুপাতে তাদের প্রাপ্য ৫০%।
বাংলাদেশ সংবিধানে এই বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ আছে, যথা : অনুচ্ছেদ নং- ১৯, ২৭ ও ২৯।

(তাং-শুক্রবার, ১ মাঘ ১৪০৬ বাংলা, ১৪ জানুয়ারি ২০০০ খ্রি./ দৈনিক গিরিদর্পণ, রাঙ্গামাটি)।
‘দফা নং-গ-৭। পরিষদে সরকারের যুগ্ম সচিব সমতুল্য একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা থাকিবেন এবং এই পদে নিযুক্তির জন্য উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।’
উপজাতীয় অগ্রাধিকার মানে যে ১০০% উপজাতীয় তার অন্যতম প্রমাণ হলো? বর্তমানে আঞ্চলিক পরিষদে নিযুক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, দ্বিতীয় নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, এই তিন পদাধিকারীদের সবাই হলেন উপজাতীয়। একজন অ-উপজাতীয় কর্মকর্তার সংস্থান ও তাতে নেই। এতে দৃষ্টিকটু পক্ষপাতিত্ব আর অবিচার তো রয়েছেই, অধিকন্তু উচু মান সম্পন্ন দাপ্তরিক কাজ থেকেও পরিষদ বঞ্চিত হয়েছে ও হচ্ছে। উপজাতীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শিক্ষাগত মান নিঃসন্দেহে নিম্নমানের। তারা জাতীয়ভাবে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ মেধাবী লোক নন। তাদের শিক্ষা, যোগ্যতা ও নিযুক্তি কোটার সুযোগে প্রাপ্ত নিম্নমান সম্পন্ন। জাতীয়ভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের মেধা গঠিত নয় । তাইতো তাদের কারো কারো লিখিত পরিষদীয় কার্য বিবরণীতে চেয়ারম্যানকে সম্মান দেখাতে পরিষদ শব্দের আগে মাননীয় পদের ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই তো উপজাতীয় যোগ্যতার মাপকাঠি।
যুগ্ম সচিব সমতুল্য মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ আর চেয়ারম্যানের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা নির্ধারণই বলে দেয় : আঞ্চলিক পরিষদের মান জেলার উপরে অবস্থিত। কিন্তু এই আঞ্চলিক মানটি পরিষ্কার নয়। জেলা নয় বিভাগ নয় প্রদেশ বা রাজ্য নয় । এটি তিন পার্বত্য জেলায় বিভক্ত, বাস্তবে মৌখিক পার্বত্য চট্টগ্রাম যার কোন প্রশাসনিক ও বিন্যাসগত স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নেই। একজন যুগ্ম সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর পরিচালনাধীন রাজ্য মানের আবহ তাতে বিদ্যমান, যা বাস্তবে মরীচিকা বিশেষ।
‘দফা নং-গ-৮ (ক)। যদি পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূণ্য হয়, তাহা হইলে অন্তরবর্তীকালীন সময়ের জন্য পরিষদের অন্যান্য উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্য হইতে, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যগণের দ্বারা পরোক্ষভাবে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবেন।’
এখানেও অ-উপজাতীয় বা বাঙালিরা অস্পৃশ্য। এটা সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণবাদ। সভ্য আইন ও আদর্শে এটা পরিত্যজ্য। তদুপরি এই শূণ্যতা পূরণ ব্যবস্থায় ও উপনির্বাচন পরিহার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শূণ্য সদস্য পদ পূরণকে সঠিকভাবেই উপ নির্বাচনের সম্মুখীন করা হয়েছে। যথা : ‘(খ) পরিষদের কোন সদস্য পদ যদি কোন কারণে শূণ্য হয় তবে উপনির্বাচনের মাধ্যমে তাহা পূরণ করা হইবে।’ এভাবে চেযারম্যান পদের শূণ্যতা পূরণে উপ-নির্বাচনই যথার্থ হতো। একজন সদস্যের চেয়ারম্যান পদে উত্তরণ ঘটলে, তার পরিত্যক্ত সদস্য পদে উপ-নির্বাচন যেভাবে জরুরি হয়ে পড়ে, সেভাবেই শূণ্য চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন দেয়া ছিলো সঙ্গত। এরূপ বাছাই ও পরোক্ষ নির্বাচন অসাংবিধানিকও বটে।
তবে জেলা পরিষদ আইনের ধারা নং-১৬ তে ভিন্ন ব্যবস্থার কথা ব্যক্ত হয়েছে যথা : ‘অস্থায়ী চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যানের পদ কোন কারণে শূণ্য হইলে বা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতা হেতু বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নতুন নির্বাচিত চেয়ারম্যান তাহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত বা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থক না হওয়া পর্যন্ত পরিষদের সদস্যগণ উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্য হইতে একজনকে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করিবেন এবং এইরূপ নির্বাচিত সদস্য চেয়ারম্যান রূপে কার্য করিবেন।’
অন্যতায় চেয়ারম্যান পদ স্থায়ীভাবে শূণ্য ঘোষিত হলে, উপনির্বাচনই বিদেয়, যথা : ধারা ১৭। উপ নির্বাচন। পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে, চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূণ্য হইলে পদটির শূণ্য হইবার অথবা ক্ষেত্র মতো ধারা ১৫ (২) এর অধীনে পদটি শূণ্য হইয়াছে মর্মে জেলা জজ কর্তৃক অভিমত প্রদানের ষাট দিনের মধ্যে বিধি অনুসারে অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনের মাধ্যমে উক্ত শূণ্য পদ পূরণ করিতে হইবে এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন, তিনি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।’
বস্তুতঃ এটাই অন্তর্র্বতীকালীন ব্যবস্থা হতে পারে। সুতরাং চুক্তিভুক্ত ব্যবস্থাটি ক্রটিপূর্ণ এবং অনুরূপ আরো অনেক ক্রটিই তাতে আছে। এই সব ক্ষেত্রে চুক্তি ও আইন পরস্পর বিরোধী এবং সংবিধান ও এর অনুকূল নয়।
‘দফা নং-গ-৯ (ক)। পরিষদ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড সমন্বয় সাধন করাসহ তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন ও ইহাদের উপর অর্পিত বিষয়াদি সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করিবে। ইহা ছাড়া অর্পিত বিষয়াদির দায়িত্ব পালনে তিন জেলা পরিষদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে কিংবা কোনরূপ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হইলে আঞ্চলিক পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া পরিগণিত হইবে।’
আগেই বলা হয়েছেÑতিন পার্বত্য জেলার সম্মিলিত কোন প্রশাসনিক ইউনিটের নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম নয়। সুতরাং এ নামের আঞ্চলিক পরিষদ কোন উর্ধতন কর্তৃপক্ষ রূপে আইনতঃ মান্যও নয়। এহেতু তার তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় তিন জেলা পরিষদের পক্ষে উপক্ষেনীয়। যেহেতু আঞ্চলিক পরিষদের অস্তিত্ব ও কর্তৃত্ব কেবল কাগজে পত্রে সীমাবদ্ধ বিষয়। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যতদিন পর্যন্ত না কোন প্রশাসনিক ইউনিট নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হবে, ততদিন পর্যন্ত তা হবে বাস্তবে উপেক্ষনীয় প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ। স্থিতি শূণ্য হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাই এখন তার অস্তিত্বের ভিত্তি। সুতরাং বাস্তবে আঞ্চলিক পরিষদ হলো একটি শূণ্য। তার চেয়ারম্যান ও সদস্যরা হলেন গল্পের নায়ক জন কুইক জট বিশেষ, যারা কেবল শূণ্যে হুংকার ছাড়েন, আর শূণ্যে অস্ত্র চালান।
আঞ্চলিক পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান ও সদস্যরা মনে হয়, বুঝেই না বোঝার মহড়া দিচ্ছেন। তারা অবশ্যই জানেন, পরিষদের আইনি ভিত্তি হলো, সংবিধানের স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত আইন, অনুচ্ছেদ নং- ৫৯। তাতে পরিষ্কার শর্ত হলো? প্রতিনিধিমূলক স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনিক ইউনিট আশ্রয়ী হতে হবে। তাছাড়া ক্ষমতা প্রয়োগযোগ্য হবে না। এই ফাঁক ও ফাঁকি পার্বত্য চুক্তিতে নিহিত এবং তা অতি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। এটা নিঃসন্দেহ যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম কোন প্রশাসনিক ইউনিট নয়। সুতরাং আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতার প্রয়োগ ক্ষেত্র শূণ্য। চুক্তি সম্পাদন কালে বিপুল আপ্যায়ন ও ক্ষমতা পাওয়ার খুশিতে জন সংহতি সমিতি নেতৃবৃন্দ, ফাঁক ও ফাঁকি অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছেন, আর এখনো সে ভুল আঁকড়ে আছেন।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT