সম্পাদকীয় যা নিজের বিষয় নয়, তাতে লক্ষ না করা প্রকৃত মুসলমানের লক্ষণ। -আল হাদিস।

জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৪-২০১৯ ইং ০১:০৬:৫৩ | সংবাদটি ২২৭ বার পঠিত

শুরু হয়েছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহ শেষ হবে আগামী সোমবার। এবারের এই সপ্তাহের শ্লোগান হচ্ছে ‘খাদ্যের কথা ভাবলে পুষ্টির কথাও ভাবুন।’ মূলত পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি তথা পুষ্টিকর খাবারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেই পালিত হচ্ছে এই সপ্তাহ। এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য কমলে পুষ্টিহীনতাও কমবে। নারীর ক্ষমতায়ন করলে শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগবে না। তিনি বলেন, আগামীতে স্কুল হেল্থ প্রোগ্রামের দিকে জোর দেয়া হবে। বুদ্ধিজীবিদের মতে, সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবনযাপনে পুষ্টি হলো কেন্দ্রবিন্দু। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পুষ্টি হলো শরীরের খাদ্যের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যগ্রহণ। বর্তমান ও আগামী সকল প্রজন্মের জন্য এটি হলো অস্তিত্বের দিশা। আমাদের জাতীয় উন্নতি, উৎপাদন ও আর্থিক উন্নতিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে পুষ্টি।
স্বল্প পুষ্টির এমন এক অবস্থাকে বলা হয় অপুষ্টি, যা অপর্যাপ্ত ও ভারসাম্যহীন খাদ্যের কারণে ঘটে। এটি হলো বিশেষ এক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঘটে থাকে। মানব স্বাস্থ্য ও প্রগতিতে অপুষ্টির বিরূপ প্রভাব রয়েছে। এতে জাতীয় উৎপাদন ক্ষমতা ও আর্থিক স্বচ্ছলতার হ্রাস ঘটে। প্রতিদিনের শারীরিক ক্রিড়াকর্ম ও পুষ্টিকর খাদ্যের মেলবন্ধন সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি গড়ে তুলে। একটি সুস্থ শিশু তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো শিখতে পারে। পর্যাপ্ত পুষ্টি সম্পন্ন মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি সৃজনশীল। স্বল্প পুষ্টির কারণে শরীরের অনাক্রম্যতা কমে যেতে পারে, দুর্বলতা বাড়তে পারে, শারীরিক ও মানসিক বিকলাঙ্গতা বাড়তে পারে। সে হিসেবে পুষ্টি আমাদের জীবন ধারণে নানাভাবে সাহায্য করছে। তাই অপুষ্টি থেকে বাঁচার উপায় বের করতে হবে। বিশেষ করে শিশু অপুষ্টি দূর করা জরুরী। তাই দরকার মায়েদের অপুষ্টি দূরীকরণ। সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের অপুষ্টি হ্রাস করতে জাতীয় পুষ্টিনীতির লক্ষ ও উদ্দেশ্য অনুসরণ করে জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা (২০১৬-২০২৫) গ্রহণ করেছে।
জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের এবারের শ্লোগানটি যথার্থই হয়েছে বলতে হবে। খাদ্যের কথা ভাবলে, পুষ্টির কথা ভাবার সময় থাকেনা অনেকের। অর্থাৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে বিরাট অংশ স্বল্প, নি¤œ ও সীমিত আয়ের জীবন কাটাচ্ছে, তাদের পক্ষে খাদ্যের বাইরে পুষ্টি নিয়ে ভাবনার ফুরসত থাকে না। অপরদিকে বাজারের যতোগুলো পুষ্টিকর খাবার রয়েছে, তার মধ্যে বেশির ভাগই ভেজাল কিংবা বিষাক্ত ক্যামিকেল মেশানো। এই খাদ্যে শরীরের পুষ্টি বাড়বেনা, বরং জীবন বিপন্ন হবে।
তাছাড়া, শিশু ও মায়েদের পুষ্টির যোগান দেয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। আর এইসব ক্ষেত্রে সচেতনতার পাশাপাশি দরকার দরিদ্র পরিবারগুলোর আর্থিক সামর্থ্য বাড়ানো।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT